শুক্রবার ২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ ১৬ নভেম্বর, ২০১৮ শুক্রবার

পঁচিশে বৈশাখ

পঁচিশে বৈশাখ
– মহুয়া বাবর

ওঠো রবি, ওঠো
নতুন ভোর এলো
কার বাঁশী হঠাৎ উঠলো বাজি
নিতে এসে তোমার চরণধূলি
থরে থরে সাজানো দেখো তোমার গীতাঞ্জলি!
ফুলে ফুলে জানাই প্রণাম তোমায় শ্রদ্ধাঞ্জলি !

দেখো রবি, দেখো!
মিছে কেন আজ অচেতন
কার মন তুমি করেছ হরণ
তোমার গ্রন্থমালা জড়িয়ে
কার গোপন ব্যথা লুকিয়ে
আজো সে কাঁদে পথের পানে
অজানা কোন সে পথিকের কথা ভেবে!
ভাবনার চোখ মেলো!

চম্পক, বকুল, চামেলি রজনীগন্ধ্যা
কেমন আছে গো ভালো আছে তো ওরা?
ওরা কেন চিরকাল গেঁথে যাবে মালা!
এ কেমন তোমার খেলা!
তোমার বসন্তে কার বেদনা করেছে মর্মর
সেকথা বলেছিলে কি তুমি একবার
বলো রবি, বলো!

প্রথম যেদিন কলকাতা যাই
ট্রাম দেখে আমি অবাক হই
শেয়ালদা স্টেশন, ট্রেনের হুইশেল !
সবখানে তোমার বাঁশী কবিতাকেই খুঁজে পাই !
‘আমার ছেলেবেলার’ ব্রজ্রেশ্বর
এই নোংরা পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নিয়েছে বহুদূর!
আমরা নিজেকে মানিয়ে জেগে আছি রাত-ভোর!
তোমার সে হাওয়াই মিঠাইয়ের মতো
সভ্যতাও আজ লুকিয়ে রয়েছে দেখো
পকেটের এক কোনে!
দেখো রবি, দেখো!

হৈমন্তীরা আজো অকালে ঝরে যায়
সামন্ততান্ত্রিক বর্বর নিষ্ঠুরতায়
ঘরে-বাইরে বাসের নির্জনতায়
কলমের জোর এখানে থাকে নিষ্ক্রিয়
স্বপ্নগুলো তাই অপূর্ণ থেকে যায়
শোনো কবি, শোনো!

আমার বসন্তগান তোমার বসন্তদিনে
ধ্বনিত হোক ক্ষণতরে!
হ্নদয়স্পন্দনে তব ভ্রমরগুঞ্জনে
নব পল্লব মর্মরে !
আজি হতে শতবর্ষ পরে!
তুমি আছো হ্নদয়ের মাঝখানে
তুমি জেগে রবে চিরদিন
তোমার বীণা বাজে সুরে সুরে
শোনো কবি, শোনো!

Categories: সাহিত্য

Leave A Reply

Your email address will not be published.