বুধবার ৫ আষাঢ়, ১৪২৬ ১৯ জুন, ২০১৯ বুধবার

ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নেওয়ার পর ওরা ৫ জন নিখোঁজ

  • সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজদের বাবা মায়ের আহাজারি

বিশেরবাঁশী ডেস্ক: হজ্জ্ব পালন শেষে দেশে ফিরে আসা মাকে আনতে হযরত শাহজালাল বিমান বন্দরে গিয়েছিলেন সহোদর শিক্ষনবিশ আইনজীবি শাফিউল আলম ও বেসরকারী কোম্পানীতে চাকরিরত মনিরুল আলম। বিমান থেকে নামার পর সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে মায়ের লাগেজ গাড়িতে তুলছেন ওই সহোদর। হঠাৎ করেই এক দল লোক এসে শাফিউল আলমের নাম পরিচয় জানতে চায়। তাদের প্রশ্নের জবাবে নিজের নাম পরিচয় দেওয়ার পরই সাফিউল আলম এবং তার ভাই মনিরুল আলম এবং তাদের এক বন্ধু আবুল হায়াতসহ ৩ জনকে ঝাপটে ধরে গাড়িতে তোলেন ডিবি পরিচয় দেয়া ওই ব্যক্তিরা। কিছু বলার আগেই দ্রুত সময়ের মধ্যে গাড়িটি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এরপর থেকে খোঁজ নেই ওই তিন যুবকের। শুধু ওই ৩ যুবকই নয় তাদের সঙ্গে নিয়ে ডিবি পরিচয়ে যাত্রাবাড়ীর মিরহাজারীবাগ এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী শফিউল্লাহ এবং ডগাইলের একটি মাদ্রাসার নবম শ্রেণীর ছাত্র মোশারফ হোসেইন মায়েজ নামে দুই ছাত্রকেও তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার ৪ দিন পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তাদের খোঁজ মেলেনি। ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া ৫ জনের পরিবারের স্বজনরা গতকাল সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন। তারা বেঁচে আছেন নাকি তাদের গুম করা হয়েছে-এ খবরও জানতে পারছেন না। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স শাফিউল আলম ও মনিরুল আলমের মা রমিছা খানম, নবম শ্রেনীর ছাত্র মোশারেফ হোসাইন মায়োজের মা, বাবা ও বোন এবং ঢাকা কলেজের ছাত্র শফিউল্লাহর ছোট ভাই নাছিরুল্লাহ।

সংবাদ সম্মেলনে রমিছা খানম বলেন, হজ্ব পালন শেষে ১২ সেপ্টেম্বর রাত ৮ টায় হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে নামেন। তাকে নেওয়ার জন্য বিমানবন্দরে গাড়ি নিয়ে এসেছিলেন তার ছেলে শাফিউল আলম, মনিরুল ইসলাম এবং তাদের বন্ধু আবুল হায়াত। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ছেলেরা তার ব্যাগ, ল্যাগেজ গাড়িতে তুলছিলেন। তিনি হজ্ব শেষে তিনি ক্লান্ত ও অসুস্থ ছিলেন। গাড়িতে মালপত্র তোলা শেষ হওয়ার মূুহুর্তে কয়েজজন লোক এসে তার ছেলে শাফিউল আলমের কাছে জানতে চান তার বাড়ি টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানার বাঁধাই গ্রামে কিনা। জবাবে হ্যাঁ বলার পরই একজন শাফিউলকে জাপটে ধরেন। পরপর পাশে থাকা আরেক ছেলে মনিরুল ইসলাম এবং তাদের বন্ধু আবুল হায়তকে অন্যরা ধরে ফেলেন। তিনি গাড়িতে থেকে চিৎকার করে জানতে চান কেন তাদের ছেলেদের ধরা হয়েছে। তাদের কি অপরাধ। এ সময় পাশে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন ছিলো। তারা এগিয়ে আসলে ওই ব্যক্তিরা নিজেদের ডিবির লোক পরিচয় দিয়ে আইডি কার্ড দেখায়। এরপর পুলিশ চলে যায়। এরপরই ৩ জনকে একাটি গাড়িতে তুলে দ্রুত নিয়ে চলে যান। পরে তিনি একাই গাড়িতে করে বাড়িতে ফেরেন।

তিনি আরো বলেন, রাতেই তার ছেলে শাফিউল আলমকে সঙ্গে নিয়ে ডিবির লোকজন যাত্রাবাড়ীতে একটি বাসায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী শফিউল্লাহ এবং নবম শ্রেনীর ছাত্র মোশারফ হোসেন মা’য়াজকেও তুলে নিয়ে যান। এরপর থেকে ৫ জনের কোন খোঁজ মিলছে না। তুলে নিয়ে যাওয়ার পরদিন নিখোঁজ দুই সন্তানসহ ৫ জনের খোজে তারা ডিবি কার্যালয়, থানা পুলিশের বিভিন্ন কার্যালয়ে গিয়েছেন। কিন্তু ডিবির লোকজন কেউ স্বীকার করছে না।  রমিজা খানম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তার দুই ছেলে কোন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। ছেলে শাফিউল আলম গ্রামের বাড়িতে স্কুলে পড়াশুনা শেষ করে ঢাকায় বেসরকারি বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজী বিষয়ে অনার্স মাস্টার্স শেষ করেছেন। এরপর একটি ল’ কলেজ থেকে আইন বিষয়ে পড়াশুনা শেষ করে শিক্ষনবিশ আইনজীবি হিসাবে কাজ করছিলেন। তার আরেক ছেলে মনিরুল আলমও টাঙ্গাইলের স্থানীয় কলেজ থেকে পড়াশুনা শেষ করে উত্তরার আবদুল্লাহপুরের বেসরকারি আইডিবি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশুনা করেছেন। এরপর একটি বেসরকারী কোম্পানীতে চাকরি নেন। যাত্রাবাড়ি এলাকায় একটি মেসে তারা দুই ভাই থাকতেন। তাদের বন্ধু আবুল হায়াতও একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মায়াজের বাবা সাইদুল ইসলাম বলেন, তার ছেলে মায়াজ ডেমরার ডগাইর ফাসিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণীর ছাত্র। পরিবারের সাথে ডগাইর পশ্চিমপাড়ার বাসায় থাকেন। ঘটনার দিন সে বাসা থেকে বের হয়ে কি প্রয়োজনে যাত্রাবাড়ির মিরহাজারীবাগ ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী শফিউল্লাহর রুমে যান। পরে তারা খবর পান ডিবির লোকজন শফিউল্লাহর সাথে তার ছেলেকেও নিয়ে গেছে। এরপর তারা যাত্রাবাড়ি থানায় সাধারণ ডায়েরী করতে গিয়েছেন । কিন্তু থানা পুলিশ জিডি নিচ্ছে না।
শফিউল্লাহর ভাই নাছিরুল্লাহ জানান, তার ভাই শফিউল্লাহ ঢাকা কলেজের রাষ্টবিজ্ঞান বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র। নিখোঁজের পর থেকে তার ভাইয়ের রুমটি কে বা কারা তালা মেরে রেখেছেন। ভাইয়ের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছেন। কিন্তু তার ভাইকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে পুলিশ কিছুই বলছে না।

বিশেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.