বুধবার ৯ কার্তিক, ১৪২৫ ২৪ অক্টোবর, ২০১৮ বুধবার

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী মাহিদুরের মৃত্যু

বিশেরবাঁশী ডেস্ক: সোমবার (২১ মে) ভোরে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী মাহিদুর রহমানের (৮৭) মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালসূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত কারণে যু্দ্ধাপরাধী মাহিদুরের মৃত্যু হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন থেকে রাজশাহী কারাগারের অধীনে হাসপাতালের প্রিজনসেলে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ২০১৫ সালের ২০ মে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছিলেন যুদ্ধাপরাধের বিচারে গঠিত বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তার সঙ্গে আফসার হোসেন চুটুকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

তাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে অপহরণ, হত্যা ও নির্যাতনের তিনটি অভিযোগ ছিল। একাত্তরে মুসলিম লীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন তারা। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর তারা রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন। তারা শিবগঞ্জ এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটান বলে রায়ে উঠে আসে। রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন প্রসিকিউশন।

তাদের উপস্থিতিতে ২০ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ১৩৩ পৃষ্ঠার সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেন। ওই রায়ে বলা হয়, প্রসিকিউশনের আনা তিনটি অভিযোগের মধ্যে প্রথমটিতে দুই আসামিকে সর্বসম্মতভাবে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন তিন বিচারক। দ্বিতীয় অভিযোগে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে পাঁচ বছরের জেল এ সাজার আদেশ। তবে তৃতীয় অভিযোগে এর আগে দালাল আইনে তারা দণ্ডিত হওয়ায় ওই অভিযোগটি বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এই অভিযোগের ক্ষেত্রে তদন্ত কর্মকর্তা অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময় শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর স্কুল মাঠ ও আশেপাশের এলাকায় গণহত্যার ঘটনায় ২০১৩ সালে মাহিদুর ও আফসারসহ ১২ জনকে আসামি করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আদালতে মামলা হয়। মামলাটি করেন গণহত্যার শিকার শহীদ পরিবারের সদস্য শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের পারচৌকা গ্রামের বদিউর রহমান বুদ্ধু। পরে তা ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের দাদনচক গ্রামের সুবেদার আলী বিশ্বাসের ছেলে মাহিদুর।

অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের দিনগুলোতে কৃষিজীবী মাহিদুর স্থানীয় রাজাকার ক্যাম্পেই থাকতেন এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় আশপাশের এলাকায় হত্যা, লুটপাট, নির্যাতনের মতো মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন। আফসারের বয়স বর্তমানে ৬৮ বছর। মাহিদুরের মতো একাত্তরে তিনিও কৃষিজীবী এবং মুসলিম লীগের কর্মী ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর শান্তি কমিটি ও রাজাকার বাহিনীতে যোগ দিয়ে ওই এলাকায় বিভিন্ন মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড চালান।

প্রসিকিউশনের তদন্ত দল এ দুই রাজাকার সদস্যের যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরু করে ২০১৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি। তদন্ত শেষে ৭ খণ্ডে ৯৫৬ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করেন তদন্ত কর্মকর্তা। সে বছরই আফসার ও মাহিদুরকে পৃথকভাবে গ্রেফতার করে পুলিশ। রায় ঘোষণার পর আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মাহিদুর ও আফসারকে কাশিমপুরের কারাগারে পাঠানো হয়। সেখান থেকে পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ কারাগারে পাঠানো।

বিশেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.