বুধবার ৪ আশ্বিন, ১৪২৫ ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বুধবার

রাস্তা বানাতে বাংলাদেশের ব্যয় নিউইয়র্কের চেয়ে বেশি: সিপিডি

বিশেরবাঁশী ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি রাস্তা নির্মাণে যে ব্যয় হয়, বাংলাদেশে রাস্তা বানাতে তার চেয়ে বেশি ব্যয় হয় বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)। প্রকল্পের ব্যয় অতি মূল্যায়নের কারণেই এটি হচ্ছে কিনা তা সরকারকে পর্যবেক্ষণ করতে পরামর্শ দিয়েছেন গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। রোববার রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি-২০১৭-১৮’ শিরোনামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এ তথ্য জানান।

দেশের উন্নয়ন ব্যয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এক কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করতে গিয়ে কত টাকা ব্যয় হয়, সেটা আমাদের জানা আছে। এটা যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের চেয়ে অনেক বেশি। বাংলাদেশে আরও বড় বড় ৩/৪টা মেগাপ্রকল্প চলছে, তার ব্যয় বিশ্লেষণ করলেও একই তথ্য পাওয়া যাবে। দেবপ্রিয় বলেন, আমরা যতটা না উন্নয়ন ব্যয় নিয়ে চিন্তিত থাকি, তার চেয়ে বেশি চিন্তার বিষয় এর গুণমান সম্পর্কিত। এটা এখন প্রকাশ্য যে, যে ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে, সেটি দীর্ঘ সময় ধরে বাস্তবায়নের ফলে তার প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি বলেন, একটা হচ্ছে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মূল্যস্ফীতিকে সামনে বিবেচনায় নিয়ে ব্যয় বৃদ্ধি হয়। আরেকটি বিষয় হচ্ছে- প্রথমে আপনি এক টাকা তিন টাকা ধরে ব্যয় বাড়ালেন কিনা? সিপিডির বিশেষ ফেলো বলেন, একটা বিষয় হচ্ছে সাম্প্রতিককালে দশকব্যাপী বাংলাদেশ যে সামষ্টিক স্থিতিশীলতা ভোগ করে আসছে, সেই সামষ্টিক স্থিতিশীলতার ভেতরে কিছু ক্ষেত্রে চিড় দেখা দিচ্ছে। এর ফলে আগামী দিনে বেশ কিছু উদ্বেগজনক প্রবণতা লক্ষ্য করছি।

‘দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে- বিগত সময়কাল ধরে আমরা একটি শোভন প্রবৃদ্ধির ধারার মধ্যে আছি। এই শোভন প্রবৃদ্ধির ধারা বাংলাদেশে যথোপযুক্ত আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং বৈষম্য বিলোপের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারছে না। এর পেছনে বড় কারণ হচ্ছে- যতখানি প্রবৃদ্ধির মাত্রা নিয়ে আলোচনা, তার চেয়ে অনেক বেশি প্রবৃদ্ধির চরিত্র নিয়ে আলোচনা। অর্থাৎ এক্ষেত্রে আমরা ফল দেখতে পাচ্ছি না’ যোগ করেন তিনি।

দেবপ্রিয় বলেন, বাংলাদেশ এই মুহূর্তে রাষ্ট্রের আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্রে যতখানি না সমস্যা আছে, তার চেয়ে অনেক বেশি সমস্যা রাষ্ট্রের সঙ্গে বা বহির্বিশ্বের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে যেটা বিদ্যমান। তুলনীয় দেশের চেয়ে বাংলাদেশের আয়-ব্যয় এখনও অনেক কম। কিন্তু বাজেট ঘাটতি বা আর্থিক ঘাটতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে। কারণ এটা ৫ শতাংশের নিচে থাকছে।

তিনি বলেন, সিপিডির মূল আশঙ্কার জায়গাটি হলো- এটার অর্থায়নের ক্ষেত্রে অতি পরিমাণে জাতীয় সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে করা হচ্ছে। জাতীয় সঞ্চয়পত্রের সুদের ওপর এই যে নির্ভরশীলতা এ বছর হয়েছে, যখন কিনা বিদেশি ঋণ গত বছরের চেয়ে বেশি এসেছে। অর্থাৎ অর্থায়নের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ নির্ভরশীলতা কিন্তু সেই অর্থে যাচ্ছে না। কিন্তু তারপরও আর্থিক খাত নিয়ে যে বড় ধরনের উদ্বেগ আছে, এর চেয়ে বেশি উদ্বেগ আছে বৈদেশিক খাত নিয়ে।

দেবপ্রিয় বলেন, ইদানিং আমাদের সামগ্রিক বাণিজ্যিক লেনদেনের ঘাটতি বেড়েছে। একইসঙ্গে চলতি হিসাবেও বৈদেশিক লেনদেনে ঘাটতি বেড়েছে। রফতানি, রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক সাহায্য বেড়েছে কিন্তু তারপরও ঘাটতি বেড়েছে। এরপর বড় কারণ হলো আমদানি। তিনি বলেন, রেমিট্যান্স ও রফতানি যথাক্রমে ১৭ দশমিক ৪ ও ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, সেখানে আমদানি ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পেয়েছে ২৪ দশমিক ৫ শতাংশ। এটা এক প্রকার ছাদ ফুঁড়ে চলে যাওয়ার মতো।

সিপিডির বিশেষ ফেলো বলেন, আমাদের আর্থিক খাতের উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। কিন্তু বৈদেশিক লেনেদের পরিস্থিতি খুব আশঙ্কাজনক পর্যায়ে গেছে। এটার ফলে টাকার মূল্যমান বাড়তে থাকবে। এতে কিছু রফতানিকারক হয়তো সাময়িক খুশি হবে। তবে অবধারিতভাবে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির ফলে মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়িয়ে দেবে। ফলে মজুরি বাজারে চাপ সৃষ্টি হবে।

তিনি বলেন, সরকার আগামীতে গার্মেন্টস খাতের মজুরি পুনর্বিবেচনা করবে। এগুলোর ওপর আরও চাপ বাড়বে। টাকার মূল্য হ্রাসের ফলে যদি মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকে, তবে অবধারিতভাবে সুদের হারও বাড়বে। কারণ প্রকৃত সুদের হার নির্ভর করে দেশের মূল্যস্ফীতির হার কত তার ওপর। ফলে এক ধরনের দুষ্টচক্রের মধ্যে ঢুকে গেছে বৈদেশিক খাত।

বিশেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: আন্তর্জাতিক,সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.