মঙ্গলবার ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ ২০ নভেম্বর, ২০১৮ মঙ্গলবার

ঈদকে সামনে রেখে বাজারে ৫০ কোটি টাকার জাল নোট

বিশেরবাঁশী ডেস্ক: জাল নোটের কারবারিদের দৌরাত্ম নিয়ন্ত্রনে বিপাকে পড়েছে প্রশাসন। এসব কারবারিরা বার বার আটক হলেও আইনের ফাঁক ফোকরের কারণে পার পেয়ে যাচ্ছে। ছাড়া পেয়ে আবার শুরু করছে তাদের কারবারি। প্রশাসনের তথ্যমতে তাদের গ্রেফতার করা হলেও ৮০ শতাংশ জামিনে মুক্তি পেয়ে পরবর্তী সময়ে আবারও নিয়োজিত হচ্ছে জাল নোটের ব্যবসায়। ঈদ এলেই তাদের সিন্ডিকেট সারাদেশে সক্রিয় হয়ে ওঠে। গোয়েন্দা সংস্থা ধারণা করছে, ঈদকে সামনে রেখে সারাদেশে প্রায় ৫০ কোটি টাকার জাল নোট বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা করেছে জাল নোট ব্যবসায়িরা। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এক কোটি টাকার জাল নোটসহ ১০জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাদের কাছ থেকে আরও প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকার জাল নোট তৈরির কাগজ ও বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, জাল টাকা বেশিরভাগ কারবারিকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা জেল হাজতে আছে। বর্তমানে যারা বাইরে আছে তাদেরকে গ্রেফতারে কাজ করছে। উদ্ধার হওয়া জাল টাকা আগের টাকার চেয়ে অনেক বেশি নিখুঁত উলে­খ করে তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া জাল টাকাও নিরাপত্তা সুতা স্থাপন করা হয়েছে। এসব নিরাপত্তা সুতা তারা কিভাবে যোগাড় করেছে সেই ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সাধারণ চোখে বোঝা খুবই কঠিন যে এটা জাল টাকা। তবে অরজিনাল টাকা কিছুটা খসখসে এবং জাল টাকা বেশি মসৃণ বলে তিনি জানান।

গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন শাখায় সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের এই অতিরিক্ত কমিশনার জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাল টাকা তৈরি ও বাজারে বিক্রি চক্রের দশজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন রফিক, জাকির, হানিফ, খোকন ওরফে শাওন, রিপন, মনির, সোহরাব, জসিম, রাজন শিকদার ওরফে রাজা ওরফে রাজু ও রাজুর স্ত্রী লাবনী। রাজুর কাপড়ের ব্যবসার আড়ালে বাসা ভাড়া করে নিজের বাসায় জাল টাকা তৈরির টাকশাল বানিয়েছিল।

অতিরিক্ত কমিশনার জানান, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে জাল টাকা তৈরির মূলহোতা রফিক। রফিক জাল টাকা তৈরির গুরু নোয়াখালী ছগির মাষ্টারের সহযোগি হিসাবে এক সময় কাজ করতো। এক পর্যায়ে সে নিজেই সরঞ্জামাদি কিনে রাজুর মাধ্যমে রাজধানীর কদমতলী থানাধীন পূর্ব জুরাইন বউ বাজার এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে জাল টাকা তৈরি শুরু করে। গ্রেফতার হওয়া জাকির জাল টাকা তৈরির মূল কারিগর। সে জাল টাকা তৈরির বিশেষ ধরনের কাগজে বিভিন্ন রকমের জলছাপ এবং নকল নিরাপত্তা সুতা স্থাপন করত।

তিনি আরো বলেন, উৎপাদকের এক লাখ টাকা তৈরি করতে খরচ হয় প্রায় ১০ হাজার টাকা। তারা পাইকারি বিক্রেতার কাছে ১ লাখ টাকা ১৪-১৫ হাজার টাকায় বিক্রয় করে। পাইকারি বিক্রেতা ১ম খুচরা বিক্রেতার নিকট বিক্রয় করে ২০-২৫ হাজার টাকা, ১ম খুচরা বিক্রেতা ২য় খুচরা বিক্রেতার নিকট বিক্রয় করে ৪০-৫০ হাজার টাকায় এবং ২য় খুচরা বিক্রেতা মাঠ পর্যায়ে সেই টাকা আসল এক লাখ টাকায় বিক্রয় করে।

বিশেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: অপরাধ ও দুর্নীতি

Leave A Reply

Your email address will not be published.