মঙ্গলবার ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ ২০ নভেম্বর, ২০১৮ মঙ্গলবার

বেতন-বোনাসের দাবিতে তিন মহাসড়ক অবরোধের আশঙ্কা

বিশেরবাশী ডেস্ক: বেতন-বোনাসের দাবিতে এ বছরও শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিতে পারে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনটি মহাসড়ক অবরোধের আশঙ্কা রয়েছে। আসন্ন ঈদে দেশের তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকরা বেতন-ভাতার দাবিতে এ অবরোধের ডাক দিতে পারেন। কিছু এনজিও কর্মকর্তা শ্রমিকদের উসকানি দিচ্ছেন। মহাসড়ক তিনটি হলো ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-উত্তরবঙ্গ এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক। পুলিশের গোয়েন্দা ইউনিটের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ মে) সচিবালয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত গার্মেন্টস শিল্পসহ অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠান/কারখানার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে করণীয় নির্ধারণে সরকারের গঠিত ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক কোর কমিটির ৩৬তম সভায় এসব তথ্য জানান পুলিশের সহকারী মহাপরিদর্শক (গোপনীয়) মোহম্মদ মনিরুজ্জামান।

তিনি জানান, তিন মহাসড়ক অবরোধ করা হলে সারাদেশের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। এতে ঈদ উপলক্ষে রাজধানী থেকে ৬০ থেকে ৭০ লাখ ঘরমুখো মানুষ ভোগান্তিতে পড়বেন। এবারও ঢাকার ১২২টি এবং ঢাকার বাইরে ১৪৮টি তৈরি পোশাক কারখানার মালিকরা যথাসময়ে তাদের শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করতে পারবেন না। এর ফলে এই অসন্তোষ দেখা দিতে পারে।

শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মোহম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, এ বছরও সারাদেশের ২৭০টি তৈরি পোশাক কারখানায় বেতন-বোনাসের দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষের সম্ভাবনা রয়েছে। পুলিশের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ২৭০টি কারখানার মধ্যে কমপক্ষে ২০০টি কারখানার মালিকদের সঙ্গে এখনই এ বিষয়ে ফয়সালা না করলে ঝামেলা বাড়বে। এসব কারখানার মালিকরা শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে সরকারের মধ্যস্থ্যতায় বিজিএমইএ’কে সঙ্গে নিয়ে এ আলোচনা করার পরামর্শও দেন মোহম্মদ মনিরুজ্জামান।

পুলিশের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে কিছু এনজিও শ্রমিকদের উসকে দিচ্ছেন। এসব এনজিও কর্মকর্তা যতটা না শ্রমিকবান্ধব, তার চেয়ে বেশি রাজনীতিবান্ধব। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতেই তারা শ্রমিকদের উসকে দিতে নানা ধরনের ফন্দিফিকির করছেন। তাদের গতিবিধির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখা উচিত বলেও মনে করে পুলিশ সদর দফতর। সভায় উপস্থিত শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি আব্দুস সালাম জানান, পাটকল শ্রমিকদের পাওনা ঠিকমতো পরিশোধ না করলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কও অবরোধ হতে পারে।

সাভার, চন্দ্রা, গাজীপুর ও নরায়ণগঞ্জ এলাকার গার্মেন্টস কারখানাগুলোর প্রতি নজর রাখতেও বলেছে শিল্প পুলিশ কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে সভায় জানানো হয়, রামপুরার আশিয়ান গার্মেন্টস, গাজীপুরের কটন কোপ ও বাড্ডার সুনজি গার্মেন্টসে শ্রমিক অসন্তোষের সম্ভাবনা রয়েছে। আশিয়ান গার্মেন্টস মালিক তার কারখানায় ‘তথাকথিত’ অগ্নিকাণ্ড, কটনকোপ গার্মেন্টস রাজধানী থেকে গাজীপুরে স্থানান্তর ও সেনজি গার্মেন্টেসে কোরিয়ান মালিকের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে এ তিনটি কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা তাদের বেতন-বোনাস যথাসময়ে নাও পেতে পারেন।

সভায় জানানো হয়, ঈদকে কেন্দ্র করে তৈরি পোশাক কারখানায় সৃষ্ট শ্রমিক অসন্তোষ যতটা না প্রকৃত, তার চেয়ে বেশি কৃত্রিম। তাই সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ভুলতার দিকে নজর রাখতে হবে। ঈদের সময় কাঁচপুরে সংকট সৃষ্টি করতে পারে।সভায় এনএসআই, ডিজিএফআই,র্যা ব, পুলিশ, শিল্প পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ নারায়ণগঞ্জের ডিসি উপস্থিত ছিলেন।

মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘ছোটখাটো সমস্যা থাকতে পারে। সরকার, মালিক ও শ্রমিক মিলে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে এসব সমস্যার নিরসন সম্ভব। শ্রমিকরা ঈদের আগেই ১৪ জুনের মধ্যে তাদের পাওনা বুঝে পাবেন। এ নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই।’

বিশেরবাশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.