মঙ্গলবার ১০ আশ্বিন, ১৪২৫ ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ মঙ্গলবার

আলিফ হত্যাকান্ডের ময়নাতদন্তে শ্বাসরোধে হত্যার প্রমান

বিশেরবাঁশী ডেস্ক: শ্বাসরোধেই হত্যা করা হয়েছে শিহাবুদ্দীন আলিফকে। মঙ্গলবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আলিফের পরিবারের হাতে আসা ময়না তদন্তের রিপোর্টে এসেছে এই তথ্য। ময়না তদন্ত রিপোর্ট পরিবার ও প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অচিরেই এ মামলার প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার এস আই অজয় কুমার পাল। এরপূর্বে নারায়ণগঞ্জ শহরের জল্লারপাড় এলাকায় বসবাসকারী শিহাবউদ্দিন আলিফ নামের শিশুটিকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে ঘাতক অহিদ যে নিহত আলিফদের প্রতিবেশী ছিলো বলে জানা গেছে। ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফতাবুজ্জামানের আদালতে ঘাতক অহিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতেও রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দীতেও অহিদ আলিফকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করেছে।
ঘাতক অহিদ আদালতকে জানায়, সে পেশায় রাজমিস্ত্রি। তার অর্থের প্রয়োজন ছিল বিধায় সে আলিফকে অপহরণ করেছিল। কিন্তু পরে জানাজানি হওয়ার ভয়ে সে আলিফকে হত্যা করে লাশ বস্তায় ভরে রেখে পালিয়ে গিয়েছিল। হত্যার পর কমলাপুর থেকে ময়মনসিংহ তারপর চট্টগ্রাম ও সর্বশেষ আখাওড়া রেলস্টেশনে অবস্থান নেয়। এর মধ্যে পলাতক অবস্থায়ও আলিফের পরিবারের কাছে ফোন করে টাকা চায় অহিদ। সে তখন ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। আলিফ হত্যাকান্ডের ময়নাতদন্তে শ্বাসরোধে হত্যার প্রমান

উল্লেখ্য গত ১৬ আগষ্ট বিকেলে শহরের জল্লারপাড় আমহাট্টা এলাকার নান্নু মিয়ার বাড়ির অহিদ ও সমরাট ওরফে রিপন নামের দুইজনের ভাড়া ঘর থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় শিশু আলিফের লাশটি উদ্ধার করা হয়। আগের দিন দেশে ফিরে আসা নিহতের বাবা সৌদি প্রবাসী আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে পরদিন ১৭ আগস্ট সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে প্রতিবেশী অহিদ ও রিপন ওরফে সম্রাটকে আসামী করা হয়েছিল। এর মধ্যে রিপন লাশ উদ্ধারের রাতেই গ্রেফতারের পরে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ১৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকেই নিখোঁজ ছিল আলিফ। চারপাশে সকল বাড়িতে খোঁজ নেওয়ার পরেও যখন তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিলো না তখনই দুপুরের পর থেকে পাশের ঘরের ভাড়াটিয়া পিংকীর ছোট ছেলে সাকিব জানায়, সকালে একসাথে সাকিব ও আশপাশের কয়েকটি ঘরের আরও কিছু বাচ্চাদের সাথে খেলছিলো আলিফ। এমন সময় ঐ ঘরের ভাড়াটিয়া অহিদ এসে চকলেট দেয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে গেছে তাকে।

১৬আগস্ট বিকেলে আলিফের লাশ উদ্ধার করা হয়। আলিফকে হত্যার পর হাত পা বেঁধে লাশ ভরে রাখা হয় বস্তার ভেতরে। শুধু বস্তাবন্দী নয়, প্রথমে পলিথিন ব্যাগে ভরে লাশটিকে একটি বস্তায় ঢুকানে হয়। সেই বস্তার উপরে দেয়া ছিলো কংক্রিটের টুকরো।এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, অহিদের বাড়ি নোয়াখালী বলে সে এলাকাবাসীর কাছে পরিচয় দিতো। অহিদ বা রিপনের কাউকেই এর আগে এই এলাকায় দেখেননি তারা। গত দেড় মাস আগে অহিদ প্রথমে এসে খোকনের ভাড়া বাসার একটি রুমে থাকতে শুরু করেন। কিছুদিন পর রিপনকেও নিয়ে আসেন। তাদের বাড়িওয়ালা খোকনের সুপারিশে ঠিকাদার নান্নুর কাছে রাজমিস্ত্রীর সহকারী হিসেবে কাজও শুরু করে। কিন্তু সে কাজে খুব বেশী উদাসীন হওয়ায় নান্নু তাকে বেশীদিন কাজে রাখেনি। এরপর থেকে সে কী করতো তা এলাকাবাসীর কারও কাছে সঠিক তথ্য নেই।

বিশেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: অপরাধ ও দুর্নীতি

Leave A Reply

Your email address will not be published.