শুক্রবার ২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ ১৬ নভেম্বর, ২০১৮ শুক্রবার

চাঁদপুরে মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রীকে কুপিয়ে হত্যা

বিশেরবাঁশী ডেস্ক: চাঁদপুর শহরের গল্লাক ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্রীয় মহিলা লীগের সদস্য শাহীন সুলতানা ফেন্সিকে (৫০) হত্যা করা হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের পাকা মসজিদ এলাকায় নিজ বাড়িতে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে ধারণা করছে পুলিশ। নিহত শাহীন সুলতানা ফেন্সি জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলামের স্ত্রী।

ফেন্সির ভাই ষোলঘর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু নঈমের অভিযোগ করে বলেছেন, ফেন্সির স্বামী আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম তাকে হত্যা করেছে। কারণ, জহিরুল ইসলাম কয়েক বছর আগে আরেকটি বিয়ে করেছেন। সেটি নিয়ে পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। আরেক ভাই ফোরকান বলেন, এ হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত। তিনিও জানান, দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে তাদের সংসারে ঝামেলা ছিল। সে কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।

তবে ফেন্সির স্বামী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম বলেছেন, আমি বাসায় ছিলাম না। বাসায় এসে দেখি রুমের দরজা খোলা। রুমের মেঝেতে তার দেহ পড়ে আছে। পরে আমার চিৎকারে লোকজন ছুটে আসে। স্বজনরা জানান, তাদের দাম্পত্য জীবন ২০ বছরেরও বেশি। তাদের তিন মেয়ের মধ্যে দু’জন দেশের বাইরে আরেকজন কুমিল্লা মেডিকেলে পড়ছে। হত্যাকাণ্ডের শিকার ফেন্সি একজন সদালাপী মানুষ ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের সক্রিয় একজন কর্মী ছিলেন। এ বিষয়ে চাঁদপুর জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। ঘটনা আমরা খতিয়ে দেখছি।

এদিকে ফেন্সির নিহত হওয়ার খবর পেয়ে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুল লতিফ, সম্পাদকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন তার বাসায় ছুটে যান। এসময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল বলেন, এটি একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। আমরা হতবাক। চাঁদপুর জেলা মহিলা লীগ নেত্রী ফরিদা ইলিয়াছ বলেন, তিনি ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে তিন দশকেরও বেশি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।

বিশেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: অপরাধ ও দুর্নীতি,সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.