শুক্রবার ২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ ১৬ নভেম্বর, ২০১৮ শুক্রবার

দৃশ্যমান হলো পদ্মাসেতুর ৬শ’ মিটার কাঠামো

বিশেরবাঁশী ডেস্ক: পদ্মাসেতুর জাজিরা প্রান্তে চতুর্থ স্প্যানটি বসানোর পর ৬শ’ মিটার কাঠামো দৃশ্যমান হয়েছে। নদীতে যে ২৬২টি পাইল বসবে, বর্তমানে তার মধ্যে ১৪৫টি ড্রাইভ শেষ হয়েছে। এখনো বাকি রয়েছে আরও ১১৭টি পাইল ড্রাইভ বসানো। সংশ্লিষ্টসূত্রে জানা যায়, পদ্মাসেতুর ১ থেকে ৪২ নম্বর পিলার পর্যন্ত মোট পাইল হবে ২৯৪টি। মাওয়া প্রান্তে ৬, ৭, ৮ নম্বর পিলারের ডিজাইন এখনো দেওয়া হয়নি। মাওয়া প্রান্তে ৯ ও ১২ নম্বর পিলারের বটম সেকশন তৈরির কাজ শেষের দিকে।

এখনো জাজিরা প্রান্তে ২৭, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২ ও ৩৫ নম্বর পিলারের ডিজাইন দেওয়া হয়নি। ২৬ নম্বর পিলারের কাজ চলছে। মূল সেতুর পাইল হবে ২৬২টি, এর মধ্যে পাইল ড্রাইভ হয়েছে বর্তমানে ১৪৫টি। ১৪টি পিলারের অর্ধেক ড্রাইভ হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, ২৩ নম্বর পিলারের কোফাড্র্যাম পাতের পাইল ড্রাইভিংয়ের কাজ চলছে। ১৪ নম্বর পিলারের মূল ইন্টারফেসের কাজ চলছে। ৪ নম্বর পিলারের গোলাকৃতির রেবার বসানোর কাজ শেষ। ৫ নম্বর পিলারের পিয়ার কলামের দ্বিতীয় ধাপের রেবার বসানো শেষ পর্যায়ে। গড়ে ১২০ মিটার দৈর্ঘ্যের পাইল ভাসমান ক্রেনের সাহায্যে আনা হচ্ছে নদীতে। হাইড্রোলিক হ্যামারের সহায়তায় নির্ধারিত স্থানে তা গেঁথে দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, পদ্মাসেতুতে ৫টি হ্যামার আনা হয়েছিল। এর মধ্যে ২টি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ৩৫০০ কিলোজুল, ২৪০০ কিলোজুল ও ১৯০০ কিলোজুল ক্ষমতার তিনটি হ্যামার দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। পৃথিবীতে এত উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কার্যকর হ্যামার নেই আর। সেতুর পিলারে ৮টি প্লাটফর্মে কাজ চলে। ২০২১ সালের আগে পদ্মাসেতু প্রকল্পের কাজ শেষ হচ্ছে না।

প্রকৌশলীরা আরও জানান, শিগগিরই ৫ম স্প্যান অর্থাৎ ৭ এফ স্প্যান ৪১ ও ৪২ নম্বর পিলারের ওপর বসানো হবে। পঞ্চম স্প্যানটি বসানো গেলে প্রথম জাজিরা প্রান্তের সঙ্গে সংযুক্ত হবে পদ্মাসেতু। ৪২ নম্বর পিলারকে স্প্যান বসানোর উপযোগী করা হচ্ছে।

এক প্রকৌশলী বলেন, মাটির গঠনগত বৈচিত্র্য বিবেচনায় ২২টি পিলারের নতুন করে আরোও একটি পাইল যোগ হয়ে নদীতে পাইল সংখ্যা হবে ২৬২টি। আর দুই প্রান্তে মাটিতে দু’টি পিলারে আরও ৩২টি পাইল মিলিয়ে পদ্মাসেতুর পাইল সংখ্যা হবে মোট ২৯৪টি। জটিলতায় থাকা কিছু পিলারের নকশা দেওয়া হয়েছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে। ৬টি পাইল কিছুটা বাঁকা ও ৭ নম্বর পাইল খাড়াখাড়িভাবে বসবে এছাড়াও কমবে গভীরতা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে চূড়ান্তভাবে নকশা পৌঁছাতে সময় লাগবে সেপ্টেম্বর অথবা অক্টোবর মাস।

ওই প্রকৌশলী আরও জানা যায়, নতুন ডিজাইনে যে পাইল যোগ হচ্ছে ঠিকদার প্রতিষ্ঠান সেই অনুযায়ী কাজ করবে। সেক্ষেত্রে ঠিকদার প্রতিষ্ঠান যদি কাজ করতে রাজী না হয় তাই টেন্ডারে আগে থেকেই ২৫ শতাংশ বেশি বাজেট নিয়ে সেই অনুযায়ী কাজ করতে হবে বলে বলা থাকে। ২৫ শতাংশ বেশি বাজেটে ঠিকদার প্রতিষ্ঠান রাজী না হলে সেক্ষেত্রে সমঝোতা করে কাজ করতে হবে। এ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত পরে বলা যাবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

পদ্মাসেতুতে আরও ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৩৬টি স্প্যান বসানো বাকি রয়েছে। পিলারে স্প্যান বসাতে হলে পাইল ড্রাইভের কাজ শেষ করতে হবে আগে। পদ্মাসেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, সময় নিচ্ছি কোয়ালিটি সম্পন্ন কাজ করার জন্য। ১০০ বছরের জন্য স্থায়িত্ব হবে সেতুটি। সমস্যা যেমন আছে, তার সমাধানও আছে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা কাজ এগিয়ে রাখছেন সেতুর। ইতোমধ্যেই ৬শ’ মিটার কাঠামো দৃশ্যমান হওয়ায় আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেছে।

গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর বসানো হয় প্রথম স্প্যানটি। এর প্রায় ৪ মাস পর চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় স্প্যানটি বসে। এর মাত্র দেড় মাস পর ১১ মার্চ শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে ধূসর রঙের তৃতীয় স্প্যানটি বসানো হয়। এর ২ মাস পর ১৩ মে বসে ধূসর রঙের চতুর্থ স্প্যানটি। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতুতে ৪২ পিলারের ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান। পদ্মা বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো এবং সেতুর মোট পিলারের সংখ্যা ৪২টি।

বিশেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: লাইফস্টাইল,সারাদেশ

Leave A Reply

Your email address will not be published.