শুক্রবার ৬ আশ্বিন, ১৪২৫ ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ শুক্রবার

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অন্য নামে আফতাবনগরে পশুর হাট

  • কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত
    হাট উচ্ছেদ করতে পুলিশ ও র‌্যাবের সহায়তা

বিশেরবাঁশী ডেস্ক: উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভিন্ন নামে রাজধানীর কোরবানির পশুর বড় হাট আফতাবনগরে বসেছে। এ বছর উত্তর সিটি কর্পোরেশন থেকে আফতাবনগর পশুর হাটের কোন ইজারা আহবান করা হয়নি। সেখানে পশুর হাট বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশও দেয় উত্তর সিটি কর্পোরেশন। এরপরও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন থেকে দাওকান্দি ইন্দুলিয়া ভাগাপুর নগর ( মেরাদিয়া মৌজা) নাম দিয়ে পশুর হাটের ইজারা দেয়া হয়। মধ্য বাড্ডার মাদ্রাসা মারকাজুর হকের সভাপতি মোহাম্মদ আলী ৫৫ লাখ টাকায় এই পশুর হাটের ইজারা নেন। আফতাবনগরের লোহারপুলের পূর্ব দিকে বনশ্রী রাস্তা সংলগ্ন একটি এলাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে পড়েছে। ওই স্থানটি পশুর হাট বসার কথা দেখিয়ে এই ইজারাটি নেয়া হয়। এই স্থানটির সঙ্গেই আফতাবনগর পশুর হাট বসত। অন্য নাম দিয়ে এখন আফতাবনগর পশুর হাট বসেছে বলে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের একাধিক কর্মকর্তারা মন্তব্য করেছেন।

এ ব্যাপারে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান ভ‚মি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আফতাবনগর এলাকায় পশুর হাট বসেছে। এ ব্যাপারে আমরা লিখিত চিঠিও দিয়েছি। পশুরহাট উচ্ছেদ করতে আমরা পুলিশ ও র‌্যাবের সহায়তা চেয়েছি।  সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৫ বছরে আফতাবনগর পশুর হাটের ইজারার চাঁদাবাজির টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে অন্তত ৮ জন খুন হয়। ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট রাতে বাড্ডার আদর্শনগর পানিরপাম্প এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান গামা, বাড্ডার ছয় নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শামসুদ্দিন মোল্লা, ব্যবসায়ী ফিরোজ আহমেদ মানিক ও যুবলীগ নেতা আবদুস সালাম। ২০১৪ সালে মাহবুবর রহমান গামা আফতাবনগর গরুর হাট সাড়ে ৫ কোটি টাকায় ইজারা নেন। ওই ইজারাকে কেন্দ্র করে ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে আমেরিকা প্রবাসী সন্ত্রাসী মেহেদি গ্রুপের ক্যাডার বাহিনী। চাঁদা দিতে না চাইলে পরের বছর মাহবুবসহ ৪ জনকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এর আগে ২০১৫ সালের ৩ মে বাড্ডা জাগরণী সংসদ ক্লাবে আফতাবনগর পশুর হাটের ৬০ লাখ টাকা চাঁদার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর একটি বৈঠক হয়। ঐ বৈঠক চলাকালে সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে বাড্ডা থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন রাহিনকে।

এসব ঘটনার জের ধরে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র ওসমান গণি চলতি বছর আফতাবনগর পশুর হাট ইজারা দেয়া বন্ধ করে দেন। আফতাবনগর এলাকার বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার কর্তৃপক্ষ প্যানেল মেয়রের কাছে পশুরহাট বন্ধ করে দেয়ার আবেদন করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, স্মাইলিং চিলড্রেন স্পেশাল স্কুল, ঢাকা ইমপিরিয়াল কলেজ ও জহুরুল ইসলাম সিটি হাউজিং সোসাইটি।

গতকাল পশুর হাটের ইজারাদার মোহাম্মদ আলী বলেন, পশুর হাটটি দক্ষিন সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বসানো হয়েছে। তবে পশুর বড় হাট হওয়ায় পাশেই উত্তর সিটি কর্পোরেশনের জমিতে ব্যাপারীরা পশু জড়ো করেছেন। এ ব্যাপারে উত্তর সিটি কর্পোরেশন থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর শুক্রবার একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট হাট পরিদর্শন করেছেন। তবে পশুরহাটে প্রবেশের জন্য আফতাবনগরের জহিরুল ইসলাম সিটি আবাসিক এলাকার প্রবেশ সড়ক ব্যবহার করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে জহিরুল ইসলাম সিটি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে হাট কর্তৃপক্ষ একটি বৈঠকও করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে আফতাবনগর পশুরহাট ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ৬ কোটি টাকায় ইজারা দেয়া হয়। গত বছর সেই পশুর হাটের ইজারা দেয়া হয় মাত্র ১ কোটি ৯ লাখ টাকা। এ বছর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অধীন অন্য নাম দেখিয়ে মাত্র ৫৫ লাখ টাকায় ইজারা দেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে এই হাট ইজারায় সরকার প্রায় কোটি টাকা রাজস্ব হারিয়েছে।

বিশেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: নারায়ণগঞ্জের খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.