মঙ্গলবার ২৯ কার্তিক, ১৪২৫ ১৩ নভেম্বর, ২০১৮ মঙ্গলবার

সরকারের শেষ বছরের মেগা বাজেট পাসে প্রস্তুত সংসদ

বিশেরবাঁশী ডেস্ক: দশম জাতীয় সংসদের ২১তম অধিবেশন আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বসছে। এটি চলতি বছরের তৃতীয় এবং দশম সংসদের ২১তম এবং বর্তমান সরকারের শেষ কাজেট অধিবেশন। এই অধিবেশনেই আগামী ৭ জুন ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ২৮ জুন বাজেট পাস হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনী বছরের অধিবেশনটিকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংসদ সচিবালয়। অধিবেশন শুরুর আগে সকাল ১০টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে কার্যোপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশনটি ঠিক কতদিন চলবে এবং কোন কোন বিষয়ে আলোচনা হবে তা চূড়ান্ত করা হবে।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, ২১তম এই অধিবেশনটি হবে দীর্ঘতম। বাজেটের ওপর প্রায় ৪৫ থেকে ৬০ ঘণ্টার সাধারণ আলোচনা চলবে। তাই এ অধিবেশনটি আগামী জুলাই মাস পর্যন্ত চলতে পারে। সংসদের অন্যান্য অধিবেশন বিকেলে বসলেও রোজার মাস হওয়ায় এ অধিবেশনের কার্যক্রম দিনের প্রথমভাগে শুরু হবে। ঈদের পর সকাল বিকেল দুই বেলায় বসবে অধিবেশন। বাজেট পেশের আগে সংসদ ভবনে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অর্থ বিলের অনুমোদন দেয়া হবে। পরে তাতে অনুমোদন দিয়ে স্বাক্ষর করবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ওই সময় সংসদ ভবনেই অবস্থান করবেন তিনি। এ ছাড়া অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তব্য নির্ধারিত গ্যালারিতে বসে দেখবেন আবদুল হামিদ।

গত বছর বাজেট অধিবেশন ২৪ কার্যদিবসের ছিল। ৩০ মে অধিবেশন শুরু হয়। আর ১ জুন ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। এরপর প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সরকারি দল ও বিরোধী দলের এমপিরা ৫১ ঘণ্টা ৪৭ মিনিট আলোচনা করেন। এ ছাড়া সম্পূরক বাজেটের ওপর ৪ ঘণ্টা ২৭ মিনিট আলোচনা হয়। সব মিলিয়ে বাজেটের ওপর ৫৭ ঘণ্টা ১৪ মিনিট আলোচনা হয়।

সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদের শেষ বাজেটের সম্ভাব্য আকার ৪ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। ইতিমধ্যে আগামী অর্থবছরের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে। এডিপিতে আগামী ১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য একনেক মোট ১ লাখ ৮০ হাজার ৮৬৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে মূল এডিপি হচ্ছে- ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। মূল এডিপির সঙ্গে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ থাকবে ৭ হাজার ৮৬৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এডিপিতে চারটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- সবার স্কুলে উপস্থিতি, ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীতকরণ, ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং ২০২১ সালের মধ্যে সবার জন্য বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করা। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পদ্মা সেতু এবং পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনা করে নতুন বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে পরিবহন খাতে। এ ছাড়া অগ্রাধিকার বিবেচনায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ বিদ্যুৎ এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ভৌত পরিকল্পনা-পানি সরবরাহ ও গৃহায়ন খাতে।

এদিকে বাজেট অধিবেশনে আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল ও সংবিধান সংশোধনী বিলসহ ১৭টি বিল উত্থাপন ও পাসের অপেক্ষায় রয়েছে। গতকাল সোমবার পর্যন্ত প্রাপ্ত নোটিশ অনুযায়ী বিলগুলোর মধ্যে পাসের অপেক্ষায় রয়েছে ৪টি বিল, কমিটিতে পরীক্ষাধীন ৭টি ও উত্থাপনের অপেক্ষায় ৬টি বিল রয়েছে। এদিকে বাজেট অধিবেশনকে ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে সংসদ সচিবালয়। সংসদ গ্যালারির সাউন্ড সিস্টেম ঠিক করা হয়েছে। আর অধিবেশন কক্ষের কার্পোট পরিবর্তন করা হয়েছে। চেয়ারগুলো মেরামত করে নতুন করে সাজানো হয়েছে। সংসদের ভেতরে বাইরে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করা হয়েছে। সংসদে প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ বলেন, বাজেট অধিবেশনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সংসদ গ্যালারির সাউন্ড সিস্টেম ঠিক করা হয়েছে। এমপিদের সহযোগিতার জন্য বসানো হয়েছে হেল্প ডেস্ক। এমপিদের ডেস্কে দেয়া হয়েছে মডেমসহ ল্যাপটপ। এর মাধ্যমে তারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে যাবতীয় তথ্য পাবেন। যা তাদের বাজেট বক্তৃতার জন্য সহায়ক হবে। সরকার ও বিরোধী দলের আলোচনায় এবারের বাজেট অধিবেশন প্রাণবন্ত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিশেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: জাতীয়,সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.