শনিবার ৭ আশ্বিন, ১৪২৫ ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ শনিবার

অবশেষে কারামুক্ত হাসনাত করিম

  • হলি আর্টিজান মামলা থেকে অব্যাহতি

বিশেরবাঁশী ডেস্ক: অবশেষে ২৫ মাস পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার সন্দেহভাজন আসামি নর্থ সাউর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত রেজা করিম। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটায় গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। এ সময় তার স্ত্রীসহ স্বজনরা কারাগেটে উপস্থিত ছিলেন। ওই কারাগারের জেলার বিকাশ রায়হান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হাসনাতকে অব্যাহতি দিয়ে আদালত থেকে যে নির্দেশনা এসেছে, ওই কাগজ যাচাই-বাছাই করে তাকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

এর আগে বুধবার হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা মামলায় মামলার গ্রহণের পাশাপাশি এ মামলার দায় থেকে হাসনাত করিমের অব্যাহতি মঞ্জুর করেন ঢাকার আদালত। হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন বিচারক। এদিন ঢাকা মহানগর অতিরিক্ত পিপি আব্দুস সাত্তার দুলাল জানান, অব্যাহতির অনুমতিপত্র আদালত থেকে কারাগারে গেলেই হাসনাত ছাড়া পাবেন। ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে রাজধানীর ক‚টনীতিকপাড়া গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পরদিন সকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পর সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয় নর্থ সাউর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত রেজা করিমকে। পরে এ ঘটনায় গুলশান থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখায় তদন্ত সংস্থা কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিট (সিটিটিসি)। এরপর থেকে কারাগারে ছিলেন তিনি। দীর্ঘ দুই বছর এক মাস ৮দিন পর গতকাল মুক্তি পেলেন ব্রিটিশ পাশপোর্টধারী আলোচিত চরিত্র হাসনাত করিম।

কারাগার থেকে বেরিয়ে বিকেল সাড়ে চারটার পরপর একটি কালো জিপে করে স্ত্রীসহ স্বজনদের সঙ্গে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন হাসনাত। উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাননি তিনি। তবে হাসনাতের স্ত্রী শারমিন করিম বলেন, ন্যায় বিচার পাওয়ায় আমরা অত্যন্ত খুশি। আমার স্বামী নিরপরাধ থাকায় অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন। আমরা পুলিশ ও আদালতে প্রতি কৃতজ্ঞ। হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পরদিন ভোর রাতে ভবনের ছাদে হামলাকারীদের সঙ্গে আলোচনারত অবস্থায় দেখা যায় হাসনাত করিমকে। সঙ্গে ছিলেন কানাডার টরেন্টো ইউনিভার্সিটির ছাত্র ও শিল্পপতির নাতি তাহমিদ হাসিব খান। সশস্ত্র জঙ্গিদের পাশে তাহমিদ ও হাসনাত দাঁড়িয়ে কথা বলার মূহুর্তের একটি ছবিকে ঘিরে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। যে কারণে পরবর্তীতে তাকে আটক পর গ্রেফতার করে পুলিশ। তা ছাড়া জঙ্গি সংগঠন হিযুবত তাহরীরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও ছিল তার বিরুদ্ধে। ২০১১ সালে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করার সময় তার বিরুদ্ধে হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে।

তবে তদন্ত সংস্থা কাউন্টার টেররিজম সূত্র জানায়, হাসনাত নিজে ও ঘটনার সময় জিম্মি হয়ে থাকা অন্যদের ভাষ্য ছিল, জঙ্গিদের অস্ত্রের মুখে ছাদে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন হাসনাত করিম। আর নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগেরও সত্যতা পায়নি পুলিশ। হাসনাতের স্ত্রী শারমিন করিমও তার স্বামীর জঙ্গি সংশি¬ষ্টতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলে আসছিলেন, জিম্মি অবস্থায় জঙ্গিদের বিভিন্ন নির্দেশ মানতে বাধ্য হয়েছিলেন হাসনাত।  দীর্ঘ দুই বছর পর গত ২৩ জুলাই গুলশানে হলি আর্র্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলা মামলায় আট জঙ্গিকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। চার্জশিটে উলে¬খ করা হয়, হামলায় নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিমের জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

উলে¬খ্য, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। এ সময় তাদের গুলিতে দুই পুলিশ সদস্য নিহত হন। পরের দিন ভোরে সেনাবাহিনীর অভিযানে হামলাকারী পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গুলশান থানায় মামলা করে পুলিশ।

বিশেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: নারায়ণগঞ্জের খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.