বুধবার ২ শ্রাবণ, ১৪২৬ ১৭ জুলাই, ২০১৯ বুধবার

আজ বঙ্গভবনে যাচ্ছে ইসি

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষণগণনা শুরু হয়ে গেছে। সময় থাকছে আগামী ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। এখন অপেক্ষা তফসিল ঘোষণা থেকে ভোটের অনুষ্ঠানিকতার। এ নিয়েও আলোচনা হয়ে গেছে। বাকি ছিল রাষ্ট্রপ্রধানকে ভোটের তারিখ ও নির্বাচনের সমাগ্রিক প্রস্তুতি জানানোর। তা শেষ করতে আজ বঙ্গভবনে যাচ্ছে পুরো নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আজ ভোটের আদ্যোপান্ত জানাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) খান মো. নুরুল হুদা। তার সঙ্গে থাকছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, ব্রি. জে. (অব.) শাহাদৎ হোসেন চৌধুরী। ইসি সচিব হেলালুদ্দিন আহমদেরও বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সাক্ষাতের সময় বিকাল ৪টা।

এই বৈঠকে থাকছে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (সংশোধিত আরপিও) অধ্যাদেশ আকারে জারির ইস্যুটি। কমিশন আশা করছে, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনার পর এটি আজ বা কালের মধ্যে অধ্যাদেশ আকারে জারি হতে পারে। গত সোমবার সংশোধিত আরপিও অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কমিশন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের সিদ্ধান্ত নেয়। একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের জন্য ১৮ ও ২০ ডিসেম্বর প্রাথমিক তারিখ চিন্তা করা হচ্ছে। এ দুই তারিখে ভোট হলে তফসিল ৪ ও ৬ নভেম্বরের মধ্যে ঘোষণার সম্ভাবনা বেশি।

কমিশন সচিব হেলালুদ্দিন বলেন, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সিইসিসহ নির্বাচন কমিশনারদের বৈঠকের পর নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করা হবে। মনোনয়ন দাখিল, বাছাই, প্রত্যাহারের শেষ সময় এবং প্রতীক বরাদ্দ শেষে প্রচারের পর্যাপ্ত সময় দিয়ে তফসিল ঘোষণা থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত ৪০-৪৫ দিন ব্যবধান রাখা হয়ে থাকে। এর আগে নবম সংসদ নির্বাচনে ৪৭ দিন সময় নিয়ে ভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। দশম নির্বাচনে ৪২ দিন সময় নিয়ে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল।

এর আগে ২৭ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণের জন্য একটা নীতিগত সিদ্ধান্ত ছিল ইসির। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং জোট-মহাজোট ঘোষণায় ভোটের সময়সূচি এগিয়ে আসে। এদিকে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ইস্যুতে সংলাপ আয়োজন ইসির সর্বশেষ তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি আরেকটু পিছিয়ে যায় কিনা এ নিয়েও রয়েছে আলোচনা।

এর আগে দশম সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তৎকালীন কাজী রকিব কমিশন। পরে ২৫ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।

কর্মকর্তারা বলেন, সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগামী ১১-১৮ ডিসেম্বর এই পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও এখন ২৯ নভেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বরের মধ্যে তা শেষ করতে আদেশ জারি করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। আর আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে সব পরীক্ষা শেষ করার জন্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে ইসি।

ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নভেম্বরের শুরুতে তফসিল ঘোষণার জন্য মনোনয়ন দাখিলসহ সংশ্লিষ্ট ফরম-প্যাকেটসহ প্রয়োজনীয় দ্রব্য মাঠ পর্যায়ে পাঠানো হবে। নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত ম্যানুয়েলও ৫ নভেম্বরের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্যানেল প্রস্তুত করে ৮ নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে পাঠানোর জন্য মাঠ কর্মকর্তাদের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

আগামী ৩ নভেম্বর শনিবার বিকালে বসবে কমিশনের সভা। পর দিন আরেকটি সভা বসার কথা রয়েছে। ওই দিনই তফসিল ঘোষণা ও সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে পারেন সিইসি। ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে।

রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়ে ইসির ভূমিকা নিয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সংলাপে রাজনৈতিক সমঝোতা যা হবে, আমরা সেটি আইনের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ অ্যাকোমোডেট করার চেষ্টা করব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যদিও ১০ শতাংশ ভোট কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহারের প্রস্তুতি ইসির রয়েছে। রাজনৈতিক সমঝোতা হলে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে রাজি। এ কমিশনার জানান, ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় কমিশন সভায় নির্বাচনের তফসিল নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা নেই।

আরেক নির্বাচন কমিশনার ব্রি. জে. (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, ৩ ও ৪ নভেম্বর কমিশন সভা হবে। তবে তফসিল কবে হবে তা এখনই বলতে পারছি না।

তবে ইসির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, আগামী সপ্তাহেই তফসিল ঘোষণা করার প্রস্তুতি শেষ করা হচ্ছে। কমিশন সভায় তফসিল অনুমোদন করার দিনই তা ঘোষণা করা হবে। এর আগে রাজনৈতিক সমঝোতা হলে তফসিল ঘোষণা পেছাতে পারে। আর তফসিল ঘোষণার পর সমঝোতা হলে ভোটের তারিখে পরিবর্তন আনা হতে পারে। এ সময় তিনি ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনের উদাহরণ টেনে বলেন, ওই সময়ে একাধিকবার ভোটের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, সংবিধান অনুযায়ী সংসদের পাঁচ বছরের মেয়াদ পূরণের আগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা। সেই হিসাবে ৩০ অক্টোবর থেকে ৯০ দিন গণনা শুরু হয়েছে। কারণ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত দশম সংসদের প্রথম বৈঠক বসেছিল ২৯ জানুয়ারি। যদিও কমিশন বরাবরই বলে আসছে ৩০ অক্টোবর থেকে নির্বাচনের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। বিএনপি বর্জনের মধ্যে ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে জয়লাভ করে।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: জাতীয়

Leave A Reply

Your email address will not be published.