মঙ্গলবার ৪ পৌষ, ১৪২৫ ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৮ মঙ্গলবার

না.গঞ্জে দুটি আসনে জাপা-আ.লীগ মুখোমুখি

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: দিন যতো যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উত্তেজনা ততোই বাড়ছে। জেলায় বিএনপি নেতাকর্মীরা মামলার মারপ্যাচে পড়ে ব্যাকফুটে থাকলেও ফ্রন্টলাইনে আছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ ও বিরোধী দল জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা। এই দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সক্রিয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) ও নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) এই দুই আসনে। যদিও জাতীয় পার্টি আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে মহাজোটের অংশীদার। কিন্তু এই দুই আসনে আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। একই দল থেকে একাধিক নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশায় চালিয়ে যাচ্ছেন জোর প্রচারণা।

বিগত সময়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ ও নারায়ণগঞ্জ-৩ এ মহাজোট সরকার জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিয়ে আসলেও এবার এই দুই আসনে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের জোর দাবি এবার লাঙলকে কোন ছাড় নয়। আওয়ামীলীগের প্রতিটি নেতাকর্মীদের মুখে একই সুর, নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনেই নৌকা চাই। এই দুই আসনে নৌকার দাবিতে বিভিন্ন সময়ে সভা সমাবেশ করতেও দেখা গেছে আওয়ামীলীগের সিনিয়র থেকে তৃণমূল নেতাকর্মীদের। এদিকে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের এই বিপরীত সুরে তটস্থ দুই আসনের জাতীয় পার্টির দুই সাংসদ। নৌকার আওয়াজে অনেকটা জাতীয় পার্টির দুই সাংসদকে কেনাঠাসা করার চেষ্টায় তারাও নেমেছে জোর প্রচারণায়।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বর্তমান সাংসদ এ কে এম সেলিম ওসমান। প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর উপ নির্বাচনে লাঙল প্রতীকে জয়ী হন তিনি। মহাজোট সরকার বিগত সময়ে এই আসনে জাতীয় পার্টির জন্য ছাড় দিয়েছে। তবে এবার এই আসন থেকে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের লাইন লেগে গেছে।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামীলীগের জাতীয় পারিষদের সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু, জাতীয় শ্রমিকলীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো: বাদল, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আব্দুল কাদির, আরজু রহমান ভূইয়া। একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও সকলেরই এক দাবি, এই আসনে নৌকার মাঝি চাই। এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামীলীগের একাধিক নেতা বলেন, বিগত সময়ে সদর-বন্দরে আওয়ামীলীগের সাংসদ না থাকায় এই আসনের নেতাকর্মীরা অনেক কিছু থেকেই বঞ্চিত হয়েছে। এবার আর তা হতে দেয়া হবে না। এই আসনে আমরা নৌকা চাই। প্রধানমন্ত্রী এই আসনে নৌকায় যাকেই মনোনয়ন দেবেন তাঁর পক্ষেই কাজ করবো। তবে এবার কোনভাবেই লাঙল নয়।
এদিকে এই আসনে জাতীয় পার্টির তিনজন মনোনয়ন প্রত্যাশী। একজন খোদ বর্তমান সাংসদ সেলিম ওসমান ও সাংসদের বড় ভাবী পারভীন ওসমান। এই দুইজনের কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। তারা দুজনই মনোনয়ন প্রত্যাশী। ফলে আওয়ামীলীগকে মোকাবেলার পাশাপাশি নিজেদের মধ্যেও মনোনয়ন দৌড়ের একটা প্রতিযোগিতা চলছে।

অন্যদিকে এই আসনে বতর্মান এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার সাথে আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী জাতীয় মহিলা পার্টির সাধারণ সম্পাদক অনন্যা হোসাইন মৌসুমী। তবে একাধিক নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশীও রয়েছে। তারা এই আসনে নৌকা প্রতীকের দাবি জানিয়েছেন। জেলা ও উপজেলা আওয়ামীলীগসহ সহযোগি সংগঠনের নেতারা এ আসনে নৌকা প্রতীকের দাবিতে সভা সমাবেশ করেছেন। তাদের কথা, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লাঙ্গল চাই না, নৌকা চাই। আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক সাংসদ আবদুল্লা আল কায়সার, উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান কালাম, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদের (স্বাচিপ) সাংগঠনিক সম্পাদক আবু জাফর চৌধুরী বিরু। নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নৌকার দাবিতে একজোট। তারা বলেন, এ আসনে এ বছরে দলের নেতা কর্মীরা লাঙ্গল চায় না। সবাই লাঙ্গলকে ঠেকানোর অভিন্ন দাবি করে নৌকা দাবি করছে। এবার নির্বাচনে নৌকাকে ফিরে পাওয়ার জন্য আমরা মাঠে নেমে কাজ করছি।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: নারায়ণগঞ্জের খবর,রাজনীতি

Leave A Reply

Your email address will not be published.