বুধবার ৪ আশ্বিন, ১৪২৫ ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বুধবার

স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে বিএনপির দুঃখ কেন?

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ সরকারই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মালিক। এটা যারাই ভাড়া নিবে, যেটুকু ভাড়া নিবে- সে সেই টুকুরই মালিক হবে। দুইজন ব্যক্তি তো এর মালিক হতে পারে না। মালিকানা নিয়ে যারা প্রশ্ন তোলে তারা অর্বাচীন। তাদের (বিএনপির) চিন্তা ভাবনা এত সংকীর্ণ কেন? দেশের একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হলো, দেশে বিদেশে সব জায়গায় মানুষ খুশিতে উদ্বেলিত। তাহলে বিএনপির কেন দুঃখ?

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার সকালে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে ভিন্ন ভিন্ন সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এর আগে যখন এই অঞ্চলে সাবমেরিন ক্যাবল এসেছে, তখন ভারত, মায়য়ানমার, থাইল্যান্ডে নিয়েছে। তখন তারা বিনা পয়সায় দিয়েছে। বিএনপি নিল না। এভাবে আমাদের বিশ্বের সাথে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হলো। আমরা এখন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট- ২ নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছি। এরপর আমরা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট- ৩ নিয়ে কাজ করবো। সমুদ্রের তলদেশ থেকে মহাকাশ পর্যন্ত জয় করে বাংলাদেশ এখন উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত। বাংলাদেশের মানুষকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারেনি, পারবেও না।

দেশের এই অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতা যেন অব্যাহত থাকে সেজন্য দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মালিকানা নিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বেগম ফজিলাতুন নেসা বাপ্পী। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ পর নতুন কোনো চিন্তাভাবনা আছে কিনা জানতে চান স্বতন্ত্র এমপি রুস্তম আলী ফরাজী।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, যাদের দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি ন্যূনতম ভালবাসা নেই, দেশের স্বাধীনতায় যারা বিশ্বাস করে না, তারাই (বিএনপি) অর্বাচীনের মতো স্যাটেলাইটের মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

এসময় তিনি বলেন, আমরা গত ৯ বছরে দেশকে মহাকাশে নিয়ে যেতে পেরেছি। আমরা যেমন সমূদ্রের তলদেশে পৌঁছাতে পেরেছি। তেমনি মহাকাশেও পৌঁছাতে পেরেছি। সুতরাং আমি বলবো বাংলাদেশের মর্যাদাকে উচ্চ আসনে পৌঁছে দিতে পেরেছি। এখন সাগরের তলদেশ থেকে মহাকাশ পর্যন্ত বাংলাদেশের মর্যাদা উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত করতে পেরেছি। দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই, এই অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতা যেন অব্যাহত রাখতে পারি।

মালিকানা প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকারই এটার (বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১) মালিক। যেভাবে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মালিকানা হয়। আমরা ইতোম্যধ্যে এর ব্যবহারে কথা বলেছি। স্যাটেলাইট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে যেহেতু বিভিন্নভাবে ব্যবহার হবে, যেমন টেলিমেডিসিন, ডিটিএইচ। এসব ক্ষেত্রে যে যতটুকু ভাড়া নেবে সে সেইটুকুর মালিক হবে, দু’জন ব্যক্তি তো এটার মালিক হতে পারে না। এ ধরণের মন্তব্য করাটাও অত্যন্ত লজ্জাজনক।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার আছে। বাংলাদেশের প্রয়োজন হবে ২০টি, বাকী ২০টি আমরা ভাড়া দিতে পারবো।

তিনি বলেন, একটা স্যাটেলাইটের আইয়ুষ্কাল হয় ১৫ বছর। তাই আমারা বলছি সার্কভুক্ত সকল দেশ, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, তুর্কিমেনিস্তানসহ কয়েকটি দেশে আমরা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ ভাড়া দিতে পারবো, আমরা টাকা পাব। সুতরাং দুই ব্যক্তি কিভাবে এর মালিক হলো এটা আমার বুঝে আসে না। কোনো মানুষের যদি দেশের প্রতি ভালোবাসা থাকে, যদি স্বাধীনতা বিশ্বাস করে তাহলে কেউ ওই ধরনের মন্তব্য করতে পারে না। এমন একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হলো যেখানে দেশে বিদেশে সব জায়গায় খুশিতে উদ্বেলিত। বিএনপি কেন দুঃখ?

শেখ হাসিনা আরও বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশেই বহু আগে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে, আমরা পারিনি কেন? তাদের (বিএনপির) চিন্তা ভাবনা এত সংকীর্ণ যখনই এই অঞ্চলে সাবমেরিন এসেছে, তখন ভারত, মিয়ানমার, থাইল্যান্ডেসহ সব দেশ নিয়ে নিয়েছে। তখন তারা বিনা পয়সায় সংযোগ দিয়ে ছিল শুধু ভাড়া বাবদ ৬ হাজার ডলার দিতে হবে। সে সময় বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। তখন তারা বলেছিল না এটা আমরা নিবো না। এটা নিলে দেশের সব তথ্য বাইরে পাচার হয়ে যাবে। জানি না বিএনপির কাছে সব সময় কি এমন তথ্য থাকে যা প্রচার হয়ে যাবে। এই কথা বলে আমাদের বিশ্বের সাথে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছিল।

সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সাবমেরিন সংযোগ করে বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছে। একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকারই ক্ষমতায় এসে নতুন প্রজন্মের জন্য তথ্য-প্রযুক্তির দ্বার উম্মোচন করে দেয়। বর্তমানের যে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হয়েছে, তাতেও বিরাট কাজ হবে। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ডিরেক্ট টেলিভিশনে কাজ করবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের পর থেকেই বাংলাদেশকে আত্মমর্যাদাশীল, স্বনির্ভর দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালে বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্যাটেলাইট যোগাযোগের সূচনা করে। আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রক্রিয়ায় তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব আহমেদ জয়ের উদ্যোগে মহাশূন্যে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের পদক্ষেপ গ্রহণ করি।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেহেতু একটি স্যাটেলাইটের মেয়াদ ১৫ বছর, তাই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ নির্মাণের প্রস্তুতির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিশ্বের সকল নতুন প্রযুক্তিই বাংলাদেশ গ্রহণ করে এগিয়ে যাবে। দ্বিতীয় স্যাটেলাইট নিক্ষেপের পড় তৃতীয় স্যাটেলাইট প্রস্তুত করা হবে। এভাবে ধারাবাহিকভাবে দেশকে আধুনিক প্রযুক্তির ধারায় এগিয়ে নিয়ে যাব।

ভারত সফরকালে তিস্তা ইস্যু নিয়ে জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘না বলা কথাটি রবে না গোপনে’। আর স্যাটেলাইট প্রশ্নে বলেন, আমরা স্পেস ভাড়া পাওয়ার পরই স্যাটেলাইট নির্মাণ কাজ শুরু করি। একবার স্যাটেলাইটের কাজ শুরু হলে মানুষ এর সুফল পেতে শুরু করবে। দূরুত্বের কারণে কোনো সমস্যা হবে না।

নূরজাহান বেগমের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৫ সালে বজ্রপাতকে দুর্যোগ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বজ্রপাতে জান-মালের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে সারাদেশে ১০ লাখ উঁচু গাছ (যেমন তালগাছ) রোপণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে ৩২ লক্ষাধিক তাল গাছ রোপণ করা হয়েছে। এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া জাতীয় বিল্ডিং কোডে বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ব্রিটিশ আমলে ভূমি ব্যবস্থাপনার জন্য মাটিতে স্থাপিত পিলারের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভূমিকা রাখার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

Categories: Uncategorized,জাতীয়

Leave A Reply

Your email address will not be published.