বৃহস্পতিবার ৪ শ্রাবণ, ১৪২৫ ১৯ জুলাই, ২০১৮ বৃহস্পতিবার

রাসিকে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত, কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে জামায়াত

বিশেরবাঁশী ডেস্ক: রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন হারানো জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে। মহানগর জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যক্ষ সিদ্দিক হোসেনকে প্রার্থী ঘোষণা করে চলতে থাকে নির্বাচনের প্রচারণাও। রাজশাহী নাগরিক পরিষদের ব্যানারে কারাবন্দি সিদ্দিক হোসেনের পক্ষে নগরজুড়ে ব্যানার-ফেস্টুনও সাঁটানো হয়েছিল। অপরদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে মনোনয়ন বোর্ডের সভায় রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র ও মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে করে বিএনপি জোটের শরীক দল জামায়াত তাকিয়ে আছে কেন্দ্রের দিকে।

জানা গেছে, জামায়াতের স্থানীয় নেতারা দীর্ঘদিন ধরেই এখানে তাদের প্রার্থী দেওয়ার জন্য বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের কাছে দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তারা বলছিলেন, শরীক দল হিসেবে সিটি করপোরেশনগুলোতে বার বার তারা বিএনপিকে ছাড় দিচ্ছেন। কিন্তু তাদেরকেও একটি না একটিতে বিএনপির ছাড় দেওয়া উচিত। আর পাঁচ নগরীর ভোটের আনুপাতিক হারে রাজশাহীতেই সবচেয়ে শক্তিশালী জামায়াত। এই বিবেচনায় এই নগরে তাদের দাবি ছিল জোরালো। কিন্তু বিএনপি তাদের সেই দাবিকে পাত্তা দেয়নি। বর্তমান মেয়র ও মহানগর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে প্রার্থী ধরে কাজ করছেন তারা। এরই মধ্যে বুধবার ঢাকায় ২০ দলীয় জোটের সভায় দেশের তিন সিটিতেই জোটের একক প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট থাকলেও রাজশাহীতে জামায়াতের নিজেদের প্রার্থী দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু এখন পর্যন্ত ঢাকা থেকে কোনও নির্দেশনা আসেনি বলে জানিয়েছেন দলটির স্থানীয় নেতারা। ফলে সিদ্দিক হোসেন প্রার্থিতা করবেন কিনা তা নিয়ে এখনও দোটানায় আছেন তারা।

রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির আবু ইউসুফ সেলিম বলেন, ‘শুরু থেকেই আমরা একটিমাত্র সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে মেয়র পদ চেয়ে আসছি। এরমধ্যে আমাদের প্রথম পছন্দ রাজশাহী, দ্বিতীয় সিলেট। সে অনুযায়ী, রাজশাহীতে আমরা একজন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছি, নির্বাচনের প্রস্তুতিও নিয়েছি। কিন্তু বিএনপির স্থানীয় নেতারা আমাদের সঙ্গে কোনও আলোচনা করেননি। তারা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছেন। এরমধ্যে ঢাকায় ২০ দলীয় জোটের সভা হয়েছে বলেও শুনছি, কিন্তু আমাদের কাছে কোনও নির্দেশনা আসেনি। এতে করে আমরা কেন্দ্রের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছি। কেন্দ্র থেকে যেসব নির্দেশনা দেওয়া হবে, তার বাস্তবায়ন হবে।’

১৯৯১ সালের সংসদীয় আসনে ভোটের রাজশাহীতে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ হতে পারেনি। সেসময় জামায়াতই চ্যালেঞ্জ করেছিল বিএনপিকে। তাই এবার সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছিল দলটি। গেল বছরের অক্টোবরে রাজশাহী নগরীর একটি বাড়িতে এই নির্বাচন নিয়ে বৈঠকে বসলে পুলিশ জামায়াতের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ও মহানগরের সেক্রেটারি সিদ্দিক হোসেনসহ ১২ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে। অধ্যাপক মুজিবুর রহমান সম্প্রতি জামিন পেয়েছেন। তবে জামায়াতের ঘোষণা দেওয়া স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী সিদ্দিক হোসেন এখনও কারাগারে।

রাজশাহীতে জামায়াতের প্রার্থীর বিষয় নিয়ে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, ‘শুধু জামায়াত কেন, ২০ দলীয় জোটের অন্য কোনও শরীক দলই দেশের তিন সিটিতে নির্বাচন করার কথা নয়। আর রাজশাহীতে বিএনপির এমন অবস্থান হয়নি যে, অন্য কোনও দলের জন্য মেয়র পদ ছেড়ে দিতে হবে। রাজশাহী এখনও বিএনপির ঘাঁটি। নির্বাচনে গেলে বিএনপি কখনও রাজশাহীর বিষয়ে কাউকে ছাড় দেবে না।’

বিশেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: আন্তর্জাতিক,সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.