বুধবার ৪ আশ্বিন, ১৪২৫ ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বুধবার

চার কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজটের শঙ্কা

বিশেরবাঁশী ডেস্ক: এবারের ঈদযাত্রায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী থেকে কুমিল্লার দাউদকান্দি পর্যন্ত অংশের কয়েকটি স্থানে যানজট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সড়ক ব্যবস্থাপনায় ত্রুটিসহ মূলত চারটি কারণে যানজট সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তা ও চালকরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যাত্রবাড়ী থেকে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড় পর্যন্ত আট লেন হলেও কাঁচপুর সেতু এক লেন হওয়ায় সেখানে যানজটের আশঙ্কা আছে। এদিকে মেঘনা ও দাউদকান্দি টোল প্লাজায় টোল আদায়ে ধীরগতি এবং মহাসড়কের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে রেশনিং পদ্ধতিতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কারণে ঈদে ঘরমুখো মানুষের ঢল শুরু হলে মহাসড়কে যানজটের আশঙ্কা করছের ট্রাফিক বিভাগ সংশ্লিষ্টরা। এদিকে ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, ঈদের সময় এই মহাসড়কে অন্যান্য সময়ের তুলনায় সাত-আট গুণ বেশি যানবাহন চলাচল করবে। এসব কারণে মহাসড়কে যানজট বা যানবাহন চলাচলে ধীরগতি হয়ে যাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা।
আলাদা বাসস্ট্যান্ড না থাকায় সড়কেই গাড়ি থামানো হয়

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচ থেকে সিদ্ধিরগঞ্জের কাঁচপুর সেতুর আগ পর্যন্ত আট লেনের মহাসড়ক। মহাসড়কের সাইনবোর্ড থেকে সানারপাড় পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে এক লেন করে বন্ধ করে সেখানে সারিবদ্ধভাবে বাস-ট্রাক ও কার্ভাডভ্যান পার্কিং করে রাখা হয়েছে। সাইনবোর্ড এলাকায় রাস্তার ওপর গাড়ি দাঁড় করিয়ে রেখে যাত্রী ওঠা-নামা করানো হচ্ছে। এছাড়া মহাসড়ক থেকে নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন প্রবেশ করে, সেসময় একটি সড়ক সিগন্যাল দিয়ে বন্ধ রাখা হয়। এসময় রাস্তার দু’পাশে যানবাহনের লম্বা লাইন হয়। এছাড়াও শিমরাইল মোড়ে বাস-বে’ না থাকায় সব যানবাহন রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করে, যা এখানে স্বাভাবিক যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়।

এ প্রসঙ্গে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মোল্ল্যা তসলিম জানান, ‘আট লেন থেকে যানবাহন এসে কাঁচপুর সেতুতে উঠছে এক লেনে। এছাড়া কাঁচপুর সেতুটি খুব ঢালু। কাঁচপুর সেতুর নিচের রাস্তায় বাম পাশ দিয়ে অনেক সময় লোড-ট্রাক উঠছে সেতুতে। এ কারণে সেতুতে উঠতে গিয়ে যানবাহনে ধীরগতি হচ্ছে।’
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সংস্কার কাজ চলছে কিছু স্থানে তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের সময় এই যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। তখন ধীরগতির কারণে যানবহনের জট হওয়ার আশঙ্কা আছে। তবে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত সদস্যরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে, যাতে কোনও সমস্যা না হয়।’

জানা যায়, কাঁচপুর সেতুর পূর্বপাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। কিন্তু ওই জায়গায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভাসমান দোকান বসছে। সড়ক সম্প্রসারণে এ জায়গা ব্যবহার করার কথা থাকলেও কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের ওসি জানান, ‘দখলমুক্ত করা জায়গাটিতে ইটের সোলিং দিলে রাস্তাটি কাজে লাগতো। সিলেট রুট থেকে যেসব যানবাহন চট্টগ্রামের দিকে যেতো, সেগুলো সরাসরি এই জায়গা দিয়ে গিয়ে মহাসড়কে উঠতো। কিন্তু এটা না হওয়ার কারণে সিলটে রুটের চট্টগ্রামমুখী গাড়িগুলো এখন ইউর্টান নিয়ে মহাসড়কে যাচ্ছে। যে কারণে মহাসড়কের কাঁচপুর সেতুর পূর্বপাশে একটা জটলা সৃষ্ট হচ্ছে মাঝে মধ্যে।’
টোল আদায়ে বেশি সময় লাগে

তিনি বলেন, ‘ঈদের সময় যদি মহাসড়কে ভারী যানবাহনের চাপ কমে যায়, তাহলে যানজটের আশঙ্কা নেই। তবে সরু সেতুর কারণে সড়কে যানবাহনের চলাচলে একটু ধীরগতি হতে পারে।’ জানা যায়, মহাসড়কের মদনপুর চার রাস্তায় রেশনিং করে যানবাহন ছাড়তে হয় ট্রাফিক পুলিশকে। মালবাহী যানবাহন মদনপুর থেকে গাজীপুর বাইপাস সড়কে প্রবেশ করে। আবার মহাসড়ক থেকে কিছু যানবাহন মনগঞ্জ রুটে প্রবেশ করে। আবার কিছু পরিবহন আড়াইহাজার সড়কে প্রবশে করে। যে কারণে এখানে রেশনিং পদ্ধতিতে যানবাহন চলাচল করে। অনেক সময় যানবাহনের চাপে প্রায়ই এই মদনপুর যানজট সৃষ্টি হয়।

এছাড়াও মেঘনা সেতুতে টোল আদায়ে ধীরগতির কারণে প্রতি ঈদের সময় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পাঁচটি লেন দিয়ে আসা যানবাহনের টোল আদায়ের পর মেঘনা ও দাউদকান্দি সেতুতে উঠছে এক লেনে গিয়ে উঠতে হয়। টোল পরিশোধ করে সেতুতে উঠতে গিয়ে ধীরগতির কারণে যানজট সৃষ্টি হয়, যা অনেক সময় মদনপুর ছাড়িয়ে যায়। যানজটের কারণ হিসেবে হানিফ পরিবহনের একজন চালক মোক্তার হোসেন জানান, ‘ঈদের সময় মহাসড়কে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে যানবাহন আট-দশ গুণ চাপ বেড়ে যায়। বিভিন্ন লোকাল সড়কের যানবাহন রিজার্ভ করে মানুষ কুমিল্লা,ফেনী,চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘টোল আদায়ের ধীরগতি ও স্কেলে ওজন মাপা নিয়ে ড্রাইভারদের টানাপড়েনের কারণেও যানজট সৃষ্টি হয়। মাত্র ১০ মিনিটের সড়ক পার হতে দুই-তিন ঘণ্টা লেগে যায়। যানজট ছড়িয়ে পড়ে ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে।’ এখানে সরকারের শক্ত মনিটরিং ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
সড়কে এলোমেলো গাড়ি চালানো

আরেকজন চালক সাব্বির আহমেদ জানান, দুই সেতুতে টোল আদায়ে ধীরগতি ও স্কেল মেশিনে নিয়োজিত কর্মকর্তা কর্মচারীদের অনিয়ম যানজটের অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, ‘দ্রুত গতিতে টোল আদায় ও স্কেল মেশিনের দুনীতি না হলে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরালো হলে এই সড়কে যানজটের কোন কারণ দেখছি না।’

এ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ মেঘনা ও দাউদকান্দি সেতুর টোল আদায়ে নিয়োজিত কম্পিউটার সিস্টেম নেটওয়র্কের (সিএনএস) জেনারেল ম্যানেজার মেজর (অব.) জিয়াউর রহমান জানান, ‘এবার টোল আদায় দ্রুত করার জন্য টোল প্লাজাকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। টাচ অ্যান্ড গো সিস্টেম চালু করা হয়েছে। টোল পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট পরিবহনকে সমপরিমান টাকা প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। টোল বুথও বাড়ানো হয়েছে।’ তবে স্কেল মেশিনের ওজন নিয়ে দুর্নীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কেউ অনিয়মে জড়িত হলে, পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

যানজটের ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি এ্যাডভোকেট এ বি সিদ্দিক জানান, ‘মহাসড়কে শৃঙ্খলা মেনে যানবাহন চলাচল করলে যানজট হওয়ার কোনও কারণ নেই। কিন্তু একটু সমস্যা হলেই চালকরা একে অপরকে ওভারটেকিং করতে শুরু করে, এক লেনে না থেকে চার-পাঁচ লেনে গাড়ি ছড়িয়ে রাখে। আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতা ও উল্টোপথে গাড়ি চালানোর কারণেই জট সৃষ্টি হয়। চালকরা সহনশীল হলে যানজটের সমস্যার দ্রুত সমাধান হতো।’ তিনি আরও বলেন, ‘টোল আদায়ের সিস্টেম আধুনিকায়ন হলেই এই সমস্যা কমে যাবে।’

বিশেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.