শনিবার ৫ মাঘ, ১৪২৬ ১৮ জানুয়ারি, ২০২০ শনিবার

ধর্ষণের অভিযোগে আটক আসামীর হাজতখানায় মৃত্যু

বিশেরবাঁশী ডেস্ক: রাজধানীর রূপনগর থানা হাজতে কাওসার (১৯) নামের একজন বন্দী ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আটক কাওসার একটি ধর্ষণ মামলার আসমি ছিলেন। শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবিকৃত আত্মহত্যা করা ওই যুবকের পরিবারের পক্ষ থেকে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাকে পরিকল্পিতভাবে একটি চক্র ধর্ষন মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে কিনা-এ ব্যাপারে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।  রূপনগর থানার ওসি শাহ মো. শাহ আলম বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে ধর্ষণের অভিযোগে এক তরুণীর দায়ের করা মামলায় কাওসারকে গ্রেফতার করে থানা হাজতে রাখা হয়েছিল। শুক্রবার সকালে কাওসার নিজের পরনের শার্ট দিয়ে হাজতের লোহার দরজার সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।

রূপনগর থানার ওসি শাহ আলম জানান, হাজত খানায় লোহার দরজার সঙ্গে কাওসার ফাঁস দিয়েছেন। তবে দাঁড়ানো অবস্থায় ফাঁস দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দাঁড়িয়ে দরজার গ্রিলের সঙ্গে নিজের শার্ট দিয়ে বেঁধে পা উঁচু করে ঝুলে পড়লে তার গলায় ফাঁস লেগে যায়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে অপমৃত্যু মামলা করেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কাওসারের পরিবারের কোনো সদস্য যোগাযোগ করেনি। পুলিশের পক্ষ থেকে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ জানায়, কাওসার পল্লবীতে বেনারশি পল্লীতে কারচুপি’র কাজ করেন। ওই তরুনী স্থানীয় একটি গার্মেন্টেসের শ্রমিক। বুধবার রাতে রূপনগরের দুয়ারীপাড়া এলাকার একটি বাড়িতে কাওসার ও তরুনী রাত যাপন করেন। অভিযোগ রয়েছে কাওসার খাবারের সঙ্গে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে দেন। ওই খাবার খেয়ে তরুনী ঘুমিয়ে পড়েন। ঘুমের মধ্যে কাওসার ধর্ষণ করেন। বৃহস্পতিবার সকালে ঘুমে থেকে উঠে তরুনী বিষয়টি টের পেলে তিনি চিৎকার করেন। পরে আশেপাশের লোকজন বিষয়টি বুঝতে পেরে কাওসারকে আটকে রেখে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেন। সেখান থেকে খবর পেয়ে থানা পুলিশ গিয়ে কাওসারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। ধর্ষণের শিকার ওই নারীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়েছে। ওই তরুণী বাদী হয়ে রূপনগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা করেন। জানা গেছে, মৃত কাওসারের বাবার নাম মৃত মো. মজিবুর রহমান। গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশালের সাকুনারায়।

বিশেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.