শুক্রবার ৬ আশ্বিন, ১৪২৫ ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ শুক্রবার

গণসংহতি আন্দোলনের বিক্ষোভ সমাবেশ

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের আবেদন পুনঃনিরীক্ষার দাবিতে গণসংহতি আন্দোলন বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। রবিবার (২২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা এ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।

গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়কারী তরিকুল সুজনের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল বাপ্পির সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, নির্বাহী সমন্বয়কারী অঞ্জন দাস, মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক পপি রাণী দাস, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা শাখার আহ্বায়ক জাহিদুল আলম আল জাহিদ, বন্দর থানা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক, ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস জামান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি শুভ দেব, রকিবুল ইসলাম, হাসান মোহাম্মদ জাহিদ, শুভ্র কুমার প্রমুখ।

এ সময় গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন বলেন, ২০০২ সালের ২৯ আগস্ট গণসংহতি আন্দোলন যাত্রা শুরু করে। যাত্রার পর থেকে ২০০৫ সালের আড়িয়ল খাঁ বিলের আন্দোলন, ২০০৬ সালের ফুলবাড়িয়া আন্দোলন, শনির আখড়াতে পানির জন্য যে তীব্র আন্দোলন হয়েছিল সে সকল আন্দোলনে গণসংহতি আন্দোলন সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহন করেছিল। আমরা সকল আন্দোলনে লড়াই করেছি, জনগণের ন্যায্য আদায়ে নেতৃত্ব দিয়েছে। আমরা কেবল মাত্র সক্রিয়তার দিক থেকেই নয় আমাদের সাংগঠনিক ক্ষমতার দিক থেকেও রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের যোগ্য দাবিদার। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে সকল শর্ত মেনে সকল দলিল হাজির করেছি। গত ১৫ জানুয়ারি ইলেকশন কমিশন একটি চিঠি দিয়ে জানান, গণসংহতি আন্দোলনের গঠনতন্ত্রের ক্ষেত্রে কিছুটা ত্রুটি আছে। আমার সে ত্রুটি পুনরায় সংশোধন করে নির্বাচন কমিশনকে জমা দেই। এরপর নির্বাচন কশিমন মাঠ পর্যায়ে লোক পাঠাবে বলে জানান। কিন্তু কোন মাঠ পর্যায়ে না গিয়েই মাত্র দুইটি দলকে নিবন্ধন দেন তারা। কিন্তু আমাদের নিবন্ধন দেয়া হয় নাই। আমরা জানতে চাই, কেন আমাদের নিবন্ধন দেয়া হলো না? এ রকম কোন উত্তর তাদের পক্ষ থেকে দেয়া হয় নি। আমার চাই আবার পুনঃনিরীক্ষার মাধ্যমে গণসংহতিকে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনভুক্ত করা হোক।

তিনি আরো বলেন, সারা বাংলাদেশ একটি জাহান্নামের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এর কারণ হিসেবে কেবল সরকারকে দায়ী করতে পারি না। কেননা যেমন জনগণ তার তেমন সরকার। জনগণ যদি রুখে দাড়াতো তাহলে এই বাংলাদেশ এই অবস্থায় পৌছাতো না। বাংলাদেশের মানুষকে ক্রমশ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। একজন রিকশাওয়ালা ভাবেন বড়লোক মরেছে তাতে আমার কী? ছাত্র ভাবেন নারী মরেছে আমার কী? শ্রমিক ভাবেন, আমার তাতে কিছু যায় আসে না। আমি আমার নিজেরটা চাই। এইযে নিজের মধ্যে নিমজ্জিত হয়ে যাওয়াই বাংলাদেশের জন্য কাল হয়ে দাড়িয়েছে। বাংলাদেশের সংকটের কারণ হচ্ছে শাসনতন্ত্রের সংকট। সারা বাংলাদেশে কেউ কোন কিছুর জবাবদিহিতা করে না। এভাবে চলতে পারে না। এই অবস্থার পরিবর্তন না হলে বাংলাদেশের ভবিষ্যত ভালো হবে না।

এ সময় নির্বাহী সমন্বয়কারী অঞ্জন দাস বলেন, যেসব দল আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় থাকবে, সাংগঠনিকভাবে সবল থাকবে তাদের নিবন্ধন দেবেন না। আপনারা নিবন্ধন দিলেন মহাজোটের সাথে যুক্ত কংগ্রেস আর গণ আজাদীলীগ কে। তাহলে বোঝা যাচ্ছে সরকারের পক্ষে যারা থাকবে আর সরকারের দালালি যারা করবে তাদেরই নিবন্ধন দেয়া হবে। তাহলে আপনি কিসের নির্বাচন কমিশন? আপনার বেতনের পয়সা থেকে শুরু করে আপনার পরিবারের শিক্ষা, চিকিৎসা সহ সব কিছুর খরচ জনগণের থেকে, আমাদের থেকে। আর আপনি গিয়ে দালালি করবেন সরকারের সেটা তো হতে পারে না। আমরা বিগত সময়ে নারায়ণগঞ্জসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় সকল আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় থেকেছি। আমরা বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পাবার যোগ্য দাবিদার। কিন্তু আপনারা তা নিয়ে খেলছেন। আমাদের দাবি, অতিসত্বর পুননিরীক্ষনের মাধ্যমে গণসংহতি আন্দোলনকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধিত করা হোক।

প্রসঙ্গত, গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে গণসংহতি আন্দোলন ২০০২ সালের ২৯ আগস্ট আত্মপ্রকাশ করে। নির্বাচন কমিশন এর গত ৩০ অক্টোবর ২০১৭ তারিখের গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী গত ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে বিধি অনুযায়ী শর্ত পূরণ সাপেক্ষে গণসংহতি আন্দোলন রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের আবেদন করে। এসময় গণসংহতি আন্দোলন সহ মোট ৭৫টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে। ৭৫টি আবেদনকারী দলের ভেতর ৭৩টি শর্ত পূরণ করেনি বলে তাদের আবেদন জরিপের জন্য বিবেচনায় নেয়া হয়নি এমন ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গত ৭ জুলাই ২০১৮ রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের আবেদন পুনঃনিরীক্ষার দাবিতে গণসংহতি আন্দোলন সংবাদ সম্মেলন করে।

 বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: নারায়ণগঞ্জের খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.