বুধবার ৪ আশ্বিন, ১৪২৫ ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বুধবার

চাষাড়া আবারো শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণে;শামীম ওসমানের কথা মানলেন না!

বিষেরবাঁশী ডটকম: তারপরও সাংসদ শামীম ওসমানের উপদেশ মানলেন না আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আগের অবস্থানেই অটল। ওদের এক কথা; কারো কথায় আন্দোলনে আসি নাই, কারো কথায় যাবো না। শুক্রবার ৩ আগষ্ট বিকেল ৩ টার দিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষনা করে আগামী রোববার পর্যন্ত ধৈর্য্য ধারনের আহবান জানিয়েছিলেন।  চাষাড়ায় শিক্ষার্থীদের সমাবেশে ছাত্রলীগ কর্মীদের উপস্থিতিতে এক বক্তৃতায় দুই দিনের জন্য ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণটা পুলিশের উপর ছেড়ে দেয়ার প্রেক্ষিতে অর্ক নামে এক শিক্ষার্থী ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকাতে জব্দকৃত বেশ কিছু চাবি শামীম ওসমানের হাতে তুলে দেন। শামীম ওসমান ওই চাবি নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলামের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে বলেন, যানবাহন মালিকরা তার কাছ থেকে চাবি সংগ্রহ করবে। শামীম ওসমানের বক্তব্যের সময় জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দসহ বেশ কিছু কর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিল।

কিন্তু শামীম ওসমান চলে যাওয়ার পরপরই সাধারণ শিক্ষার্থীরা ফের মাঠে নামেন। বিকাল ৪টা থেকে তারা চাষাড়া গোল চত্ত্বরে অবস্থান নেন। নারী শিক্ষার্থীরা ৯ দফা দাবি আদায়ে মানববন্ধন করেন। এসময় তাঁদের হাতে বিভিন্ন প্ল‌্যাকার্ড শোভা পায়। এবং ছেলে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের লাইসেন্স চেক ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রনের দায়িত্ব পালন করেন। মূল শহরে প্রবেশের ৪টি পয়েন্টে তাঁরা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রন করেন। নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা লিংক রোড, সলিমুল্লাহ সড়ক, বিবি রোড ও নারায়ণগঞ্জ-পুরাতন সড়ক,বিবি রোড ও সলিমুল্লাহ সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রন করেন। যেসব বাহনের আরোহীদের লাইসেন্স কিংবা বাহনের কাগজপত্র পাওয়া না যাচ্ছে সেসব আরোহীদের চাষাড়া পুলিশ বক্সে নিয়ে গিয়ে ট্রাফিক পুলিশদের কাছে সোপর্দ করা হচ্ছে এবং মামলা করা হচ্ছে। গতকালের মতো চাবি জব্দ করা হচ্ছে না আজ।

এদিকে শামীম ওসমানের সঙ্গে পাশে দাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেয়া অর্ককে উপেক্ষা করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা বলছে, শামীম ওসমান অর্ককে শিক্ষার্থীদের নেতা প্রকাশ করলেও তাকে আমরা মানি না। সে আমাদের কোন নেতা না। আমরা দাবী আদায় হওয়া না পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবো। শামীম ওসমান রোববার পর্যন্ত সময় দিয়েছেন,না হলে তিনিতো তোমাদের সঙ্গে মাঠে নামবেন, তারপরও মাঠে নামলে কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষার্থীরা বলেন,আমরা কারো কথায় মাঠে নামিনি কারো কথায় মাঠ থেকে উঠবো না। এঁরা বিভিন্ন যানবাহনের লাইসেন্স চেকিং অব্যহত রাখেন। তাদের একই বক্তব্য; নো লাইসেন্স নো রান’। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা) শহরের বিবি রোড, লিংক রোড, সলিমুল্লাহ রোড ও নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা পুরাতন সড়কে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রন ও লাইসেন্স চেক করছিল শিক্ষার্থীরা।

বিশেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: নারায়ণগঞ্জের খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.