শনিবার ৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ ১৭ নভেম্বর, ২০১৮ শনিবার

সড়কে নৈরাজ্যের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

বিষেরবাঁশী ডটকম:  চলমান পরিবহন ধর্মঘটে পরিবহন শ্রমিকদের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ফের সড়কে নেমেছে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা।

সোমবার সকাল ১০ টা থেকে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদী ফেস্টুনসহ নারায়ণগঞ্জ শহীদ মিনারে অবস্থান নেয়। অবস্থান শেষে মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের হেনস্তা ও মৌলভী বাজারে অ্যাম্বুলেন্স আটকিয়ে শিশু হত্যার প্রতিবাদে তারা চাষাড়া চত্ত্বরে মানববন্ধন করে।

এসময় শিক্ষার্থীদের হাতে দেখা যায় ‘ভেজা বেড়াল গোফের ফাঁকে হা হা করে হাসছে বেশ। পোড়া মবিলের কলঙ্কে লজ্জিত আজ বাংলাদেশ। বোনের শরীরে কালি কেন? জনগণকে জিম্মি কেন? শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাস ভাংচুর কেন? অ্যাম্বুলেন্সে আটক শিশু হত্যা কেন?’ সম্বলিত ফেস্টুন।

শিক্ষার্থীরা আগামীকাল সকালে ফের শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারক লিপি জমা দিবেন বলে ঘোষণা দেন মানববন্ধন থেকে।

Image may contain: 2 people, people standing and outdoor

মানববন্ধনকালে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘নিজেদের ক্ষমতা দেখানোর জন্য যে ধর্মঘট ডাকা হলো এবং এ ধর্মঘটে বর্ববরতার মধ্যে যে ক্ষয়ক্ষতি হলো তার দায়ভার কে নেবে? কোন শ্রমিক নেতা নেবে? কোন পরিবহণ মালিক নেবে? আমরা এর জবাব চাই। এ ধর্মঘটের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের আগে তারা তাদের ক্ষমতার প্রদর্শন করছে। তারা দেখাতে চাচ্ছে, তারা চাইলেই সরকারকে, দেশকে জিম্ম করতে পারে। গতকাল পরিবহন শ্রমিক ধর্মঘটে আমরা দেখলাম, কিভাবে তারা সবার সাথে বর্ববর আচরণ করলো। শিক্ষার্থীরা কলেজে, কোচিং এ যেতে পারছে না। কিভাবে নারায়ণগঞ্জ মহিলা কলেজের ছাত্রীদের গায়ে কালি মেখে দিল। তারা যখন কলেজ বাস নিয়ে যাচ্ছিল তখন তাদের বাস আটকে দিল। বাস চালককে হেনস্থা করা হলো। মেয়েরা জবাব দিতে চাইলে তাদের উপর চড়াও হলো। কলেজ বাসের কাচ ভেঙ্গে তার মধ্য দিয়ে পোড়া মবিল ছুড়ে মেরে তাদের হেনস্তা করলো। মৌলভীবাজারে অ্যাম্বুলেন্স আটকে যে শিশুটিকে হত্যা করা হলো, এর দায় কে নেবে? আমরা এর বিচার চাই। প্রশাসন চাইলেই তাদের চিহ্নিত করে সুষ্ঠ বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে পারে।

এ সময় শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, ‘আন্দোলনের পর যে আইন করা হয়েছে তা পরিবহন শ্রমিকদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু যে পরিবহন মালিকরা ফিটনেসবিহীন গাড়ি তাদের দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কেন কোনো পদক্ষেপ গ্রহন করা হয় না। শ্রমিক নেতা পলাশ বলেছেন শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মঘট পালন করছে। এই যদি হয় শান্তিপূর্ণ ধর্মঘট, এই যদি হয় শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ তাহলে এ সব করলো কারা? আমরা দাবি করছি যারা এ ঘৃণ্য কাজ করেছে তাদের বিচার করা হোক।’

মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি শহীদ মিনার থেকে নগরীর কালিবাজার এলাকাঘুরে প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: নারায়ণগঞ্জের খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.