শুক্রবার ৬ আশ্বিন, ১৪২৫ ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ শুক্রবার

আবার নৌকায় ভোট দিলে প্রতিটি গ্রামে নগরের মতো উন্নয়ন করবো: শেখ হাসিনা

বিশেরবাঁশী ডেস্ক: পাবনাবাসীকে ৪৯টি প্রকল্প উপহার দিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের কাছে চাইতে হবে না, আওয়ামী লীগ জানে মানুষের কীভাবে উন্নয়ন হবে। এই বছরের ডিসেম্বরেই ইলেকশন হবে। এই ডিসেম্বরের ইলেকশনে আপনারা যদি নৌকা মার্কায় ভোট দেন, আওয়ামী লীগ যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে প্রতিটি গ্রামকে নগরের মতো উন্নয়ন করে দেবো। নগরের মতো সুবিধা পাবেন। শনিবার পাবনা জেলার সরকারি পুলিশ লাইনস মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

পাবনায় ৪৯টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

শেখ হাসিনা বলেন, আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। আজকে আমি সব হারিয়েছি, শুধু আপনাদের জন্য কাজ করতে, মানুষের জন্য কাজ করতে। আমরা বাবা চাইতেন এই বাংলার মানুষ ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সুখী-সমৃদ্ধ হবে।  তিনি বলেন, নৌকায় ভোট দিয়েছিলেন, আপনাদের জন্য কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। আগামী নির্বাচনে আপনারা যদি আবারও নৌকায় ভোট দেন তাহলে ক্ষমতায় আসবো। আপনাদের সেবা করার সুযোগ পাবো। নৌকায় ভোট দিয়ে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন কী না হাত তুলে দেখান।

এসময় জনসভায় উপস্থিত পাবনাবাসী দুই হাত তুলে শেখ হাসিনার প্রতি তাদের সমর্থন জানান। জনগণের এই স্বতস্ফূর্ত সমর্থন পেয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘যে ওয়াদা আপনাদের কাছে করেছি, সে ওয়াদা আমরা নিশ্চয়ই পূরণ করবো।’  প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা উন্নয়নশীল দেশ, কারো কাছে ভিক্ষা করে চলবো না। জাতির পিতা বলেছিলেন, সাড়ে সাত কোটি মানুষকে কেউ দাবায় রাখতে পারবা না। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে যাবো। বাংলাদেশকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারে নাই, দাবিয়ে রাখতে পারবে না। জাতির পিতার স্বপ্ন আমরা পূরণ করবো।

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, এরা দেশকে ধ্বংস করতে জানে, দেশকে কিছু দিতে জানে না। এতিমের টাকা মেরে খায়। জনগণের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন এতিমের টাকা মেরে খাওয়ার বিষয়ে কোরান শরীফেও নিষেধ আছে। এতিমের জন্য আনা টাকা তারা এতিমদের দেয় নাই। নিজেরা আত্মসাৎ করতে গিয়ে ধরা পড়েছে। আজকে জেল খাটছে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে মানুষকে দিতে জানে। আর ওরা জানে খুন, হত্যা, ধর্ষণ। পাবনায় আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী বিএনপি জোট সরকার ক্ষমতায় থাকার সময়ে নিহত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা তো প্রতিশোধ নিতে যাইনি। আমরা প্রতিটা সময় কাজে লাগিয়েছি মানুষের উন্নয়নের জন্য।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের যুব সমাজের সকলেই তো আর চাকরি পাবে না। কর্মসংস্থান লাগবে। তার জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংক করে দিয়েছি। বিনা জামানতে ৩ লাখ টাকা তারা ঋণ নিতে পারবে। এ জন্য কারও দাবি করতে হয় নাই। আওয়ামী লীগ দিতে জানে। জাতির পিতা এ দেশ স্বাধীন করে দিয়েছেন। আর আওয়ামী লীগ এখন দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।’ পাবনায় ৪৯টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

দেশের যুবসমাজ যাতে বিপথে না যায় সেজন্য অভিভাবক-শিক্ষক-আলেম-ওলামা ও সমাজের সচেতন মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ-মাদককের বিরুদ্ধে আমরা অভিযান করে যাচ্ছি। আপনাদের কাছে সহযোগিতা চাই। সকলের কাছে এজন্য আমার আবেদন থাকবে। মাদক একটা পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ শুধু পরিবার নয়, একটা দেশকে ধ্বংস করে দেয়। আপনারা লক্ষ্য রাখবেন আপনার ছেলে-মেয়েরা কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেশে। কেউ যেন এই জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের দিকে না যায় সে দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। আপনাদের সহযোগিতা চাই। আমাদের কাজ আমরা করবো।’

৪৯টি প্রকল্প উদ্বোধন করার পর সমাবেশে পাবনাবাসীর উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, আমি আপনাদের জন্য এতগুলো উপহার নিয়ে হাজির হয়েছি। আপনারা নৌকায় ভোট দিয়েছেন, আমরা আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ। এই নৌকায় ভোট দিয়েছেন বলেই উন্নয়ন হয়েছে। কারণ নৌকা দেয়। নৌকায় ভোট দিয়ে আমরা মাতৃভাষার অধিকার পেয়েছি, নৌকায় ভোট দিয়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর সভাপতিত্বে জনসভার আলোচনা পর্ব সঞ্চালনা করেন পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স।

আলোচনা পর্বে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, নির্বাহী সদস্য নুরুল ইসলাম ঠান্ডু, পারভীন জামান কল্পনা প্রমুখ। এর আগে বেলা ১২ টা থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জনসভা স্থলে আসতে থাকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। জেলা আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ডে সুশোভিত হয়ে আসেন জনসভা এলাকায়। ‘শেখ হাসিনার আগমন, শুভেচ্ছা-স্বাগতম’, ‘শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’ ইত্যাদি স্লোগনে মুখরিত হয়ে ওঠে উত্তর জনপদের এই জেলার সড়কগুলো। তীব্র রোদ্র উপেক্ষা করেই বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোকসমাগমও বাড়তে থাকে জনসভাস্থলে।

বিশেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: জাতীয়

Leave A Reply

Your email address will not be published.