বুধবার ৪ আশ্বিন, ১৪২৫ ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বুধবার

মামলায় অন্যের নাম দিয়ে লাপাত্তা ইয়াবা আসামী

  • প্রকৃত আসামী ১১ মাস জেলে
    থাকার পর জামিনে উধাও

বিশেরবাঁশী ডেস্ক: চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানায় একটি ইয়াবা মামলায় পুলিশ গ্রেফতারকৃত আসামীর অন্য নাম ঠিকানা দিয়ে চার্জশিট দিয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামী ১১ মাস জেলে থাকার পর উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে বের হয়ে যায়। ইয়াবা উদ্ধারের মামলাটি আদালতে শুনানির জন্য আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ওই গ্রেফতারি পরোয়ানা আসামির ঠিকানায় পৌঁছানোর পর দেখা যায়, ওই ব্যক্তি কোন দিনই ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়েননি। এমনকি তিনি ১১ মাস জেলে বন্দীও ছিলেন না। ওই ১১ মাস তিনি ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। ব্যাংক থেকে মাসের বেতনও উত্তোলন করেছেন। নিজের মোবাইল ফোনটি বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধনও করেছেন। এ ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অধীন বাকলিয়া থানায়। গ্রেফতারকৃত আসামীর সঙ্গে গ্রেফতারি পরোয়ানা পাঠানো আসামীর চেহারায় কোন মিল নেই। পুলিশের সহযোগিতায় ইয়াবাসহ ধরা পড়া আসামী নিজের নাম গোপন রেখে মিজানুর রহমানের নাম ঠিকানা বলে দেয়।

২০১৫ সালের ১৪ অক্টোবর রাত দেড়টায় পুলিশ শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি করে এক ইয়াবা ব্যবসায়ির কাছ থেকে ৯৪০ টি ইয়াবা উদ্ধার করে। পরে বাকলিয়া থানার এসআই আব্দুল করিম বাদী হয়ে ইয়াবা ব্যবসায়িকে গ্রেফতার দেখিয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামীর ঠিকানা দেয়া হয় মিজানুর রহমান (৩৬), পিতা মৃত ইয়াছিন মিয়া, মাতা- দেলোযারা বেগম, গ্রাম-বালুয়ারচর মাস্টারবাড়ি, থানা-সদর দক্ষিণ, জেলা- কুমিল্লা।  দুই মাস ধরে তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ২০ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট নওরীন আক্তার কাঁকনের আদালতে বাকলিয়া থানার এসআই শাহজাহান চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে মিজানুর রহমানকে মাদক ব্যবসায়ি হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

২০১৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়ালের নেতৃত্বে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ থেকে আসামী মিজানুর রহমান ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। এই নির্দেশনা চট্টগ্রাম কেন্দ্রিয় কারাগারে পৌঁছার পর ১৮ সেপ্টেম্বর ইয়াবা মামলার আসামী মিজানুর রহমান কারাগার থেকে বেরিয়ে যান। গত মাসে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানার বালুয়ারচর মাস্টার বাড়িতে মিজানুর রহমানের নামে একটি গ্রেফতারি পরোয়ানা যায়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত থেকে জারি করা ওই গ্রেফতারি পরোয়ানায় তাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। গ্রেফতারি পরোয়ানাটি হাতে পান মিজানুর রহমানের বড় ভাই জামাল উদ্দিন। গতকাল জামাল উদ্দিন জানান, তার ভাই কোনদিনই চট্টগ্রামে যাননি। এমনকি ইয়াবা মামলায় ১১ মাস জেলে বন্দীও ছিলেন না। পরে তিনি চট্টগ্রাম কেন্দ্রিয় কারাগারে খোঁজ নেন। সেখানে বাকলিয়া থানার ইয়াবা মামলায় বন্দী মিজানুর রহমানের ছবিটি সংগ্রহ করেন। বন্দীর ছবিও তার ভাইয়ের সঙ্গে কোন মিল নেই।

গতকাল ভ‚ক্তভোগী মিজানুর রহমান বলেন, তিনি এটিআই সিরামিকস নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সেলস প্রমোশন অফিসার হিসাবে ছয় বছর ধরে কর্মরত। প্রতিষ্ঠানটি রাজধানীর ১৭, গ্রীণ রোড, খাজা এনায়েতপুরী (রহ.) টাওয়ারে অবিস্থত। তিনি গাজীপুরের জয়দেবপুর চৌরাস্তা সংলগ্ন গ্রেটওয়াল সিটি এলাকার একটি ফ্ল্যাট বাসায় সপরিবারে ভাড়া থাকেন। তিনি ২০১৫ সালের ১৪ অক্টোবর থেকে পরের বছর ১৮ সেপ্টেম্বর এই ১১ মাস তিনি কখনই জেলে ছিলেন না। এই ১১ মাস জেলে থাকলে তিনি ব্যাংক থেকে কিভাবে টাকা উত্তোলন করলেন? এমনকি মোবাইল ফোনের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন করলেন কিভাবে?

তিনি অভিযোগ করেন, তাদের গ্রামের বাড়ির পাশে জমি বিক্রি নিয়ে চাচা আব্দুল গফুরের সঙ্গে দ্ব›দ্ব রয়েছে। চাচা ১০ শতাংশ জমির পরিবর্তের ১৪ শতাংশ জমি বিক্রি করে দেন আরেক ব্যক্তির কাছে। ওই চার শতাংশ জমির ওয়ারিশ তারা। যিনি জমি ক্রয় করেছেন, তার এক আত্মীয় এসআই হাসান ওই সময় বাকলিয়া থানায় কর্মরত ছিলেন। হয়তো ইয়াবা মামলার আসামী ধরার পর এসআই হাসান শক্রুতা করে তার নাম-ঠিকানা মামলায় দিয়েছেন। পুলিশ কারসাজি করে ইয়াবা আসামীকে বাঁচানোর জন্য তার নাম ঠিকানা ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে মামলার বাদী আব্দুল করিম গতকাল বলেন, ওই সময় তিনি বাকলিয়া থানায় এসআই হিসাবে কর্মরত ছিলেন। এখন ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি নিয়ে চট্টগ্রাম জেলায় বিশেষ শাখায় (এসবি) কর্মরত। ইয়াবা মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, আসামী আটক করার পর নিজেকে মিজানুর রহমানের নাম ঠিকানা জানিয়েছিল। আসামীর নাম ঠিকানা নিশ্চিত হতে তার ঠিকানায় চিঠিও পাঠানো হয়েছিল। তবে এ বিষয়টি নিশ্চিত হয়েই তদন্তকারী কর্মকর্তা চার্জশিট দিয়েছেন।

বিশেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: নারায়ণগঞ্জের খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.