শুক্রবার ৬ আশ্বিন, ১৪২৫ ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ শুক্রবার

র‌্যাবের সাবেক অধিনায়ক লে. ক. হাসিনুরকে তুলে নেয়ার অভিযোগ

বিশেরবাঁশী ডেস্ক: রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসের ডিওএইচএস এলাকা থেকে র‌্যাবের সাবেক অধিনায়ক লে.কর্নেল (চাকরিচ্যুতে) হাসিনুর রহমান ডিউককে ডিডি পুলিশ পরিচয়ে একদল ব্যক্তি উঠিয়ে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বুধবার রাত ১০ টা ২০ মিনিটে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার ১১ নম্বর রোডের ৭৯২ নম্বর বাড়ির সামনে থেকে তাকে মাইক্রোবাসে করে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ডিওএইচএস এলাকার ৪ নম্বর এভিনিউয়ের ১০ নম্বর রোডের ৬৫৯ নম্বর বাড়িতে হাসিনুর রহমান ডিউক সপরিবারে থাকতেন। ঘটনার পর তার স্ত্রী শামীমা রহমান পল্লবী থানায় অপহরণ সংক্রান্ত অভিযোগ দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ দ্রুত ছুটে যায়। পুলিশ ৭৯২ নম্বর বাড়ির সামনের রাস্তায় হাসিনুরের লাইসেন্সকৃত পিস্তলটি পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে। বৃহস্পতিবার সকালে শামীমা রহমানের অভিযোগটি পুলিশ জিডি হিসাবে গ্রহণ করে। জিডি নম্বর-৬৪২। জিডির তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন পল্লবী থানার এসআই মনিরুল ইসলাম।

পল্লবী থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা জিডিটি তদন্ত করছি। তার সম্ভাব্য অবস্থান জানার চেস্টা করা হচ্ছে।’ জিডিতে হাসিনুর রহমানের স্ত্রী শামীমা রহমান তার স্বামীকে সেনাবাহিনী থেকে অবসরপ্রাপ্ত হিসাবে উল্লেখ করেছেন। জিডিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, বুধবার রাত ৯ টার দিকে এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে হাসিনুর বাসা থেকে বের হয়ে যান। দেখা শেষ করে ১০ টার পর বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ১০ টা ২০ মিনিটের দিকে বাসার ঠিক কাছেই ৭৯২ নম্বর বাড়ির সামনে একটি মাইক্রোবাস থেকে ৪/৫ জন ব্যক্তি নেমে হাসিনুরকে উঠিয়ে নেয়ার চেস্টা চালায়। ওই সময় হাসিনুর চিৎকার করতে থাকেন। মাইক্রোবাস থেকে নামা ব্যক্তিরা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দেয়। এসময় হাসিনুরের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। পরে তারা তাকে মাইক্রোবাসে জোরপূর্বক উঠিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।

এর আগে লে. কর্ণেল হাসিনুর রহমান ডিউক ২০০৯ সালে চট্টগ্রামে র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক ছিলেন। র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখা তদন্ত করে তার সঙ্গে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাহরীরের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পায়। ওই সময় হাসিনুরের শ্যালিকা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। ওই সময় তার শ্যালিকা হিজবুত তাহরীরের নারী ইউনিটের একজন শীর্ষ স্থানীয় নেত্রী ছিলেন। হিযবুত তাহরীরের নারী শাখার প্রধান ফারিয়া আফসানা মুনমুন, নেত্রী হোমায়রা, লুনা, বুয়েটের থেকে স্থাপত্য বিভাগ থেকে পাস করা ফাহমিদা খানমসহ অন্তত ৫০ জন নারী কর্মীর সঙ্গে লে.কর্নেল হাসিনুরের যোগাযোগ থাকার সংশ্লিষ্টতা পায়। চট্টগ্রামে র‌্যাব-৭ অফিসে হিযবুত তাহরীরের কয়েকজন নেতা তার সঙ্গে দেখাও করেন। ২০০৯ সালের অক্টোবরে হিজবুত তাহরীর নিষিদ্ধ ঘোষণার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র শিক্ষক ও হিজবুত তাহরীরের উপদেষ্টা গোলাম মহিউদ্দিন গ্রেফতার হন। তার জবানবন্দী থেকেই হাসিনুর রহমানের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া যায়। তখন হাসিনুর রহমান র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক ছিলেন। র‌্যাবের হাতে হিজবুত তাহরীরের বেশ কয়েকজন সদস্য আটক হওয়ার পর র‌্যাবও নিশ্চিত হয় হাসিনুর রহমানের সাথে হিজবুত তাহরীরের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ২০১১ সালের প্রথম দিকে তাকে র‌্যাব সদর দফতরের গোয়েন্দা শাখায় ডেকে পাঠানো হয়। সেসময় গোয়েন্দা শাখার প্রধান ছিলেন লে. কর্ণেল জিয়াউল আহসান। তিনি সাংবাদিকদের কাছে হাসিনুর রহমানের হিজবুত তাহরীর সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করে। এরপরেই তাকে র‌্যাব-৭ থেকে অব্যাহতি মাতৃবাহিনীতে ফেরত পাঠানো হয়।

হাসিনুর রহমান শ্যালক একটি সংবাদ মাধ্যমের কাছে জানান যে, র‌্যাব থেকে সেনাবাহিনীতে ফিরে গিয়ে হাসিনুর সর্বশেষ আর্মি টেইনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডে (আরডক) কর্মরত ছিলেন। একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পর তিনি চাকরিচ‚্যত হন। চাকরির সময় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় দণ্ডিত হয়ে পাঁচ বছরের জেল খেটে ২০১৪ সালে মুক্তি পেয়েছিলেন।  একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা লে.কর্নেল (চাকরিচ্যুতে) হাসিনুর রহমান ডিউকের ফেসবুক আইডি যাচাই করে মন্তব্য করেন যে, সম্প্রতি ‘ নিরাপদ সড়ক চাই’ শিক্ষার্থীদের চলা আন্দোলনে তিনি ফেসবুকে অনেক ভ‚য়া ও মিথ্যা তথ্য শেয়ার করেছেন। এ বিষয়টিই হয়তো যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। গতকাল মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় হাসিনুরের বাসায় সাংবাদিকরা এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নিতে যান। হাসিনুরের স্ত্রী শামীমা রহমান বলেন, ‘আমার স্বামী কোন অন্যায় বা অপরাধ করলে রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন অনুযায়ি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক। তাকে কারা অপহরণ করে নিয়ে গেছে, তা আমি নিশ্চিত নয়। সরকারের কাছে আমার স্বামীকে উদ্ধার করার দাবি জানাচ্ছি।’

বিশেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: নারায়ণগঞ্জের খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.