বুধবার ৪ আশ্বিন, ১৪২৫ ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বুধবার

সেলিম ওসমান ব্যতিক্রম ধারার রাজনীতিক

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: রাখঢাক নেই। ঠুসঠাস বলে ফেলেন! আপাদমস্তক সফল ব্যবসায়ী থেকে সোজা রাজনীতির ‘রাজা’! সরাসরি গণমানুষের জন্য তাঁর রাজনীতি। বস্তাপঁচা রাজনীতির বাইরে তাঁর রাজনীতি। সাংসদ সেলিম ওসমানের প্রতিটি বক্তৃতা মানুষকে মোহাবিষ্ট করে।
যেমন; বললেন-“আমি যেটা করতে পারবো তা শামীম ওসমানও পারবেন না। আমি সাধারণ মানুষের জন্য যেটা করতে পারবো সেটা আমার পাশ্ববর্তী এলাকার সংসদ সদস্যরা এমনকি আমার নিজের ছোট ভাই শামীম ওসমান নিজেও সেটা করতে পারবেন না। কারণ,আমি দীর্ঘ ২২বছর যাবত ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছি। আমি সংসদ সদস্য হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ী সংগঠন বিকেএমইএ, এফবিসিসিআই’এ নেতৃত্ব দিয়ে থাকি। আমার সাথে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী রয়েছে। ব্যবসায়ীরা আমাকে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করে থাকেন। ব্যবসায়ীরা আমার জন্য কিছু করলে সেটা হবে সহযোগিতা। কিন্তু অন্য এলাকার সংসদ সদস্যরা এটা করতে গেলে মানুষ বলবে চাদাঁবাজি। তাই অন্যান্য এলাকার সংসদ সদস্যরা ইচ্ছা থাকলেও আমার ‘মত করে’ করতে পারেন না।”

বিশ্লেষকদের মতে-
“সত্যি, এখানেই ব্যতিক্রম সেলিম ওসমান! ব্যক্তিগত সদিচ্ছা তাঁকে এ মাত্রায় সমাসীন করেছে।”

সোমবার (২১ মে) বিকেল ৩টায় নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের তৃতীয় তলায় শীতলক্ষ্যা কমিউনিটি সেন্টারে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে অসহায় মানুষের মাঝে সহায়তা পৌছে দিতে এমপি সেলিম ওসমানের আহবানে তাঁর নির্বাচনী এলাকার আওতাধীন নাসিকের ১৭টি ওয়ার্ড এবং ৭টি ইউপি এলাকার জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান এসব কথা বলেন।

হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ খেয়াঘাট দিয়ে ফেরী সার্ভিস চালু হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার মনে হয় কোথাও একটা ঘাটতি আছে। মন্ত্রী মহোদয় ১৫দিনের ঘোষনা দিয়ে গেলেন ফেরী চালু করার জন্য। ফাইল চালাচালিতে অনেক সময় চলে গেল। কথা ছিল রোজার আগে ফেরী সার্ভিস চালু হবে। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ ফেরীতে যান্ত্রিক ত্রুটি সহ বিভিন্ন সমস্যা ফেরী চালু বিলম্ব হচ্ছে। তাই আমি চাই তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে যাতে ভাল কাজটি নষ্ট না হয়ে যায়। তাই সকল সমস্যা সমাধান করে আমরা হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ খেয়াঘাটে ফেরী সার্ভিস চালু করবো এমনো হতে পারে ৫নং ঘাট-ময়মনসিংহপট্টি দিয়ে দুইটি ঘাটে একসাথে ফেরী সার্ভিস চালু করা হবে। এটাই হবে নারায়ণগঞ্জ-বন্দরবাসীর ঈদ উপহার। ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জ-বন্দরবাসীর জন্য নবীগঞ্জ খেয়াঘাট দিয়ে পূর্ণাঙ্গ সেতু নির্মান করা হবে।

সদর ও বন্দর উপজেলার দুইজন চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমি তাদের দুইজনকে ধন্যবাদ জানাই যে উনারা আজকে এখানে উপস্থিত হয়েছেন। কারন আমার সাথে উনাদের এক মঞ্চে দেখলে পত্রিকায় গোল চিহ্ন দিয়ে ছবি ছাপা হয়। এসব কিছু উপেক্ষা করে দলমতের উর্ধে উঠে অসহায় মানুষের পাশে দাড়াঁনোর জন্য নিজেদের সম্পৃক্ত করেছেন।

জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সারাদেশেই যানজট তীব্র আকার ধারন করেছে। কখনো রোদ, কখনো অতিবৃষ্টি, রাস্তায় খান খদ্দর এতোকিছুর নারায়ণগঞ্জে অন্যান্য জেলার থেকে যানজট অনেকটাই নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। এটা সত্যিই প্রশংসনীয়। সেই সাথে আমি নারায়ণগঞ্জের ছাত্রলীগ ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যারা সেচ্ছাসেবীর শ্রম দিয়ে শহরকে যানজটমুক্ত রাখার প্রানপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সেই সাথে আমি সাধারণ মানুষকে ধৈর্য্য ধারনের আহবান এবং সকলের সহযোগীতা কামনা করছি। যাতে করে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নারায়ণগঞ্জকে আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হয়।

সেলিম ওসমান তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে মোট ৪৫হাজার প্যাকেট ঈদ সামগ্রী বিতরন করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। যার মধ্যে ২২ হাজার ৫০০ প্যাকেটে ১টি করে শাড়ি অবশিষ্ট প্যাকেটে ১টি করে লুঙ্গি, প্রত্যেক প্যাকেটে ১ কেজি পোলাও চাল, ১কেজি চিনি, ৫০০ গ্রাম গুড়ো দুধ, ৪০০ গ্রাম সেমাই, ১লিটার সয়াবিন তেল। পাশাপাশি অসহায় পরিবার গুলোতে থাকা ২০ থেকে ২৫ হাজার শিশুর হাতে ঈদে নতুন পোশাক তুলে দেওয়ার জন্য নারায়ণগঞ্জের ৮টি ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দদের প্রতি আহবান রেখেছেন তিনি। তাঁর আহবানে সাড়া দিয়ে শিশুদের হাতে নতুন পোশাক তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ব্যবসায়ী সংগঠন গুলোর নেতৃবৃন্দরা। সেই সাথে শিশুদের হাতে নতুন পোশাক তুলে দিতে বিকেএমইএ সভাপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া ঘোষনা দিয়েছেন তিনি।

মত বিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম সোলায়ামন, বিকেএমইএ এর সহ সভাপতি মনসুর আহম্মেদ, জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল, অ্যাডভোকেট মাহমুদা আক্তার, মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান মুন্না, সহ সিটি কর্পোরেশন এলাকার ১৭টি ওয়ার্ডে ২৩জন কাউন্সিলরদের মধ্যে ১৮জন কাউন্সিলর এবং ৭টি ইউপি এলাকার চেয়ারম্যানদের মধ্যে ৫জন চেয়ারম্যান সহ সকল সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিষেরবাঁশী.কম/এস.এস/নিঃত/হৃদয়

Categories: রাজনীতি

Leave A Reply

Your email address will not be published.