বুধবার ৩০ কার্তিক, ১৪২৫ ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ বুধবার

খুলনায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় গ্রেফতার ৬

অনলাইন ডেস্ক: খুলনা খালিশপুরে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় শনিবার রাতের ঘটনায় অস্ত্রসহ ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় খুলনার ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনাম মুন্সি ও ওয়াদুদ মুন্সি বাবু নামের দুজন রাবার বুলেট বিদ্ধ হয়েছেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে একজনকে অস্ত্রসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

আটককৃতরা হচ্ছেন- কাশিপুর এলাকার সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মাহফুজ (২২), রাজা সর্দারের পুত্র পাপ্পু সর্দার (২১), আজিজুর রহমানের পুত্র খালিদ বিন ওয়ালিদ (২৬), মনির হোসেনের পুত্র মো. সুমন (২৭), শেখ বাদশার পুত্র মো. সানি (২৮) ও রফিকুল ইসলামের পুত্র মো. ইমরান হাসান (২৪)।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার সোনালী সেন জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়েছে। নবনির্বাচিত কাউন্সিলর সুলতান মাহমুদ পিন্টু গ্রুপ ও আওয়ামী লীগ মনোনীত পরাজিত কাউন্সিলর প্রার্থী শেখ সেলিম আহমেদ গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়েছে।

সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থল ও আশপাশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ইমরান নামের একজনের কাছ থেকে ৭.৬২ বোরের পিস্তল পাওয়া যায় বলে জানান ওই পুলিশ অফিসার।

সন্ধ্যার পর ৭নং ওয়ার্ডে দফায় দফায় গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। সংবাদ পেয়ে নগর গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। দেশি পিস্তলসহ ইমরান নামের এক যুবক আটক হয়। এ সময় যমুনা গেট এলাকা থেকে সানি, সুমনসহ আরো পাঁচ যুবককে আটক করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে রাবার বুলেটের বিস্ফোরিত তিনটি খোসা উদ্ধার হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নবনির্বাচিত কাউন্সিলর সুলতান মাহমুদ পিন্টু অনুসারী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক এনাম মুন্সি ইফতার শেষে হাজীবাড়ি সংলগ্ন মসজিদে নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিন/চারজন যুবক এনাম মুন্সিকে আহত করে।

আহত এনাম মুন্সি জানান, প্রাণরক্ষার জন্য তিনি দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে কয়েকটি রাবার বুলেট ছোঁড়া হয়।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনার প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ মনোনীত পরাজিত কাউন্সিলর প্রার্থী শেখ সেলিম আহমেদের অনুসারী মেঘনাগেট সংলগ্ন ওয়াদুদ মুন্সি বাবু নামের প্রাক্তন এক পুলিশ সদস্যের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার বাড়িঘর ভাঙচুর করে সন্ত্রাসীরা। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৭নং ওয়ার্ডে প্রতিপক্ষ দুটি গ্রুপ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

স্থানীয়রা জানায়, সন্ধ্যা ৭টার দিকে ১০/১৫ রাউন্ড গুলি, ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ হয়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। এনাম মুন্সি গুলিবিদ্ধ হওয়ার প্রতিবাদে ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা রাত ৯টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ সময় র‌্যাব-৬ এর সদস্যদের হস্তক্ষেপে মিছিল বন্ধ হয়। বর্তমানে ৭নং ওয়ার্ড এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

 

বিষেরবাঁশী.কম/ডেস্ক/নিঃতঃ

 

Categories: অপরাধ ও দুর্নীতি

Leave A Reply

Your email address will not be published.