রবিবার ৮ আশ্বিন, ১৪২৫ ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রবিবার

মর্গ্যান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের ভবনের একাংশ ভেঙ্গে দখলে নিল নাসিক : মেয়রের বিরুদ্ধে ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ!

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: আলীআহমেদ চুনকা সিটি পাঠাগার ও মিলনায়তন ঘেঁষা নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী মর্গ্যান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের পূর্ব পাশের ১০৮ বছরের পুরনো দোতলা ভবনটি এক্সাভেটর দিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন। ভবনটির নিচ তলায় ছিল রান্নাঘর এবং দ্বিতীয় তলায় ছিল শ্রেণিকক্ষ। সিটি কর্পোরেশনের দাবি,এ ভবনের জায়গা সিটি কর্পোরেশনের। এই জায়গা নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। পাঠাগারের স্বার্থে স্কুল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল।
তবে,স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি সিটি কর্পোরেরেশন পূর্ববর্তী নোটিশ ছাড়া রাতের আঁধারে ভবনটি ভেঙে দিয়েছে। এটি মেনে নেয়া যায় না। সোমবার দুপুরে মেয়র আইভীর কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করে স্মারকলিপি দিয়েছে স্কুলের শিক্ষার্থীরা।

এদিকে স্কুল কর্তৃপক্ষ পুর্ব কোন নোটিশ না দিয়ে ভাঙায় ৬ লাখ টাকার মামলামাল ক্ষতি সাধন হয়েছে দাবি করে নাসিকের বিরুদ্ধে স্কুলের অধক্ষ্য বাদি হয়ে রোববার ২০ মে বিকালে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সদর থানার ওসি কামরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগে উল্লেখ্য করা হয়েছে, ভেঙে ফেলা ভবনটি দ্বিতল বিশিষ্ট যার উপরের তলায় ছাত্রীদের ক্লাসরুম এবং নিচের তলায় টিফিন তৈরীর স্থান ও স্টোর রুম হিসেবে ব্যাবহৃত হতো। ফলে ভবনটি ভেঙে ফেলায় শ্রেণীকক্ষের ৪টি সিলিং ফ্যান, ২০ জোড়া ব্যাঞ্চ, রান্না ঘরে রক্ষিত টিফিন তৈরীর দ্রব্য সামগ্রী, একটি ডিপ ফ্রীজ, স্টোর রুমে রক্ষিত অল্প ব্যাবহৃত ৩টি কম্পিউটার, ২টি প্রজেক্টর, ১টি আহুজা মাইক সেট, কর্মমুখী শিক্ষায় ব্যাবহৃত ১০ টি এমব্রডারি মেশিন ও নির্মাণসামগ্রীসহ প্রায় ৬ লক্ষাধিক টাকার মালামাল নষ্ট হয়েছে।

ভবন ভাঙ্গা প্রসঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছেন, ‘মর্গ্যান স্কুলের জায়গা বরাদ্দ দেয়া আছে ১৯১ শতাংশ। কিন্তু স্কুলের দখলে আছে ১২৩ শতাংশ। বাকি ৬৮ শতাংশ জায়গা স্কুলের দখলে নেই। এখন সিটি কর্পোরেশন বলে, আপনাদের যে জায়গা দেয়া হয়েছে সে জায়গা দিয়েছি। এ ভবনের (ভাঙ্গা ভবনটি) জায়গা সেই দাগের বাইরে, বিল্ডিং সরাতে হবে। কিন্তু ১০৭ বছর আগে এই বিল্ডিং বানানো হয়েছে। হঠাৎ করে বিল্ডিং তো সরানো যায় না। বিল্ডিং সরিয়ে আমরা কোথায় নেবো? এ ব্যাপারে নাসিক আমাদের নোটিশ দিয়েছিল ৬ মাস আগে। তখন আমরা তাকে (মেয়রকে) জানিয়েছিলাম, আমরা ১০৭ বছর ধরে এটাই ব্যবহার করছি। আমরা এটাই ব্যবহার করতে চাই। যদি কোন ভুল ভ্রান্তি থাকে তাহলে আপনি শুদ্ধ করে দেবেন।’ এ নিয়ে একাধিকবার মেয়রের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানায় স্কুল কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে মেয়রের কাছে স্কুলের ৫ শিক্ষার্থী স্মারকলিপি দিতে গেলে মেয়র আইভী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ স্কুল কর্তৃপক্ষের। স্মারকলিপি প্রদানের সময় শিক্ষার্থী ছাড়া স্কুলের বর্তমান প্রিন্সিপাল, গভর্নিং বডির সদস্যদের কাউকেই মেয়রের কক্ষে ঢুকতে দেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে মর্গ্যান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য আহসান হাবীব বলেন, ‘এই ভবনের নিচতলায় ৩৫০০ শিক্ষার্থীর জন্য টিফিন তৈরি করা হতো। এখন তো স্কুল বন্ধ, স্কুল খুললে যখন ছাত্রীরা দেখবে তাদের ক্যান্টিন নেই, তখন যে কি হবে তা বলা যায় না। ছাত্রীরা রাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভও করতে পারে। জানি না কি হবে!’

এদিকে স্কুলের গভর্নিং বডির একাধিক সদস্য অভিযোগ করে বলেন, ‘মেয়র তাঁর বাবার নামে পাঠাগার করেছে তার নিচে কোন পার্কিং স্পেস রাখে নাই। এখন পার্কিং স্পেস করার জন্য মরিয়া হয়ে স্কুল ভবন ভেঙ্গে দিয়েছেন।’ তারা আরো বলেন, ‘মেয়র ফুটপাত নিয়ে এতো কথা বলেন আর নিজেই ফুটপাত দখল করে পাঠাগার বানিয়েছেন।’

স্কুলের গভর্নিং বডির সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানান, আমরা চিঠি পেয়ে মেয়রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আমাদের প্রতিনিধি দল গিয়ে মেয়রের সঙ্গে কথা বলে এসেছে এবং তাকে অনুরোধও করেছেন যেন দেড়শ বছরের পুরাতন ভবন এটিকে আইনগতভাবে অনুমোদন দেয়া হয়। এটি একটি বিদ্যালয়, যেহেতু ভবনটি অনেক দিনের তাই এটি রাখার জন্য তার কাছে অনুরোধ করা হয়েছিল। তবে রাতের আধারে এটি ভাঙা সমীচীন হয়নি। আমরা সকলের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এদিকে স্কুল ভবন ভাঙ্গার ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওই ভবনটির জমি নাসিকের। আরএস, সিএসসহ জমির সকল কাগজপত্র আছে আমাদের কাছে। নাসিক তার প্রয়োজন হলে জায়গাটি চাইতেই পারে। তাছাড়া জমিটির ব্যাপারে বারবার স্কুল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে।’

অন্যদিকে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এফ এম এহতেশামূল হক দাবি করেছেন, ‘বৃষ্টির কারণে স্কুলের পাশে উন্নয়ণমূলক কাজ করতে গিয়ে বিল্ডিং ধ্বসে পড়ে গেছে।শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে প্রয়োজনে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। তবে,এ জায়গা নাসিকের।

“মিশ্র প্রতিক্রিয়া”
মর্গ্যান স্কুলের দখলে থাকা পুরাতন ভবন ভাঙা নিয়ে রাজনীতি না করার পক্ষে আমজনতা। সদ্য নির্মিত নান্দনিক চুনকা পাঠাগারটির প্রয়োজনে স্কুলের ভবনটি ভাঙা হয়েছে। এখানে মেয়র আইভীর ব্যক্তিগত কোন স্বার্থ নেই। বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। তাই এ নিয়ে সচেতন মহল দৃশ্যত নিরব! তবে,মর্গ্যান গার্লস স্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষ ছাড় দিতে নারাজ বলেই প্রতিয়মান হচ্ছে।

বিষেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/হৃদয়

Categories: নারায়ণগঞ্জের খবর,সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.