মঙ্গলবার ২৯ কার্তিক, ১৪২৫ ১৩ নভেম্বর, ২০১৮ মঙ্গলবার

বদ্ধ ঘরে গৃহবধূ ডলি রানীকে গলা কেটে হত্যা করল কারা

  • দশ মাসেও কুল কিনারা হয়নি

বিশেরবাঁশী ডেস্ক: দশ মাসেও মগবাজারে গৃহবধূ ডলি রাণী বনিককে গলা কেটে হত্যার রহস্য কুল কিনারা হয়নি। কি কারণে তিনি হত্যার শিকার হয়েছেন বা কারা তাকে হত্যা করেছে- সে বিষয়ে কোন ক্লু উদ্ধার করতে পারেনি ঘটনার তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।  গত বছরের ৮ নভেম্বর মগবাজারের মধুবাগের উদ্দীপন গলির ১০/ই/৮ নম্বর চারতলা বাড়ির চতুর্থ তলার পূর্বপাশের দুই কক্ষের একটি ফ্ল্যাটে নৃশংসভাবে খুন হন ডলি রাণী বণিক (৪৬)। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী সজল বণিক বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি কয়েকদিন থানা পুলিশ তদন্ত করে অধিকতর তদন্তের জন্য ঢাকা মহানগর দক্ষিণ গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।  মামলার তদন্ত সংশ্লিস্ট কর্মকর্তারা বলেন, নিহতের স্বামী সজল বণিক ২০০৭ সাল থেকে মালয়েশিয়া প্রবাসী। ডলির ভাই অশোক কুমার বণিক ৬ বছর আগে তার কাছ থেকে আট লাখ টাকা ধার নেন। এই টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে অনেকদিন থেকে বিরোধ ছিল। কয়েকবার ঝগড়াঝাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল।

সূত্র জানায়, পুলিশ যখন ডলির লাশ উদ্ধার করে তখন মূল দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। বাড়ির আশপাশে থাকা অনেক সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করেছেপুলিশ। তাতে সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের সম্পর্কে কোন তথ্য মেলেনি। ডলি রানীর ফ্ল্যাটে পিছন দিক থেকে যে কেউ প্রবেশ করতে পারলেও, তিনি বের হতে গেলে সেখান থেকে লাফ দিতে হবে। বাড়ির পেছনে যত্রতত্র ইট, কাঁচসহ নানা ধরনের ময়লা ছিল। সেখানে লাফিয়ে পড়ে পালানোও সম্ভব নয় বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ধারণা করছে। হত্যা রহস্যের জট খুলতে নিহতের ভাই অশোক বণিক ওরফে বাবু বণিককে গ্রেপ্তার করেছিল র‌্যাব। অশোক বণিক নরসিংদী জেলার মাধবদী থানাধীন ঘোড়াদিয়া এলাকায় প্রতারক হিসাবে পরিচিত। পুলিশের পক্ষ থেকে ধারণা করা হয়েছিল অশোক বনিক হয়তো তাকে হত্যা করে থাকতে পারে। কিন্তু, এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলে র‌্যাবের কাছে দাবি করেন। পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

সূত্র জানায়, ঘটনার সময় নিহতের স্বামী সজল বণিক মালয়েশিয়া ছিলেন। বড় ছেলে জুয়েল বণিক নর্থ সাউথ ইউনিভারসির্টিতে ক্লাসে ছিলেন। আর ছোট ছেলে দীপ্ত বণিক বাইরে ছিলেন। একমাত্র মেয়ে ঝুমা বণিক ভারত প্রবাসী। ওই দিন বাসায় ডলি ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। লাশ উদ্ধারকালে ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ থাকা রীতিমতো রহস্যের জন্ম দিয়েছে। ঘটনার পর বাসা থেকে কোন মালামাল খোয়া যায়নি।  এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) জামিল হাসানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।  ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া শাখার উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, মামলাটি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘাতককে শনাক্ত করতে সিসি ক্যামেরা ফুটেজসহ অন্যান্য আলামত যাচাই-বাছাই ও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বিশেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: অপরাধ ও দুর্নীতি

Leave A Reply

Your email address will not be published.