রবিবার ৮ আশ্বিন, ১৪২৫ ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রবিবার

লিংক রোডে ময়লা ফেলায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের পাশে জালকুড়িতে ময়লা ফেলতো নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নিয়োগকৃত একাধিক বেসরকারী সংস্থার (এনজিও) পরিচ্ছন্ন কর্মীরা। তবে বেশ কিছুদিন ধরেই ওই ময়লার স্তূপকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল একটি সিন্ডিকেট। যারা বেসরকারী সংস্থার পরিচ্ছন্ন কর্মীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতো। অর্থের লোভে তারা গার্মেন্টস, ফ্যাক্টরি ও দুর দুরান্তের যত ময়লা পরিষ্কারের এজেন্ট আছে সবাইকে এখানে ময়লা ফেলার জন্য সহযোগিতা করে আসছিল। যে কারণে ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের জালকুড়ি এলাকায় তৈরি হয়েছিল ময়লার পাহাড়।শনিবার ওই সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য শাহীন মিয়াকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হোসনে আরা বেগম বীনার নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে শাহীন মিয়াকে আটকের পর এ ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এ দণ্ড দেওয়া হয়।
সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হোসনে আরা বেগম বীনা জানান, চলতি মাসের জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় জালকুড়ির ময়লা অপসারনের বিষয়ে জেলা প্রশাসক আমাকে ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দেন। পরে আমরা সম্মিলিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একটি এক্সাভেটর (ভেকু) ভাড়া করি। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় একটি এক্সাভেটর সরবরাহ করে।
দু’টি এক্সাভেটরের মাধ্যমে আমরা জালকুড়ির ময়লার স্তূপ অপসারণের কাজ করছি। কিন্তু আমাদের কাজ চলার ফাঁকেও কোথা থেকে ময়লার ভ্যান ও গাড়িগুলো এসে আবার রাস্তার উপর ময়লা ফেলে চলে যাচ্ছে। এতে ময়লার স্তূপ ফের জমে যাচ্ছিল।

শনিবার এ বিষয়ে মোবাইল কোর্ট টীমসহ অনুসন্ধানে নামি। বিভিন্ন ময়লার ভ্যান থেকে মোট ১১ জন পরিচ্ছন্নকর্মীকে আটকের পরে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। জালকুড়িতে ময়লার স্তূপকে ঘিরে কাজ করছিল একটি চক্র। এখানে ময়লা ফেলতে ভ্যান বা গাড়ি প্রতি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা এ চক্রের সদস্যদের দিতে হয়। টাকার লোভে তারা গার্মেন্টস, ফ্যাক্টরি ও দুর দুরান্তের যত ময়লা পরিষ্কারের এজেন্ট আছে সবাইকে এখানে ময়লা ফেলার জন্য সহযোগিতা করছে। ফলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের জালকুড়ি এলাকায় তৈরি হয়েছে ময়লার পাহাড়।
আটককৃত ১১ জন পরিচ্ছন্নকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদে এই সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য শাহীন মিয়াকে জালকুড়ি এলাকা থেকে আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে এসবের সত্যতা পাওয়া যায়। অত:পর মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অপরাধীকে দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ২৯১ ধারায় পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। অপরাধী শাহীন মিয়া কথা দেন তিনি ও তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা এ ব্যবসা আর করবেন না ও জালকুড়ির ময়লা অপসারণে সহায়তা করবেন। যদি তিনি বা তার দলের কেউ ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি করে তবে আরো কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ইউএনও আরো বলেন, যেসকল গার্মেন্টস বা ফ্যাক্টরি রাতের আধারে এসে এখানে ময়লা ফেলছেন তাদের অনুরোধ করছি এখানে ময়লা না ফেলতে। যদি কেউ ময়লা ফেলে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: নারায়ণগঞ্জের খবর

Leave A Reply

Your email address will not be published.