মঙ্গলবার ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ ২০ নভেম্বর, ২০১৮ মঙ্গলবার

না’গঞ্জে উচ্চাবিলাসী মাহমুদা স্বামী সন্তান ছেড়ে লিভ টুগেদার,অতঃপর খুন

বিষেরবাঁশী ডটকম: মিডিয়া তথা নাটক, সিনেমা, মডেলিংয়ে প্রতিষ্ঠিত হতে চেয়েছিলো দেওভোগ নাগবাড়ি এলাকার আক্কাছ আলীর মেয়ে মাহমুদা। তাঁর জীবন যাপনও ছিলো অত্যন্ত উচ্চবিলাসী। আর এ কারণেই স্বামী ও কন্যা সন্তান রেখেই এদিক সেদিক ঘুরে বেড়িয়েছেন অনেকের সাথে। সর্বশেষ মাত্র ১ মাস ২০ দিন আগে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তিকে (বয়ফ্রেন্ড) স্বামী পরিচয় দিয়ে সদর উপজেলার গোগনগর আলামিন নগর এলাকার মোহাম্মদ আলী আকবরের বাড়ির একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন মাহমুদা। তবে তাঁর সেই বয়ফ্রেন্ড কে ছিলো (?) তা এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

সোমবার (৩০ জুলাই) রাতে মাহমুদার ভাড়া নেয়া ফ্ল্যাটটি তালাববন্ধ ছিলো এব এর ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় পুলিশে খবর দেয় তাঁর প্রতিবেশীরা। পুলিশ এসে মোহাম্মদ আলী আকবরের তিনতলা ভবনের নিচ তলার ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে উদ্ধার করে এক নারীর অর্ধগলিত লাশ। ততক্ষণ পর্যন্ত সবাই জানতেন না তাঁর পরিচয়। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, এই ফ্ল্যাট যাঁরা ভাড়া নিয়েছিলেন তাঁদের সাথে তেমন দেখা সাক্ষাত হতো না। কথাও হতো না। তাই তাঁরা কে কি করেন, নাম কি, সে কিছুই জানতে পারেনি। পুলিশও উদ্ধার করা লাশটি অজ্ঞাত হিসেবে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন।

একটি রাজনৈতিক প্রোগ্রামে মেয়ের সাথে হত্যার শিকার মাহমুদা এদিকে লাশ উদ্ধারের পর ওই নারীর জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। জানা গেছে সে দেওভোগের নাগবাড়ি এলাকার আক্কাছ আলীর মেয়ে মাহমুদ। মাহমুদা শহরের উকিলপাড়া এলাকার টপ টেনের একজন কর্মচারী। মাঝে মাঝে দু একটি শর্টফিল্মেও কাজ করেছিলেন বলে শোনা যায়। জানা গেছে, মাহমুদার বাবা আক্কাছ আলী নাগবাড়ি এলাকার ডায়াবেটিস হাসপাতালে একজন সিকিউরিটি গার্ড। ব্যক্তিগত জীবনে মাহমুদা এক কন্যা সন্তানের জননী। ধারণা করা হচ্ছে কোনো রাজনীতিক কিংবা মিডিয়া সংশ্লিষ্ট কারো প্রলোভনে পড়ে মাহমুদা স্বামী সন্তান রেখে ওই ফ্ল্যাট বাড়িটি ভাড়া নিয়ে লিভ টুগেদার করতেন।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, “সে কার সাথে এই ফ্ল্যাটে ছিলো সে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আশপাশের কেউ কিংবা ওই নারীর পরিবার থেকেও এ ব্যাপারে নিশ্চিত কোনো ধারণা দিতে পারেনি। তবে, ওই বাড়ির মালিক জানিয়েছেন তাঁরা স্বামী স্ত্রী পরিচয় দিয়ে বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন।” তিনি আরও জানান, “ধারণা করছি এই হত্যাকা-টি গত ২ থেকে তিন দিন আগে ঘটেছে। নারীটির গলায় ওড়না প্যাচিয়ে শ^াসরোধ করা হত্যা করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে বিস্তারিত জানতে পারবো। আমরা এখন চেষ্টা করছি তাঁর সাথে কে থাকতেন তা জানার জন্য। ওই ব্যক্তির হদিস পেলে জানা যাবে এর আদ্যপান্ত।”

তবে কামরুল ইসলাম মাহমুদার পরিবারের বরাত দিয়ে এটুকু নিশ্চিত করে বলেন, “তিনি (মাহমুদা) যাঁর সাথেই ওই ফ্ল্যাটে ছিলেন তিনি তাঁর স্বামী নন, এ ব্যাপারটি তাঁরই পরিবার নিশ্চিত করেছেন। কেননা, সে তাঁর স্বামী ও সন্তান রেখেই ওই বাড়িতে ১ মাস ২০ দিন আগে ওঠেছিলেন। ধারণা করছি লিভ টুগেদার করতেন তাঁরা।” এদিকে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, উচ্চ বিলাসী জীবন যাপনে অভ্যস্ত মাহমুদাকে প্রায় সময় রাজনৈতিক নেতাদের উপিস্থিতিতে বিভিন্ন সভায়ও দেখে গেছে। তবে সঠিক তদন্ত আর মাহমুদার কললিস্ট চেক করলেই এই হত্যার রহস্য যেমন উন্মেচিত হবে তেমনি জানা যেতে পারে তাঁর সাথে কে ছিলো ওই ফ্ল্যাটে এবং আরও কারা কারা আসতেন এখান?

বিশেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: অপরাধ ও দুর্নীতি,নারায়ণগঞ্জের খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.