রবিবার ৮ আশ্বিন, ১৪২৫ ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রবিবার

আনন্দের স্টেডিয়াম এখন আতঙ্কের কারণ

বিশেরবাঁশী ডেস্ক: নুসরাত জাহান সুপ্তি (প্রেস নারায়ণগঞ্জ):নারায়ণগঞ্জের একমাত্র ক্রিকেট স্টেডিয়াম খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম দীর্ঘদিন ধরে পানিতে তলিয়ে আছে। তার উপর বৈদ্যুতিক আলো সরবরাহ না থাকায় সন্ধ্যা হলেই ভুতড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ভয়ে লোকজন এর কাছেও যান না। রীতিমত এলাকাবাসীর কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে এই স্টেডিয়ামটি। অথচ এই স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ম্যাচসহ স্থানীয় ক্লাবের অনেক খেলা হত। যা এখন পুরোপুরি ভাবে স্থগিত। সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জকে বিশ্বের ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে পরিচিত করার পেছনে সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম অন্যতম। বর্তমানে নানা সমস্যায় জর্জরিত গুরুত্বপূর্ন এই ক্রিকেট ভ্যানুটি। যার বর্তমান অবস্থা মোটেও সম্মানজনক নয়।

মঙ্গলবার (৫ জুন) সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্টেডিয়ামের বাহিরে পুরো অংশ জলাবদ্ধতায় ঘিরে আছে। জলাবদ্ধতার সাথে সাথে স্থানীয় শিল্প কারখানা থেকে আসা রাসায়নিক মিশ্রিত বর্জ্য পানিতে বর্তমান অবস্থা খুবই শোচনীয়। এছাড়াও ইনডোর স্টেডিয়াম যেখানে খেলোয়াররা চর্চা করেন সেই স্থান এখন ভঙ্গুর কক্ষে পরিনত হয়েছে। মাঠে খেলাধুলা করার মত কোন ব্যবস্থা নাই।
রাত হলেই স্টেডিয়ামের দেখা যায় অন্য এক রূপ। রাস্তা দিয়ে গেলে বোঝার কোন উপায় নাই সামনে কোন স্টেডিয়াম আছে। দেখলে বিরাট এক জঙ্গলের কথা মনে পড়ে। স্টেডিয়ামে গেটে কিংবা ভিতরে নাই কোন আলোর ব্যবস্থা। ফলে ভিতরের অবস্থা দেখা যায় না। রাতের আধারে অন্ধকারে স্টেডিয়ামে এক ভুতুরে পরিবেশের সৃষ্টি হয়। যা এলাকাবাসীর জন্যও আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে।

খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের পূর্বের ইতিহাস গৌরবের। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট খেলার মাধ্যমে এই স্টেডিয়ামের অগ্রগতি হলেও গত বছর এই মাঠে জলাবদ্ধতার কারণে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের অনুশীলন ম্যাচটি হয়নি। স্টেডিয়ামের জলাবদ্বতা নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠলেও সমাধান পাওয়া যায়নি কোন প্রশ্নের। এ বছর প্রথম বৃষ্টিতেই স্টেডিয়ামের চারেপাশে আবারও হাটুঁ সমান পানি। একমাসের বেশি সময় যাবৎ পানি জমে আছে। নিস্কাশনের নাই কোন ব্যবস্থা। দুই বছরে স্টেডিয়ামের যে রূপ হয়েছে সেই দৃশ্য দেখলে মাঠকে মাঠ নয় ময়লা আবর্জনায় পরিপূর্ন একটি খাল বলা যায়। মাঠের এই অবস্থার ফলে নারায়ণগঞ্জের খেলাধুলার বিরাট এক অঙ্গ এখন প্রায় অকেজো। কারণ স্থানীয় খেলোয়ারদের চর্চা করার অন্যতম স্থান হলেও যার ব্যবস্থা এখন আর নাই।

ডন চেম্বার এলাকার একজন ক্রিকেট প্রেমী রিফাত বলেন, ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান স্টেডিয়ামের যে তা আর কি বলব। আমাদের এখানে ফতুল্লার এত বড় স্টেডিয়াম থাকতে আন্তজার্তিক খেলা দেখি মিরপুরে গিয়ে। এমনকি চট্রগ্রামে গিয়েও ম্যাচ দেখছি। কিন্তু আমাদের এখানে খেলা হয় না! আমাদের এই স্টেডিয়ামে এর আগে ১০টা ওয়ানডে , ৪ টা টি-টুয়েন্টি, ২টা টেস্ট ম্যাচ হইছে। কয়েক বছর যাবৎ বন্ধ। কেন বন্ধ? কারন এটার দেখাশোনা হয় না বিধায় আজকে স্টেডিয়ামের এই পরিনতি।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারনণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ টিটু এর সাথে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি বলেন, কিছুদিন পূর্বে এই স্টেডিয়াম নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের যৌথ একটা সভা হয়েছে। সেখানে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বুয়েটের ইঞ্জিনিয়ার (প্রকৌশল) মাধ্যমে মাঠকে কিভাবে সারাবছর পানি মুক্ত রাখা যায় তার পরিকল্পনা করা হবে। যার পুরো অর্থ ব্যয় বহন করবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এটা আমাদের আওতা ভুক্ত হলে আমরা আমরা ব্যবস্থা করতাম। চারিদিকে পানি জমে থাকার কারনেই স্টেডিয়ামের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আর ডিএনডি প্রজেক্টেরও কাজ শুরু হলেই মাঠের পানিও থাকবে না মনে করি। স্টেডিয়ামের দায়িত্ব ও পরিচালনা সংক্রান্ত সকল কাজের দায়িত্ব বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের। তারা যে কেন এখনো সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি , সেটা তারাই ভাল বলতে পারবে।

বিশেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: খেলাধূলা,সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.