বৃহস্পতিবার ১ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ ১৫ নভেম্বর, ২০১৮ বৃহস্পতিবার

বিরোধী জোটের পাঁচ নেতাকে নিয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

বিশেরবাঁশী ডেস্ক: ড. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ড. কামাল হোসেন, কাদের সিদ্দিকী, আ স ম আবদুর রব ও মাহমুদুর রহমান মান্নাপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে বরাবরই ভিন্ন আমেজ লক্ষ করা যায়। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী কথার জাদুতে অতিথিদের যেমন হাসান, তেমনি হাসেন নিজেও। রবিবার (২ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলনেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। এদিন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারবিরোধী জোটের পাঁচ নেতাকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেছেন। তার মন্তব্যে উপস্থিতি অতিথিদের তিনি হাসিয়েছেন, হেসেছেন নিজেও। এই পাঁচ নেতা হলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট ড. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

সংবাদ সম্মেলনে সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দৌজা চৌধুরী বিএনপি থেকে বের হয়ে বিকল্পধারা নামে দল গঠন করলেন। এখন সেই দল স্বকল্পধারা হয়ে গেছে। একসময় তার বাবা কফিলউদ্দিন সাহেব ৫৬ সালে সোহরাওয়ার্দী সাহেবের ক্যাবিনেটে একসঙ্গে ছিলেন। আমার আব্বাও ছিলেন। তিনি একসময় আমাদের খুবই ঘনিষ্ঠ। স্বাধীনতার পরপর আপনার ডাক্তার প্রোগ্রাম টিভিতে হতো, এটা বঙ্গবন্ধু তাকে করতে বলেছিলেন। সেখান থেকে তিনি খুব ভালো জনপ্রিয়তা পান। পঁচাত্তরের পরবর্তী সময়ে তিনি বিএনপি করতে যান। খালেদা জিয়াও তো তাকে সম্মান দেননি। তাকে বঙ্গভবন থেকে বের করে রেললাইনেরও ওপর দৌড় দেখালেন। তার ভাগ্যে সেটাই জুটলো।’

ড. কামাল হোসেন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী আছেন, তিনি বলেছেন আদৌ নির্বাচন হবে কিনা? ড. কামাল হোসেন যে প্রশ্নটা করেছেন, সেখানে আমার বক্তব্য হচ্ছে, তিনি নিজে আদৌ নির্বাচন চান কিনা? ড. কামালের সঙ্গে যারা এক হয়েছেন, তারা আদৌ নির্বাচন চান কিনা? এখানেই আমার প্রশ্ন। কারণ বাংলাদেশে তো একটা শ্রেণি বসেই থাকে, তারা মনে করে কোনও অসাংবিধানিক, অনির্বাচিত কিছু যদি ক্ষমতা দখল করতে পারে, তাহলে তারা একটা পতাকা পেতে পারে। তাদের একটু গুরুত্ব বাড়ে। আনকনটেস্টের কথা যিনি বলছেন, তিনি তো আনকনটেস্টে জিতে এসেছিলেন। জাতির পিতা একটি সিট তার জন্য ছেড়ে দিয়েছেন। সেই আসনে তিনি নির্বাচন করলেন। সেখানে আর কেউ নমিনেশন পেপার সাবমিট করেননি। তিনি নিজেও আনকনটেস্টেড। সেই আনকনটেস্টেড এমপি, যিনি নিজেকে সংবিধান প্রণেতাও বলেন, এখন দেখি তিনি সেই সংবিধানও মানতে চান না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারপরও সাধুবাদ জানাই, তারা কয়েকজন—ড. কামাল হোসেন, বদরুদ্দৌজা, তারপর আমাদের মাহমুদুর রহমান মান্না, আ স ম আবদুর রব। তারপর কাদের সিদ্দিকীও বসতেছেন। তারা সবাই মিলে একটা জোট করছেন। এটা ভালো। কারণ বাংলাদেশে তো পার্টি হচ্ছে দুটি। একটি হচ্ছে আওয়ামী লীগ আরেকটি এন্টি অওয়ামী লীগ। তো আওয়ামী লীগবিরোধীদের তো একটা জায়গা লাগবে যাওয়ার। এজন্য তারা যে ঐক্য করছে, তাকে আমি সাধুবাদ জানাই। এই ঐক্যটা থাক। ভালো হোক। আমিও জিজ্ঞাসা করেছিলাম, রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত যে মিটিংটা হয়েছে নিশ্চয়ই ভালো খানাপিনা হয়েছে। মেনুটা কী ছিলো? এটা তো আপনারা কেউ লিখতে পারলেন না, বলতে পারলেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘‘একটা ঐক্য হচ্ছে ভালো। আর একটা বিষয় আপনারা জানেন যে, ড. কামাল হোসেনের পকেটে সবসময় টিকিট থাকে। আর তিনি যদি খুব গরম বক্তব্য দেন যে, ‘এখন থেকে সব কাজ বন্ধ’, তখন ধরে নেবেন যে তার প্লেন রেডি। বাক্সটা গাড়িতে। তিনি আমাদের সঙ্গে যখন ছিলেন আমরা দেখেছি তাকে।’’

কাদের সিদ্দিকী সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তিনিও আমাদের সঙ্গে ছিলেন। ৯৬ সালের পার্লামেন্টে হঠাৎ তার মাথায় কে কী ঢুকালো জানি না। এই মাকাল ফলটা তাকে কে দেখালো, আমরা জানি না। তিনি রিজাইন করে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে এলেন যে, আওয়ামী লীগের এমপিরা তাকে ভোট দেবেন। বিএনপির এমপিরা তাকে ভোট দেবেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন। সেই আশা নিয়ে পদত্যাগ করলেন। কিন্তু নির্বাচন করে আর জিতে আসতে পারলেন না।’ জাসদ একাংশের সভাপতি আ স ম রব সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন অনেকেই তাকে বলতেন, ‘অসময়ে নীরব, সময়ে সরব, তার নাম আসম রব’। অবশ্য তিনি ছাত্রলীগও করেছেন। তিনি এখন সরব হচ্ছেন খুবই ভালো কথা।’’

সরকারবিরোধী জোটের আরেক নেতা মাহমুদুর রহমান মান্নাকে নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মান্নাও আমাদের দলে ছিলো। সে ভালো লিখতো। তবে বেশিরভাগ সময়ই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে লিখতো। পরে আমাদের দলে যোগ দিলে আমাদের পক্ষে লিখতে তাকে বলা হয়। পক্ষে লিখতে বললে মান্না জুড়ে দেয় কান্না।’ উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৩০ ও ৩১ আগস্ট নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত চতুর্থ ‘বে অব বেঙ্গল ইনেশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশ’ (বিমসটেক) সম্মেলনে যোগ দিতে দুদিনের সরকারি সফরে নেপাল যান। শুক্রবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে দেশে ফেরেন তিনি।তার এই সফর নিয়ে রবিবার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

বিশেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: জাতীয়

Leave A Reply

Your email address will not be published.