বুধবার ৪ আশ্বিন, ১৪২৫ ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বুধবার

আজ থেকে শিক্ষার্থীদের রাজপথে নামা হবে আত্মঘাতী!

দর্পণ কবীর: আজ রোববার থেকে রাজপথে শিক্ষার্থীরা নামলে সরকার সহানুভূতি দেখাবে না। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কিন্তু সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ ছিল ওদের ওপর যেন পুলিশ কোন অসৌজন্যমূলক আচরণ না করে।

Image may contain: 1 person, hat

ধারনা করে বলছি-সরকারও নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা চাচ্ছে। খবর নিয়ে জেনেছি-সরকার এ ব্যাপারে আইন-বিধি তৈরি করতে যাচ্ছে। অবৈধ যানবাহন, ফিটনেসহীন গাড়ি, বেপরোয়া ড্রাইভিং, লাইসেন্সহীন চালকসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকার প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা রাখার নির্দেশও দিতে যাচ্ছে। কোমলমতি শিশু ও কিশোর-কিশোরী এবং ওদের অভিভাবকদের দাবি হচ্ছে-পরিবহন সেক্টরের আমুল পরিবর্তন, অর্থাৎ বর্তমান সিস্টেমের পরিবর্তন চান তারা। সরকারও এই চাওয়াকে প্রবলভাবে সমর্থন করছে। তাই নৌ-মন্ত্রীর পদত্যাগকে রাজনৈতিক পরাজয় বিবেচনা করে-এ ব্যাপারে সরকার সময় নিচ্ছে-কী করা যায়। তবে শিগগীর নৌ-মন্ত্রীকে পদত্যাগ করানো হলে অবাক হবার কিছু থাকবে না।

এখন কথা হচ্ছে-সরকার বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে লাগাতারভাবে ব্যর্থ হবার পর-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থ হাসিলে কী করা যায়-তাই করছে। উৎসাহী শিক্ষার্থীরা বাস্তব অভিজ্ঞতার অভাবে এবং উস্কানীমূলক অনুপ্রেরণায় রাজপথে থাকতে চাচ্ছে। এদের সংখ্যা খুব বেশি-এমন দাবি করা যাবে না। সংখ্যা যাই হোক-তারা যদি রাজপথে থাকে সাধারণ মানুষের সহমর্মিতা ও সজাগ দৃষ্টিও থাকবে ওদের দিকে। অপরদিকে সরকার এক সপ্তাহ পরেও এমন পরিস্থিতিকে প্রলম্বিত করতে চাইবে না।

শিক্ষার্থীদের রাজপথে এর ছবির ফলাফল

যে কোন সরকারই নিজের ব্যর্থতাকে প্রকাশ্যে নাকাল হতে দিতে নারাজ। শিক্ষার্থীরাও তো রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারবে না। তারা জনমনে যে জাগরণ সৃষ্টি করেছে-এটাই বড় প্রাপ্তি। এখানের তাদের জয়-সাধারণ মানুষের জয়। এই জয়কে পরাজয়ে পরিণত করা হবে বোকামী। তাই রাজপথে দিনের পর দিন থাকলে যে টুকু অর্জন, তা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা রাজপথে ওদের নিরাপত্তার নিশ্চিয়তা কতটুকু? অভিভাবকরা ভাবুন। নিজের সন্তানদের আগলে রাখুন।

শিক্ষার্থীদের রাজপথে এর ছবির ফলাফল

সমাজ বদল বা অনিয়ম-অন্যায়ের আন্দোলন ভাল, তবে আন্দোলনকে ভূ-লুণ্ঠিত করার ফাঁদে না পড়ার বিষয়টিও ভাবতে হবে। সকলকে ভাবতে হবে। আর হ্যাঁ, জ্ঞানে বা অজ্ঞানে যে শিক্ষার্থীরা অশালীন ভাষায় লেখা পোষ্টার-প্ল্যাকার্ড বা পথের লিখন লিখেছিল-এটা শোভন ও সমর্থনযোগ্য হয়নি। আমরাও তোমাদের মধ্যে আমাদের শৈশব-কৈশোর দেখি। অশোভন কথা, ইঙ্গিত বা স্লোগানে ভীষণ লজ্জিত হই-গ্লানিবোধ করি। আমরা তোমাদের নিয়ে শুধু গর্ববোধ করতে চাই। গ্লানি-লজ্জায় কুকড়ে যেতে চাই না।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: খোলা বাতায়ন,জাতীয়,সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.