শুক্রবার ৬ আশ্বিন, ১৪২৫ ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ শুক্রবার

সেফাত উল্লাহ মজুমদার সেফুদা আসলে একজন স্কিজোফ্রেনিয়ার রোগী

বিশেরবাঁশী ডেস্ক: সেফাত উল্লাহ মজুমদার সেফুদা আসলে একজন স্কিজোফ্রেনিয়ার রোগী । আমার ধারণা ছিল একজন বয়স্ক নিঃসঙ্গ মানুষ, হয়তো কিছুটা সেক্সুয়াল ডিপ্রাইভেশন ইত্যাদি থেকে এমন হয়ে গেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে সবগুলো ভিডিও লাইভ দেখে, পারিবারিকভাবে জেনে বুঝলাম আসলেও তিনি ভয়ানক মানসিক রোগী।  সেজান মাহমুদ সাহেবের লেখা থেকে স্কিজোফ্রেনিয়া রোগ সম্পর্কে একটা ধারণা পেলাম l

স্কিজোফ্রেনিয়া একটা মারাত্নক ধরণের মানসিক রোগ। পৃথিবীর একুশ-বাইশ মিলিয়ন (আরও বেশি হবে জনস্বাস্থ্য হিসাব মতে) মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। আমেরিকায় প্রতি বছর দুই লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়। আমরা বাংলায় যা বদ্ধ-উন্মাদ বলে চিহ্নিত করে তা-ই স্কিজোফ্রেনিয়ার একটি খারাপ ধরণের নাম। এই রোগে মানুষের চিন্তা, ব্যবহার এবং অনুভূতি আক্রান্ত হয়। হ্যালুসিনেশন দেখা- যা হতে পারে ভিজুয়াল বা অডিটরি (অর্থাৎ রোগী হয়তো দেখতে পান একটি সাপ তাঁর গায়ে জড়িয়ে আছে, বা বিখ্যাত কোন ব্যক্তি তাঁর সঙ্গি, কিম্বা গায়েবি কেউ তাঁর কাছে বার্তা নিয়ে আসে) ইত্যাদি।

এছাড়াও নানান রকমের চিন্তার বা ভাবনার বিভ্রম হতে পারে। যেমন কেউ নিজেকে খুব বিখ্যাত রাজনীতিবিদ ভাবে, কেউ বিখ্যাত অভিনেতা, কেউ ঈশ্বরের প্রতিনিধি ইত্যাদি।  এই রোগের চিকিৎসা সারা জীবন ধরে করতে হয়। ওষুধ, সাইকোথেরাপি, সামাজিক পরিবেশের পরিবর্তন ইত্যাদিও জরুরী উপাদান। খুব আগে থেকে চিকিৎসা দিলে এবং পরিবেশ দিলে ভাল ধরণের স্কিজোফ্রেনিয়ার রোগীরা স্বাভাবিক জীবনের কাছাকাছি চলে আসতে পারে।  স্কিজোফ্রেনিয়ার রোগীরা অনেকেই জিনিয়াস ধরেনরও হয়ে থাকেন। স্কিজোফ্রেনিয়ার কারণ এখনো পরিপূর্নভাবে জানা যায়নি। তবে বংশগত কারণই মুখ্য, এছাড়াও পরিবেশ, প্রতিকূলতা, এরসবের সম্মীলনে রোগের লক্ষণ কমবেশি হতে পারে।

সেফাতউল্লাহ সেফুদা একজন রোগী। এখন বলা যায় ক্লাসিক স্কিজোফ্রেনিয়ার রোগী। তিনি ডেলিউশনে ভোগেন, মনে করেন নিজেকে বড় নেতা, অভিনেতা, সেলিব্রেটি, অন্যদিকে তাঁর হ্যালুশিনেশন আছে; চিন্তার সাযুজ্য নাই। কিন্তু এই সাজুয্যহীনতার মধ্য দিয়ে তিনি কিন্তু এমন কিছু কথা বলে ফেলেছেন যা একজন সুস্থ মানুষ বলার সাহসও করবে না। তাঁর এখন দরকার যেমন ওষুধপত্রের চিকিৎসা , তেমনি পারিবারিক, সামাজিক সাপোর্ট। অথচ মানুষটি স্ত্রী, পুত্র থেকে আলাদা হয়ে নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করছেন।

এবার আসি আমাদের সাধারণ জনগণের মানসিকতা নিয়ে। মানসিক রোগ নিয়ে এমনিতেই আমাদের স্টিগমার শেষ নেই। একদল রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে তাঁর ভিডিওকে ভাইরাল করলো, একদল খুঁজে পেলো নতুন মুক্তির স্বাদ, স্বাধীনতা যা খুশি বলো এই ক্ষমতাসীনদের, অন্যদল ঠিক বন্ধ উন্মাদদের দেখে বাংলাদেশে মানুষেরা যেমন ঢিল ছুঁড়ে পিছনে তাড়া করতে থাকে, ঠিক যেন তাই করলেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। আমরা দলগতভাবে কী করলাম? একেকটা আন্দোলনের সময় হ্যালুশিনেশনের মতো ছড়িয়ে দিলাম গুজব, ধর্ষণ হচ্ছে, চোখ তুলে নেয়া হয়েছে ইত্যাদি, অন্যদিকে ফাঁপা গ্রান্ডিওস, ট্রল করা, মানুষকে টেনে নামানো নর্দমায়। এ কে বলা হয় ম্যাস স্কিজোফ্রেনিয়া।

সর্বশেষ ভিয়েনা বাংলাদেশ কমিউনিটির পক্ষ থেকে ভিয়েনা বাংলাদেশ দূতাবাসকে সিফাত উল্লাহ সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করা হয়েছে I বাংলাদেশ পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি দেখছেন I অচিরেই আমরা দৃশ্যমান কিছু দেখবো l অস্ট্রিয়া মানবতা বোধের দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে , সেদিক দিয়ে বিবেচনা করলে সেফাত উল্লাহর ব্যাপারে বাংলাদেশ কতটুকু সফল হবে প্রশ্ন থেকে যায় l

বিশেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: নারায়ণগঞ্জের খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.