বৃহস্পতিবার ৪ শ্রাবণ, ১৪২৫ ১৯ জুলাই, ২০১৮ বৃহস্পতিবার

বিএনপিতে আন্দোলনের চিন্তা

  • আন্দোলনের অংশ হিসেবে’ তিন সিটি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে দলটি

বিশেরবাঁশী ডেস্ক: খুলনার পর গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও পরাজয়ের কারণে বিএনপিতে কিছুটা হতাশা দেখা দিয়েছে। তবে নানা অনিশ্চয়তার মধ্যেও আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে আন্দোলনের অংশ হিসেবে পরবর্তী তিন সিটিতেও অংশ নিচ্ছে দলটি। তারা বলছেন, বর্তমান সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের অধীনে যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়, তা এরই মধ্যে খুলনা ও গাজীপুর সিটি ভোটে প্রমাণ হয়েছে। আসন্ন রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি নির্বাচনে শেষবারের মতো সরকার ও ইসির আচরণ দেখতে চায় দলটি। এ তিনটিতেও খুলনা-গাজীপুরের পুনরাবৃত্তি হলে জাতীয় নির্বাচনের জন্য ইসি পুনর্গঠন এবং নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের দাবিতে জোর আন্দোলনে নামা সহজ হবে বলে মনে করছেন বিএনপি নেতারা।

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরদিন সংবাদ সম্মেলনে ওই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান এবং ফের ভোটের দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একইসঙ্গে আন্দোলনের অংশ হিসেবে রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে বলে দলীয় সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের নির্লজ্জ গণবিরোধী চরিত্র উন্মোচনের জন্য এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে অংশ নিচ্ছি আন্দোলনের অংশ হিসেবে। আসন্ন বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি একই কারণে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান ‘জনবিচ্ছিন্ন সরকারের প্রকৃত চেহারা’ উন্মোচন ও নির্বাচন কমিশনের ‘অযোগ্যতা ও পক্ষপাতিত্ব’ এ নির্বাচনগুলোর মধ্য দিয়েই প্রমাণিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন ফখরুল।

দলীয় সূত্র জানায়, খুলনার পর গাজীপুর সিটিতেও বিএনপি প্রার্থীর পরাজয়ের পর বাকি তিন সিটিতে নির্বাচন নিয়ে আশা ও আগ্রহ অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। দলটির দাবি— খুলনায় নতুন কৌশলে ভোট ডাকাতি করে আওয়ামী লীগ সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় গাজীপুরের নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ‘প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়’ সরকার গাজীপুরে বিএনপির বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে বলেও দলটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। আগামী তিন সিটিতেও সরকার একই ধরনের অবস্থান নেবে বলে আশঙ্কা করছেন বিএনপি নেতারা। এরপরও সরকার ও নির্বাচন কমিশনের চেহারা জনগণের সামনে তুলে ধরতেই নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত থাকতে চায় দলটি। এক্ষেত্রে তিন সিটিতেই জয়ের জন্য দলের সাধ্যমতো প্রচেষ্টাও অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে তিন সিটিতেই একক প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যদিও সিলেটে বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতের পক্ষ থেকে মেয়র প্রার্থী দেওয়া নিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত সব ঠিক হয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

এ বিষয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদ প্রার্থী মজিবুর রহমান সরোয়ার বলেন, খুলনা ও গাজীপুরের নির্বাচন দেখে আমরা পরবর্তী তিন সিটি নির্বাচন নিয়ে বিস্মিত ও চিন্তিত। যখন আমাদের জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা তখন সরকার সিটি নির্বাচন দিয়ে ব্যস্ত রেখেছে। আর প্রশাসনকে ব্যবহার করে যেভাবে সিটি নির্বাচন করা হচ্ছে তাতে জনগণ চরম হতাশ। আসন্ন বরিশাল সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়। এ নির্বাচনেও প্রশাসন তার পক্ষেই কাজ করবে বলে আমরা আশঙ্কা করছি।

বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সহ-সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে যে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় তা এরই মধ্যে জনগণ জেনে গেছে। আগামী তিন সিটিতেও সরকারের ভূমিকা দেখতে চায় বিএনপি। এরপর জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচনকালীন সরকার গঠন এবং বর্তমান নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবিতে বিএনপির আন্দোলনে নামা সহজ হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও তিনি আভাস দেন।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ফলে দেশের মানুষ জানছে এ সরকারের অধীনে, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। সুতরাং আন্দোলন আরও জোরদার হবে এবং সে সঙ্গে বহির্বিশ্বেরও সমর্থন পাওয়া যাবে। ফখরুল বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তনে আমাদের লক্ষ্য আন্দোলন সৃষ্টি এবং সে আন্দোলনের বিষয়ে একটি জাতীয় ঐক্য তৈরি করা। আমরা এরই মধ্যে জাতীয় ঐক্যের কাজ শুরু করেছি, জাতীয় ঐক্যের কাজ চলছে। আমরা আশা করি এটাতে সফল হওয়া যাবে। আর সে ঐক্যের প্রক্রিয়া সফল হলে সরকার তিন দিনও টিকতে পারবে না দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, খুলনার পর আমরা গাজীপুর নির্বাচনে গিয়েছিলাম দেশের মানুষকে জানাতে, কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না এবং নির্বাচন সুষ্ঠু এবং অবাধ হতে পারে না। এটা আমরা প্রমাণ করতে পেরেছি। আসন্ন সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে আমরা বারবার প্রমাণ করতে চাই এবং এটাই হবে শেষ পরীক্ষা এ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের জন্য। তিনি বলেন, এ সিটিগুলোর নির্বাচন যদি খুলনা এবং গাজীপুরের মতো হয়, তাহলে প্রথমত আমরা প্রমাণ করতে পারলাম যে, একটা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন কোনো দিন নিরপেক্ষ হয় না, দ্বিতীয় হলো আমাদের তখন নতুন করে চিন্তা করতে হবে— সাধারণ নির্বাচন কোনো দলীয় সরকারের অধীনে কোনো অবস্থাতেই আমরা নির্বাচন করব কি, করবা না। এটা আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন আমাদের সে পথ দেখিয়ে দেবে। এ তিনটি নির্বাচনই হবে সাধারণ নির্বাচনের আগে শেষ নির্বাচন। দলীয় সরকারের অধীনে যে নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হয় না সেটা প্রমাণ করার জন্যই এ নির্বাচনগুলোতে আমরা অংশগ্রহণ করছি।

বিশেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: রাজনীতি,সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.