শুক্রবার ৬ আশ্বিন, ১৪২৫ ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ শুক্রবার

‘তিন সিটি নির্বাচন শেষ পরীক্ষা’

বিশেরবাঁশী ডেস্ক: রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সরকার ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জন্য শেষ পরীক্ষা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন আয়োজিত এক সমাবেশে মওদুদ আহমদ এ মন্তব্য করেন। ‘মুক্তি বারতা তোমার হাতে দেশমাতা খালেদা জিয়া’ গানের সিডি উদ্বোধন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মুক্তির দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

দলীয় সরকারের অধীনে কখনও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় মন্তব্য করে মওদুদ বলেন, খুলনা ও গাজীপুর সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিয়ে প্রমাণ করেছে, নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নয়। তিনি বলেন, আসন্ন তিন সিটিতেও অংশ নেবে বিএনপি। এ তিন সিটি নির্বাচনের পর দলটি নতুন করে চিন্তা করবে যে, আর কোনো সাধারণ নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে করবে কিনা। কারণ এরই মধ্যে খুলনা ও গাজীপুর সিটিতে অংশ নিয়ে আমরা প্রমাণ করেছি, দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

গাজীপুরে কোনো নির্বাচন হয়নি মন্তব্য করে বিএনপির এ নেতা বলেন, সরকার শত প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর পরেও যারা পত্রিকা পড়েছেন, তারা দেখেছেন যে, গাজীপুরে কোনো নির্বাচন হয়নি। খুলনার পরে আমরা গাজীপুর নির্বাচনে গিয়েছিলাম দেশের মানুষকে জানাতে যে, কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না এবং সুষ্ঠু এবং অবাধ হতে পারে না। এটা আমরা প্রমাণ করতে পেরেছি।

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে আমরা বারবার প্রমাণ করতে চাই এবং এটাই হবে শেষ পরীক্ষা, সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের জন্য। এ সিটিগুলোর নির্বাচন যদি খুলনা ও গাজীপুরের মতো হয়, তাহলে প্রথমত আমরা প্রমাণ করতে পারলাম যে, একটা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন কোনো দিন নিরপেক্ষ হয় না। দ্বিতীয়ত, আমাদের তখন নতুন করে চিন্তা করতে হবে যে, সাধারণ নির্বাচন কোনো দলীয় সরকারের অধীনে কোনো অবস্থাতেই আমরা নির্বাচন করব কি করব না। এ তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন আমাদের সেই পথ দেখিয়ে দেবে।

সাবেক এ আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি অগ্নিপরীক্ষার মধ্যে আছে। ১৬ কোটি মানুষের ভাগ্য নির্ধারিত হতে যাচ্ছে। এর চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আমাদের ভাগ্যে স্বাধীনতার পর আর আসেনি। চ্যালেঞ্জটা হলো বাংলাদেশের গণতন্ত্র, ভোটের অধিকার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ। কেননা এগুলো সবকিছু আমরা হারিয়েছি। আওয়ামী লীগ খালেদা জিয়ার জামিন বিলম্ব করার চেষ্টা করছে অভিযোগ করে

মওদুদ আহমদ বলেন, বিলম্বিত হলেও খালেদা জিয়া আমাদের মধ্যে খুব শিগগিরই ফিরে আসবেন। তিনি মুক্তি পাবেন, এ মুক্তি কেউ আটকাতে পারবেন না। জামিন একটা মৌলিক অধিকার। জামিন তো মামলা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নয়। আইনে যে কোনো মানুষের জামিন পাওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু এ আইনের অপপ্রয়োগ করে তার জামিন বিলম্ব করছেন তারা (সরকার)। সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহ-সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক ও কণ্ঠ শিল্পী মনির খান, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ ও আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান আবুল হাসেম রানা।

বিশেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: শিক্ষা,সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.