বুধবার ৪ আশ্বিন, ১৪২৫ ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বুধবার

মাদক নিয়ে হঠাৎ কঠোর হয়নি সরকার, মৃত্যু কাম্য নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশেরবাশী ডেস্ক: দেশবাপী চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহতের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, অভিযানে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাউন্টার অ্যাকশন নেয়। কোনো মৃত্যুই কাম্য নয়। এ ছাড়া সরকার হঠাৎ করেই মাদক নিয়ে কঠোর হয়নি বলেও জানান তিনি।মাদকবিরোধী অভিযান এবং ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহতের ঘটনায় দেশ এবং দেশের বাইরে সমালোচনার মধ্যেই পরিবর্তন ডটকমের সঙ্গে আলাপচারিতায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বন্দুকযুদ্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা মোটেই কঠোর না। আমরা কোনো কঠোর কাজ করছি না। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো- এনএসআই, ডিজিএফআই, র‍্যাবের ইন্টিলিজেন্স এবং মাদকের ইন্টিলিজেন্সসহ সবক’টি সংস্থা মাদক সংশ্লিষ্টদের একটি তালিকা তৈরি করেছে। এই তালিকায় কমন যারা, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী অনুসন্ধানে নেমেছে। তাদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যবস্থা নিচ্ছে।’

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের কারাগারগুলোতে যেখানে ৩৫ হাজার বন্দির ধারণ ক্ষমতা, সেখানে ৮৫ হাজার বন্দি রয়েছে। এদের মধ্যে একটি বড় অংশ মাদকের কারণে কারাগারে। সেখানে উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। অনেকের বিচার চলমান। আমরা তিন হাজার লোককে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিচার করে কারাগারে পাঠিয়েছি। তিনি বলেন, আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী যাদের সন্দেহ করছে, তাদের মধ্যে যারা সারেন্ডার (আত্মসমর্পণ) করছে তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করছে। অনেকে আবার পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকের সঙ্গে অবৈধ টাকা এবং সন্ত্রাস জড়িত। তাদের টাকার পরিমাণ এতো বেশি থাকে যে, তা দিয়ে তারা অবৈধ অস্ত্র এবং অবৈধ সব কিছু রাখে। মাদকবিরোধী অভিযানে তারা নিজেদের রক্ষার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি করে থাকে। বন্দুকযুদ্ধের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, যতোগুলো ঘটনা ঘটেছে তার সবগুলোই একই ধরনের ঘটনা। এগুলো করলেই আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী চ্যালেঞ্জ করছে এবং আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী কাউন্টার অ্যাকশন নেয়। এজন্যই হতাহত হচ্ছে।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আমরা মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতাও চালাচ্ছি। আমরা বলছি- আপনার ভাই, সন্তান কী করছে আমাদের জানান। আমাদেরকে সারা দেশের মানুষ সহযোগিতা করছে। আমরা স্কুল-কলেজে সচেতনতা কর্মসূচি চালাচ্ছি। সবাইকে বোঝাচ্ছি- যেন মাদকের কারণে আরেকটা ঐশী তৈরি না হয়। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র খুলেছি। মাদক চিকিৎসায় আমরা বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্র খুলেছি। রাজধানীর তেজগাঁয় একটা বড় নিরাময় কেন্দ্র খুলেছি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই যে ঘটনাগুলো ঘটছে, সেগুলোতে হত্যা করার কোনো উদ্দেশ্য আমাদের নেই, এটা কাম্যও নয়। কোনো মানুষই কাউকে হত্যা করতে পারে না। বাধ্য হয়েই ঘটনাগুলো নিরাপত্তা বাহিনীর জীবনরক্ষার জন্য ঘটছে। তিনি বলেন, এগুলোর জুডিসিয়াল ইনকোয়ারি (বিচার বিভাগীয় তদন্ত) হচ্ছে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে। সেখানে যদি কোনো অনিয়ম বা কোনো অন্য ধরনের ঘটনা কেউ ইচ্ছাকৃত করে থাকে, তাহলে তার শাস্তির বিধান এবং তার জন্য ব্যবস্থা থাকছে। কক্সবাজারের টেকনাফের কাউন্সিলর একরামের ঘটনা কি চলমান মাদকবিরোধী অভিযানকে থমকে দিয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে বলেন, এগুলোর সবগুলোরই তদন্ত হচ্ছে। তদন্তের আগে আমরা কিছু বলতে পারব না। সেখানে দুই ধরনের কথাই আসছে। তদন্তের পর বলা যাবে।

একরাম নিহতের পর বেরিয়ে আসা অডিও রেকর্ড প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবই উঠে আসছে, তদন্ত হচ্ছে। আমরা কিছু না দেখে না জেনে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আমরা যদি সেখানে কারও কোনো সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাই, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। প্রসঙ্গত, দেশব্যাপী চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় দেড়শ’ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তাদের বেশিরভাগের বিরুদ্ধে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ ছিল। প্রতিটি নিহতের ঘটনাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘ক্রসফায়ার’ বা ’বন্দুকযুদ্ধ’ বলে দাবি করেছে। তবে নিহতদের পরিবার এবং মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, গ্রেফতারের পর পরিকল্পিতভাবে তাদেরকে ‘ক্রসফায়ারে’ দেয়া হচ্ছে।

বিশেরবাশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: জাতীয়

Leave A Reply

Your email address will not be published.