শনিবার ৯ আষাঢ়, ১৪২৫ ২৩ জুন, ২০১৮ শনিবার

সুনামগঞ্জে হাওরের ধান সংগ্রহ অভিযান, ১৩ দিনে সংগ্রহ মাত্র একটন

বিশেরবাঁশী ডেস্ক: বৃষ্টিপাত ও বৈরী আবহওয়ার কারণে সুনামগঞ্জে বোরো ধান সংগ্রহ অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। জানা যায়, এ জেলায় এবার ৬ হাজার মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের টার্গেট থাকলেও, ১৩ মে ধান সংগ্রহের সরকারি পত্র পাওয়ার পর ২৫ তারিখ পর্যন্ত মাত্র এক মেট্র্কি টন ধান ক্রয় করতে পেরেছে জেলা খাদ্য বিভাগ। জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা এলএসডি খাদ্য গুদামে আবুল হোসেন নামের এক ব্যক্তি এই ধান বিক্রি করেছেন।

জেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা যায়, অভ্যন্তরীণ বোরো ধান সংগ্রহ ২০১৮-এর আওতায় ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ছয় হাজার মেট্রিক টন। অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহ ২০১৮ মৌসুমে দেশে খাদ্য নিরাপত্তা মজুদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এবং হাওর এলাকার মানুষের ধান শুকানো এবং রক্ষণাবেক্ষণের সমস্যার কথা বিবেচনা করে জেলার ১১টি উপজেলার খাদ্যগুদামগুলোতে ছয় হাজার মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে। ১১ উপজেলার মধ্যে সদরে ৫০০ মেট্রিক টন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ৫০০ মেট্রিক টন, দোয়ারা বাজারে ৪০০ মেট্রিক টন, ছাতকে ৪০০ মেট্রিক টন, জগন্নাথপুরে ৬০০ মেট্রিক টন, দিরাইয়ে ৭০০ মেট্রিক টন, শাল্লায় ৭০০ মেট্রিক টন, ধর্মপাশায় ৮০০ মেট্রিক টন, জামালগঞ্জে ৬০০ মেট্রিক টন, তাহিরপুরে ৫০০ মেট্রিক টন ও বিশ্বম্ভরপুরে ৩০০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করবে সরকার।

জেলা কৃষিসম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, সারা জেলায় কৃষি কার্ডধারী কৃষকের সংখ্যা ৩ লাখ ৪৯ হাজার। জামালগঞ্জ উপজেলার খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অসীম তালুকদার বলেন, গত ২০ মে থেকে সারা জেলায় থেমে থেমে বৃষ্টিপাত শুরু হয়ে এখনও চলছে। এই কারণে কৃষক ধান নিয়ে গুদামে যেতে সমস্যায় পড়ছেন।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামনা রঞ্জন দাস বলেন, ‘হাওর এলাকার বেশির ভাগ কৃষক নৌকায় পরিবহন করে ধান খাদ্য গুদামে বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। গত কয়েকদিন ধরে আবহওয়া খারাপ থাকায় কৃষকরা হাওরের ঢেউয়ের কারণে নৌকাডুবি ও শুকনো ধান ভিজে যাওয়ার কথা বিবেচনা করে গুদামে ধান নিয়ে আসতে পারছেন না। তবে ২১ মে থেকে সরকার নির্ধারিত সময়ে উপজেলা খাদ্য গুদাম ধান ক্রয়ের জন্য খোলা রয়েছে।’

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমীর বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা রবিবার থেকে ধান সংগ্রহ শুরু করবো। তবে অপ্রতুল লক্ষমাত্রা হওয়ার কারণে কৃষকরা গুদামে ধান দিতে খুব বেশি আগ্রহী নন। উপজেলার প্রত্যেক কৃষকের কাছ থেকে ১ মেট্রিক টন করে ধান সংগ্রহ করা হবে।’

হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও’ আন্দোলনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট বজলুল মজিদ চৌধুরী বলেন, ‘ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়ানো উচিত। তা না হলে কৃষকরা বঞ্চিত হবেন। চলতি বোরো মওসুমে জেলায় ২ লাখ ২২ হাজার হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করেছেন জেলায় প্রান্তিক ছোট, বড় ও মাঝারি শ্রেণির ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৭৪২ জন কৃষক। এতে ৮ লাখ মেট্রিক টন চাল ও ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৩৫ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়েছে, যার বাজারমূল্য তিন হাজার কোটি টাকা।’

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জাকারিয়া মুস্তফা বলেন, ‘১৩ মে সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে ধান ক্রয়ের নির্দেশনার চিঠি এসেছে। এটির প্রয়োজনীয় অফিসিয়াল কার্যক্রম শেষ করতে ৭ দিন সময় লেগেছে। ২০ তারিখ থেকে গুদামগুলো ধান ক্রয়ের জন্য খোলা রয়েছে। কিন্তু আবহওয়া খারাপ থাকায় কৃষকরা ধান নিয়ে আসাতে সমস্যায় পড়ছেন। প্রকৃত কৃষক যাতে গুদামে ধান দিতে পারে সেটি প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগ নিশ্চিত করবে। যাতে সরকারি ধান ক্রয়ের সুবিধা মিডলম্যানরা পেতে না পারে, সে বিষয়ে সবাই সজাগ রয়েছে।’

বিশেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: অর্থনীতি,সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.