মঙ্গলবার ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ ২০ নভেম্বর, ২০১৮ মঙ্গলবার

মেয়র আইভীকে কোনঠাসা করতে আবারো ‘ময়লা বাহিনী’র নিষ্ঠুরতাঃপ্রশাসনের রহস্যজনক নিরবতা!

বিষেরবাঁশী ডটকম: নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের আওতায় বাসাবাড়ি ও হাটবাজারের ময়লা-আবর্জনা নিয়ে বিপাকে মেয়র ডা.সেলিনা হায়াৎ আইভী ও নগরবাসী। ডাম্পিং পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত সড়ক ও জনপথের জায়গা নিষিদ্ধ! স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে এ নিয়ে সিটি কর্পোনেশনের বহু দেনদরবার হলেও কোন কুলকিনারা হয়নি। চিহ্নিত একটি মহলের বাঁধা বিপত্তির মধ্যেও এতোদিন জোরাতালি দিয়ে ময়লা অপসারণের কাজ অব্যাহত ছিল। কিন্তু সর্বশেষ বিশেষ মহলটির মারমুখী আচরনের মুখে গত ৪ দিন ধরে ময়লা আবর্জনা অপসারণ কাজ আবারো বন্ধ।

*নোংরা নিয়ে নোংরামির নিন্দার ঝড়*

সড়ক ও জনপথের খালি জায়গায় ফেলতে বাঁধা,সরকারী খাস জমিতে বাঁধা,এমনকি সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব খালি জায়গায়ও বাঁধা। সব জায়গা থেকেই পরিচ্ছন্ন কর্মীদের মারপিট করে তাড়িয়ে দিচ্ছে ‘ময়লা প্রতিরোধ বাহিনী’! উদ্ভুদ পরিস্থিতিতে ময়লার দুর্গন্ধে বিপর্যস্ত নগরবাসী।
এদিকে ‘ময়লা বাহিনীর লাঞ্চনার শিকার পরিচ্ছন্ন কর্মীরা বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে কয়েকটি ময়লার গাড়ি রেখে চলে এসেছেন!পরিচ্ছন্ন কর্মীদের এ অভিনব প্রতিবাদে শহরজুড়ে এখন আলোচনা। অন্যদিকে বিশেষ মহলটির বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড়।

*মেয়র আইভী এখন কী করবেন?*

Image may contain: 1 person, outdoor

এদিকে মেয়র আইভীর অভিযোগ,প্রতিবছর রোজা এলেই ময়লা ফেলা নিয়ে মেতে উঠে একটি প্রভাবশালী মহল। গত ৪ বছর ধরেই এ খেলা চলছে!তারা জালকুড়িতে লিঙ্ক রোডের পাশে ময়লা ফেলা বন্ধ করে দিয়েছে। কাশীপুরে সরকারি খাস জমিতে ময়লা ফেলতে গেলে বাঁধা দিয়েছেন ফতুল্লা আওয়ামীলীগে সভাপতি সাইফুল্লা বাদল। সেখান থেকে ফিরে ইসদাইরে সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব জমিতে ময়লা ফেলতে গেলেও গত বুধবার বাঁধা দেয় শামীম ওসমানের সমর্থক কায়সার! এই কায়সার পরিচ্ছন্ন কর্মীদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেছেন।
মেয়র অতিতের উদাহরণ টেনে উল্লেখ করেন,গত ৪ বছর আগে আমার নিউজিল্যান্ডে সফরকালে প্যানেল মেয়র ওবায়দৌল্লাহকে ময়লা ফেলা নিয়ে অপদস্ত করা হয়। ফতুল্লা খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের পাশে যেখানে নর্মপার্ক করা হয়েছে সেখানেও ময়লা ফেলতে দেয়া হয় নি। অথচ জায়গাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের।
মেয়র বলেন,সম্প্রতি জেলা প্রশাসক এক চিঠিতে জালকুড়িতে সড়কের পাশে ময়লা ফেলা যাবেনা বলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। অথচ আমরা কোথায় ময়লা ফেলব তা তিনি বলেন নি! তারপরও আমরা চেষ্টা করেছি কাশীপুরের সরকারী জায়গাতে ময়লা ফেলতে। কিন্তু সেখানেও সাইফুল্লাহ বাদল বাঁধা দিয়েছেন। প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চেয়েও পাওয়া যায় নি। তারপরই সিদ্ধান্ত হয় ইসদাইরের নিজস্ব জমিতে ময়লা ফেলার। কিন্তু অবাক কাণ্ড সেখানেও বাঁধার সৃষ্টি করা হয়েছে! আরো আশ্চর্যের ব্যাপার, প্রশাসনের সামনেই এধরনের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নেয় নি।

Image may contain: car and outdoorমেয়র আইভী প্রশ্ন রাখেন,জেলা প্রশাসন কেন সেখানে তার ইউএনওকে ঘটনাস্থলে পাঠাল না? পুলিশ আমাদের সাফ জানিয়ে দিয়েছে,ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া তাঁরা ইসদাইরের ঘটনাস্থলে যাবেন না।
মেয়রের প্রশ্ন, তাহলে ময়লা নিয়ে সিটি কর্পোরেশন যাবে কোথায়? আমরা কেন আমাদের নিজস্ব জায়গাও ময়লা ফেলতে পারবো না? তিনি অভিযোগ করেন,প্রশাসন আমাদের সহযোগগিতা করছে না।
কার কথায় চলছে নারায়ণগঞ্জ প্রশাসন? মানুষ ময়লার দুর্গন্ধের মধ্যে কষ্ট ভোগ করবে-আর প্রশাসন চেয়ে চেয়ে দেখবে! তা মেনে নেয়া যায় না।
মেয়র সাফ জানিয়ে দেন,প্রশাসন যদি ময়লা ফলতে সহযোতার হাত না বাড়ায় তাহলে সিটি কর্পোরেশন শহরের ময়লা ফেলা বন্ধ করে দেবে।
গত ২৪ ঘন্টায় ময়লা নিয়ে দুঃসহ টানাপড়েন শেষে পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ময়লা বোঝাই কয়েকটি লড়ি জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে রেখে আসার ঘটনায় প্রশাসানের টনক নড়বে কি না এখন দেখার বিষয় বলে মনে করছেন ভোক্তভোগিরা।
পরিচ্ছন্ন কর্মীদের এমন অভিনব প্রতিবাদ নিয়েও চলছে সর্বত্র মুখরোচক আলোচনা!

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: নারায়ণগঞ্জের খবর,সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.