রবিবার ৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ ১৮ নভেম্বর, ২০১৮ রবিবার

এ যুগের বেহুলা-লক্ষ্মীন্দর রোমানা ও রাজীব

মানবতার এক অনন্য উদাহরণ হলেন রোমানা তাসমিন। এ যেন এ যুগের বেহুলা লক্ষ্মীন্দরের গল্প এটি। মানবতার এক শ্রেষ্ঠ অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। নিজের আত্মীয়স্বজন যা করে না, তার থেকে বেশি করে বিরল নজির সৃষ্টি করলেন এই মেয়ে।

‘আনোয়ার হোসেন রাজীব, লৌহজং পাইলট উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০০২ সালে এসএসসি পাস, ২০০৪ সালে লৌহজং মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পাস করে। ২০০৮ সালে ঢাকা কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে থেকে অনার্স আর ২০০৯ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এমএ শেষ করেছে।

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার বেজগাঁও ইউনিয়নের সুন্দিসার গ্রামে তার বাড়ি। রাজীব পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালে সিনিয়র অফিসার হিসেবে চাকরি করতেন। তিনিই পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। বাবা নূর মোহাম্মদ একজন আবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক।

রাজীব দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছে। রাজীবের পরিবার-পরিজন বন্ধুবান্ধব যার যার সাধ্যমতো আর্থিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু ইতিমধ্যে রাজীবের দুটি কিডনিই ডেমেজ হয়ে গেছে। ওকে বাঁচতে হলে অন্তত একটি কিডনি লাগবে। কোথায় পাবে রাজীব এই অমূল্য সম্পদ? কারণ কিডনি পরিবর্তন করতে হলে অনেক কিছুই ম্যাচ করতে হবে। আবার যার তার কাছ থেকে কিডনি নেয়াও যাবে না। তারপর আবার আত্মীয়স্বজন বা রক্তের সম্পর্কের কেউ ছাড়া কিডনি দান করতে আইনি বাধা রয়েছে। যখন কোথাও কোনো কিনডি পাওয়া যাচ্ছে না, রাজীবের বেঁচে থাকার স্বপ্ন ভেঙে যাচ্ছে।

বড় অসময়ে যখন এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছে রাজিবের। ঠিক সেই সময়ে ফেসবুকের কল্যাণে রাজীবের পরিচয় রোমানা তাসমিন নামের মেয়েটির সঙ্গে। রাজীবের সম্পর্কে আস্তে আস্তে সব কিছু জানলেন রোমানা। জানার পর সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাটা রোমানা রাজীবকে বললেন।

রোমানা রাজীবকে জানালেন, তার একটি কিডনি রাজীবকে তিনি দান করতে চান এবং তার সঙ্গে সব কিছুই ম্যাচিং হয়েছে। রোমানার মুখে এ কথা শুনে রাজীব পুনরায় বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখতে শুরু করলেন। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়াল কিছু আইনি বাধ্যবাধকতা। যেহেতু রোমানার সঙ্গে রাজীবের আত্মীয়তার কোনো বন্ধন নেই। ফলে রোমানার কিডনি দানে আইনি জটিলতা দেখা দেয়। আবারও হতাশায় ভেঙে পড়েন রাজীব। কিন্তু তখনও রাজীবের জন্য আরও চমকপ্রদ সংবাদ শোনা বাকি ছিল, যা হয়তো রাজীব স্বপ্নেও ভাবেনি।

আইনি জটিলতা কাটিয়ে মৃত্যু পথযাত্রী রাজীবকে রোমনা জানালেন যে, সে রাজীবকে বিয়ে করে এ আইনি সমস্যা সমাধান করতে চান। রোমানা তার প্রস্তাব মতে রাজীবকে বিয়ে করে এখন একই ছাদের নিচে বসবাস করছে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য এক মহৎ হৃদয়ের রমণী এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের জীবনকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছেন। এ নিয়ে গত কিছু দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে রীতিমতো ঝড় বইছে।

সিএ/ক্যানি

Categories: চিত্র-বিচিত্র,সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.