শনিবার ৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ ১৭ নভেম্বর, ২০১৮ শনিবার

ব্যাকডেটে হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামী অস্ত্র ও গুলি জমা দিলেন

  • # অস্ত্রের দোকান মালিকের থানায় জিডি

বিশেরবাঁশী ডেস্ক: বাড্ডার বেরাইদ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের ছোট ভাই কামরুজ্জামান দুখু হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামী তাদের লাইসেন্সকৃত আগেয়াস্ত্র ও গুলি পেছনের তারিখ দিয়ে অস্ত্রের দোকানে জমা দিয়েছেন। এই দুই আসামী হলেন ফারুক আহমেদ ও আইয়ুব আনছার মিন্টু। অস্ত্রের দোকান কর্তৃপক্ষ পেছনের তারিখ দিয়ে জমা গ্রহণে অস্বীকার করলে তাকে হুমকি দেয়া হয়। পরে জোরপূর্বক পেছনের তারিখের রশিদ নিয়ে যায়। ওই দুই আসামী। পরে এ ঘটনায় অস্ত্রের দোকানের সত্ত¡াধিকারী বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি জিডি করেন।

উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল বাড্ডা থানার বেরাইদে বালু নদের তীরে আওয়ামী লীগের স্থানীয় এমপির ভাগ্নে ফারুক আহমেদ গ্রæপের গুলিতে বেরাইদ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের ছোট ভাই কামরুজ্জামান দুখু নিহত হয়। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় সংসদ সদস্য রহমতউল্লাহ’র দুই ভাগ্নে ফারুক আহমেদ ওরফে ভাগ্নে ফারুক ও আইয়ুব আনছার মিন্টুসহ ২৭ জনকে আসামী করা হয়েছে। এ মামলায় ৭ মে ঢাকার একটি আদালতে ফারুক, মিন্টুসহ ২৪ জন হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন। আদালত ফারুক আহমেদ, আইয়ুব আনছার মিন্টু ও তাদের চাচাতো ভাই বেরাইদ ইউপি সদস্য মারুফ আহমেদকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বাকি ২১ জনকে আদালত জামিন দেন। গত ১৪ জুন ফারুক ঢাকা কেন্দ্রিয় কারাগার থেকে জামিনের মুক্তি পান। মিন্টু ও মারুফ এখনও কারাবন্দী।

গত ৩০ এপ্রিল পল্টন মোড়ে প্রীতম ভবনের দোতালায় আগ্নেয়াস্ত্রের দোকান আর্মস মিউজিয়ামে যান ফারুক আহমেদ ও আইয়ুব আনছার মিন্টু। তারা দোকানে ১ টি রাইফেল, ১ টি শটগান, ২ টি পিস্তল , ১১২ রাউন্ড শটগানের গুলি ও ৮১ রাউন্ড পিস্তলের গুলি জমা দেন। জমা দেয়া সংক্রান্ত তারা পিছনের তারিখের রশিদ চায়। দোকানের কর্মচারীরা অস্বীকৃতি জানালে, তারা জমা দেয়া পিস্তল কর্মচারীদের মাথায় ঠেকিয়ে হুমকি দেয়। এ অবস্থায় দোকান কর্মচারীরা তাদের দাবিকৃত তারিখে অস্ত্র জমা দেয়ার রশিদ দেয়। ফারুকের নামে ৫ মার্চ জমা দেয়ার তারিখ দেখিয়ে শটগান ও পিস্তলের দুইটি রশিদ এবং মিন্টুর নামে ৮ মার্চ জমা দেয়ার তারিখ দেখিয়ে দুইটি রশিদ নিয়ে যায়। এ ঘটনার পরপর দোকানের সত্ত¡াধিকারী নূরউদ্দিন ইমরান ৫ মে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে একটি জিডি করেন। জিডি নম্বর-৫০৬।

জিডির অভিযোগে বলা হয়, ৩০ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০ টায় ফারুক ও মিন্টু তাদের লাইসেন্সকৃত অস্ত্র ও গুলি তার প্রতিষ্ঠানে জমা দিতে যান। অস্ত্রগুলো জমা দেয়ার সময় দোকান কর্মচারীদের কাছে পেছনের তারিখে জমা দেয়ার কথা উল্লেখ করতে বলেন তারা। এসময় দোকান কর্মচারীরা পিছনের তারিখের রশিদ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা উত্তেজিত হয়ে দোকান কর্মচারীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। তারা জোরপূর্বক অস্ত্র ও গুলি দোকানে রেখে দিয়ে পিছনের তারিখের জমা দানের রশিদ নিয়ে যায়।  জিডিতে আরো বলা হয়, তারা কোন অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুন্ন করতে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

গতকাল এ বিষয়ে ফারুক আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আর্মস মিউজিয়ামে অস্ত্র জমা দেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, অস্ত্র তো জমা দিয়েছি। কিন্তু এ ঘটনায় অস্ত্রের দোকান মালিক যে থানায় জিডি করেছে, তা তার জানা নেই। বিষয়টি পুলিশও তাকে জানায়নি।  এ ব্যাপারে শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, গত মাসে এক অস্ত্রের দোকানের মালিক জিডি করেছেন। জিডি তদন্ত করা হচ্ছে।  এ ব্যাপারে বেরাইদ ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গত ২২ এপ্রিল ভাগ্নে ফারুকের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী শটগান ও পিস্তলে সজ্জিত হয়ে বেরাইদে তার বাড়ির সামনের মোড়ে পরিবারের সদস্য ও সমর্থকদের ওপর এক তরফা গুলি চালায়। এতে ৯ জন গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তার ছোট ভাই কামরুজ্জামান দুখু মারা যায়। সন্ত্রাসীরা হামলায় লাইসেন্সকৃত শটগান ও পিস্তল ব্যবহার করেছে কিনা তা পুলিশের কাছে তদন্তের দাবি করা হয়েছে।

বিশেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.