বৃহস্পতিবার ১ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ ১৫ নভেম্বর, ২০১৮ বৃহস্পতিবার

আফগানদের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ টাইগারদের

বিশেরবাঁশী ডেস্ক: শেষ পর্যন্ত শঙ্কাগুলোই সত্যি হলো। দেরাদুনের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে আফগানিস্তান জটিল এক ধাঁধাঁ হয়েই দেখা দিল টাইগারদের সামনে। যে ধাঁধাঁ মেলাতে অসহায় সাকিব আল হাসানের বাংলাদেশ। যে রশিদ খানকে নিয়ে এতো আলোচনা সেই রশিদ সত্যিকার অর্থেই জম হয়ে দৃশ্যপটে। নবীন মুজিব উর রহমান, অভিজ্ঞ মোহাম্মদ নবীকে ঠিকঠাক খেলতে পারল না বাংলাদেশ। যার যোগফল- তিন ম্যাচ টি-টুয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে ৪৫ রানে সূচনীয় পরাজয় বরণ বাংলাদেশের। ঠিক অসহায় আত্মসমর্পণ যাকে বলে।

রোববার টস জিতে আগে ফিল্ডিং বেছে নিলেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশি বোলারদের শাসন করেই নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬৭ রান করলো আফগানরা। যার জবাবে ১ ওভার বাকি থাকতেই মাত্র ১২২ রানে শেষ বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে হাসিমুখে মাঠ ছাড়লেন নায়ক রশিদ খান। টিম বাংলাদেশের সবার চোখে মুখে রাজ্যের বিষন্নতা।

ভারতের দেরাদুনের এই মাঠে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ম্যাচ। আফগানরা অনেক আগে থেকেই সেখানে ক্যাম্প করলেও বাংলাদেশের কাছে তা অচেনা। সেখানে দিবারাত্রির টি-টুয়েন্টিতে ১৬৮ রানের লক্ষ্য। বাংলাদেশের শুরুটা তাই ভালো হওয়াটা আবশ্যিক ছিল। কিন্তু ইনিংসের প্রথম বলেই মুজিব উর রহমানের বলে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে তামিম। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ১০ বছরেরও বেশি সময়ের এক অভিজ্ঞ ক্রিকেটার যেন বুঝতেই পারলেন না নবীন সেনসেশন মুজিবের বলটি। হতভম্ব তামিম; মাথায় হাত গোটা বাংলাদেশ দর্শকদের।

ম্যাচের ভাগ্যটা কি তখনই বুঝে ফেললেন সবাই। এমনই তো হওয়ার শঙ্কা ছিল। যে শঙ্কা জয়ের চ্যালেঞ্জ নিয়ে হতো টাইগারদের। কিন্তু কোথায় কি। সব যেন পূর্ব লিখিত চিত্র নাট্যের মতো হতে থাকলো দেরাদুনে। সাকিব তিন নম্বরে ব্যাট করতে এসে ১৫ রানের বেশি করতে পারলেন না। ১৫ বলে ২ চারের ইনিংসটিও যে সানন্দে খেলেছেন তাও না। মোহাম্মদ নবীর শিকার তিনি।

তবে ওপেনার লিটন দাস ও মুশফিকুর রহীমের তৃতীয় উইকেট জুটি কিছুটা আশান্বিত হওয়ার সাহস জাগাচ্ছিল। কিন্তু অস্টম ওভারের শেষ বলে নবীর বলে কাটা পড়লেন লিটন দাস। ২০ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় তার ৩০ রানের ইনিংসটিই বাংলাদেশের দলীয় সর্বোচ্চ।

এরপর দৃশ্যপটে রশিদ খান। ১১তম ওভারে প্রথম হাতে বল তোলে নিলেন। আর প্রথম বলেই বোল্ট করলেন ২০ রান করা মুশফিককে। এর আগে নবীর বলে একবার যিনি জীবনও পেয়েছিলেন। ঠিক পরের বলে এলবিডব্লিউ সাব্বির রহমান (০)। রশিদ ভীতি আসলে কতোটা গ্রাস করেছে বাংলাদেশকে তার প্রমাণ বুঝি এই চিত্র। রশিদ হ্যাটট্রিক পেলেন না ঠিক, কিন্তু পরে মূল্যবান মোসাদ্দেক হোসেনের উইকেটটা তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে চূড়ান্ত হতাশায় ডুবালেন।

৭৯ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর বাংলাদেশর শেষ ভরসা হয়ে ছিলেন মাহমুদউল্লাহ ও মোসাদ্দেক হোসেন জুটি। ষষ্ঠ উইকেটে এই দুজন ২৯ রান যোগ করলেন। কিন্তু আসলে তখন প্রয়োজন ছিল দুজনের কাছেই আরো বড় কিছু। ২৩ বলে ১৪ রান করে ফিরেন মোসাদ্দেক। একদিকে উইকেট হারানোর মিছিল আর অন্যদিকে প্রয়োজনীয় রান তোলার গড় বেড়ে যাওয়া। শেষ তিন ওভারে জিততে ৫৫ রান প্রয়োজন পড়ে বাংলাদেশের।

মাহমুদউল্লাহ কি একা সেই অসাধ্য সাধন করবেন? তা পারলেন না তিনি। পারলনা বাংলাদেশ। শাপুর জাদরানের ১৮তম ওভারেই আবুল হাসানের পর মাহমদউল্লাহরও ফিরে যাওয়া। ২৫ বলে ২৯ রানের ইনিংস খেলেছেন মাহমুদউল্লাহ ৩ চার ও ১ ছক্কায়। করিম জানাতের ১৯তম ওভারের শেষ বলে আবু জায়েদ রাহি বোল্ড হলে আফগান দাপটে ম্যাচের ইতি ঘটে। আফগানদের পক্ষে সর্বাধিক ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন রশিদ খান ও শাপুর জাদরান। ২ উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ নবী। ১টি করে উইকেট নিয়েছেন মুজিব উর রহমান ও করিম জানাতের।

এর আগে বোলিংয়ে উল্লেখ করার মতো মাহমুদউল্লাহর আক্রমণে এসেই ২ উইকেট তুলে নেওয়াটা। ১৪তম ওভারে আক্রমণে এসেই তুলে নেন নাজিবুল্লাহ জাদরান (২) ও মোহাম্মদ নবীকে (০)। তার আগে পরে আসলে পুরোটাই হতাশার গল্প বাংলাদেশের। শাহজাদ-গনির দরুণ শুরু, মাঝে সামিউল্লাহ সেনওয়ারি ও শফিকুল্লাহর ঝড়। রশিদ খান এক বল খেলে সেটিকেই মারলেন ছক্কা। সবমিলে ব্যাটিংটা তাদের দাপুটেই। শেষ ওভারে বাংলাদেশ ৩ উইকেট পেলেও তাই সেটিও বলার মতো কিছু হয়ে উঠে না।

শাহজাদের ব্যাট থেকে সর্বোচ্চ ৪০ রান। সামিউল্লাহ করেন ১৮ বলে ৩৬। শফিকুল্লাহ ৮ বলে ২৪। উসমান গনির ব্যাট থেকে এসেছে ২৬ রান। অধিনায়ক আসগর স্ট্যানিকজাই করেছেন ২৫। বাংলাদেশের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও আবুল হাসান। ১টি করে উইকেট আবু জায়েদ, রুবেল হোসেন ও সাকিব আল হাসানের। মঙ্গলবার দুই দলের দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টি ম্যাচ।

বিশেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: খেলাধূলা

Leave A Reply

Your email address will not be published.