রবিবার ৮ আশ্বিন, ১৪২৫ ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রবিবার

দক্ষিনখানে তুই বলায় কিশোর মেহেদীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে প্রতিপক্ষ গ্রুপ

  • প্রধান আসামী সাইফসহ ৮ জন গ্রেফতার

বিশেরবাঁশী ডেস্ক: তুই বলার অপরাধে কিশোর মেহেদীকে হত্যা করে প্রতিপক্ষ। হত্যার দায়ে দক্ষিনখান চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকার প্রতিপক্ষ গ্রুপের ৭ কিশোরকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গত শনিবার মেহেদী হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাইফসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া বাকী ৭ জন হচ্ছে মনির, আরাফাত, সাইফুল, মেহেরাব, আপেল, সিফাত ও সোহেল। ডিবির একটি বিশেষ দল রাজধানীর দক্ষিণখান ও উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের সময় হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাইফের কাছ থেকে একটি সুইচ গিয়ার ছুরি উদ্ধার করা হয়। মূলত এলাকার আদিপত্য বিস্তারের জের এবং ছোট-বড় নির্ধারণ নিয়ে দ্বন্ধে হত্যা প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১ টায় ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সন্মেলনে ঘটনার আদ্যোপান্ত বর্নণা করেন, ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. মাসুদুর রহমান।

মাসুদুর রহমান আরও বলেন, কোরবানীর ঈদের প্রায় ২ সপ্তা আগে ‘আরাফাত’ গ্রুপের সদস্য কাউসার ওরফে কডা ‘শান্ত’ গ্রুপের হুন্ডা মেহেদীকে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করে। বয়সে কিছুটা বড় হওয়ায় মেহেদী এতে মাইন্ড করে এবং কাউসার ওরফে কডাকে শায়েস্তা করার জন্য নিজেদের গ্রুপের মধ্যে আলাপ আলোচনা করে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সুযোগ পেয়ে গত ১৮ আগষ্ট মেহেদী তার সঙ্গীদের নিয়ে কাউসার ওরফে কডাকে মারধর করে। এতে আরাফাত গ্রুপের আরেক সদস্য তৌকির কডাকে মারধরের কারনে মেহেদীকে দেখে নেয়ার হুমকী দেয়। এক পর্যায়ে ৩১ আগষ্ট শান্ত গ্রুপের মেহেদী এবং নাজমুল ‘আরাফাত’ গ্রুপের তৌকিরের বাঁ হাতের কবজি ও বুকের বাঁ পাশে ছুরিকাঘাত করে। এই ঘটনা জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে আরাফাত গ্রুপের সদস্যরা। তারা ৩১ আগস্টের পর থেকেই মেহেদীর উপর প্রতিশোধ নেয়ার জন্য সুযোগ খুজতে থাকে।

একই দিন বিকেলে কেসি কনভেনশন হলে একটি জনসভায় ‘শান্ত’ গ্রুপের সদস্যরা মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ‘আরাফাত’ গ্রুপের সদস্যরা মিছিলে হামলা চালায়। হামলায় মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লে ‘আরাফাত’ গ্রুপের সানি ও সোহেল মেহেদীকে জড়িয়ে ধরে। সাইফ ছুরি দিয়ে মেহেদীর বাঁ কানের নিচে আঘাত করে এবং অন্যরা লাঠি দিয়ে মারধর করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মেহেদীকে প্রথমে কেসি হাসপাতালে, পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিসি মাসুদুর রহমান আরো জানান, দক্ষিনখান চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় একাধিক কিশোর গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। এদের মধ্য জিম-জিয়াদ গ্রুপ, শান্ত গ্রুপ, আরাফাত গ্রুপ, কামাল গ্রুপ ও আনছার গ্রুপ অন্যতম। এরা কেউ কোনো কাজ করে না। কেউ নামকাওয়াস্তে লেখাপড়া করে। বাকীরা বেকার। এদের কাজ হচ্ছে এলাকায় চাঁদাবাজি, ইভ টিজিং, ছিনতাই, হত্যাকান্ডসহ নানা ধরনের অপরাধ করা। এসব নিয়ে আদিপত্য বিস্তারের জেরে এক গ্রুপ আরেক গ্রুপের সাথে প্রায়ই দ্বন্ধে জড়াতো।

বিশেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: অপরাধ ও দুর্নীতি

Leave A Reply

Your email address will not be published.