বুধবার ৪ আশ্বিন, ১৪২৫ ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বুধবার

চড়া দাম থাকায় মৌলভীবাজারে বিক্রি হচ্ছে না টিসিবি’র পণ্য

বিশেরবাঁশী ডেস্ক: বাজার দরের সঙ্গে ব্যবধান না থাকায় মৌলভীবাজারে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ন্যায্যমূল্যের পণ্য বিক্রি করতে পারছেন না ডিলাররা। এতে করে লোকসান গুণতে হচ্ছে তাদের। তবে আজ শুক্রবার (১৮ মে) থেকে নতুন করে টিসিবি পণ্যের রেট কমানো হচ্ছে বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন টিসিবির শেরপুর সিলেট বিভাগীয় আঞ্চলিক প্রধান মো.ইসমাইল মজুমদার।
পবিত্র রমজান উপলক্ষে মৌলভীবাজার জেলা সদরের বিভিন্ন পয়েন্টে গত ৬ মে থেকে আগামী মাসের ১১ জুন পর্যন্ত টিসিবি’র ভ্রাম্যমাণ ট্রাক থেকে ন্যায্যমূল্যের ছোলা, ডাল, সোয়াবিন ও চিনি বিক্রি চলবে।
সদর উপজেলার টিসিবির ডিলার আবদুল খালেক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘টিসিবির পণ্য আর বিক্রি করছি না। বাজারের দর আর টিসিবির পণ্যের রেট প্রায় এক। আবার ২/১ টি পণ্য বাজার থেকে এখানে দাম বেশি। তাই ক্রেতারা টিসিবির পণ্য কিনতে চাইছে না। তাই এসব পণ্য বিক্রি করে লাভ নেই। এছাড়া ট্রাকের ভাড়া বেশি, শ্রমিকের মজুরি ৪০০ টাকা। তিনদিন মাল বিক্রি করে আমার ৬০/৭০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। এখন আর টিসিবির পণ্য বিক্রি করছি না।
টিসিবি পণ্যের দাম বাড়ানোর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকার ভালো জানে। আমরাতো ব্যবসায়ী।’
টিসিবি ও ডিলার সূত্রে জানা গেছে, একটি ট্রাকে প্রতিদিন ৬০০ কেজি ছোলা, ২৫০ কেজি মসুর ডাল, ৩০০ কেজি চিনি এবং ২০০ লিটার তেল (৫ লিটার করে ৪০টি বোতল) সরবরাহ করছে টিসিবি। প্রতি কেজি ছোলা ৭০, ডাল ৫৫, চিনি ৫৫ এবং প্রতি লিটার তেল ৮৫ টাকায় বিক্রি হয়। টিসিবির হিসাবে একটি ট্রাক থেকে ২৭০ জন মানুষ পণ্য কিনতে পারবেন। এক বোতল করে তেল ৪০ জন, চিনি পাঁচ কেজি করে ৬০ জন, ডাল পাঁচ কেজি করে ৫০ জন এবং ছোলা পাঁচ কেজি করে ১২০ জন কিনতে পারেন।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কবির মিয়া বলেন, ‘টিসিবির মাল বিক্রি করে কী হবে? এতে গরিবের কোনও ফায়দা নেই বাজার থেকে মালের দাম বেশি। বাজারে মালের দর কম আছে।’তবে টিসিবির ডিলার তাঁজ এন্টারপ্রাইজের মোস্তফা মিয়া বলেন, ‘পণ্যের মান ভালো, বাজারে এসব মালের দাম একই, যার ফলে টিসিবির পণ্য ক্রেতাদের চাহিদা কম।’
এ বিষয়ে টিসিবির শেরপুর সিলেট বিভাগীয় আঞ্চলিক কার্যালয় প্রধান মো. ইসমাইল মজুমদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখন শুধু ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে টিসিবির পণ্য বিক্রি চলছে। ডিলার এখনও দেই নাই। নতুন করে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ছোলার রেট ছিল ৭০ টাকা,নতুন করে ৬৫ টাকা করা হয়েছে। খেজুর ছিল ১২০ টাকা ছিল, এখন ১০০ টাকা করা হয়েছে। ডালের রেট ছিল ৫৫ টাকা, এখন ৫০ টাকা করা হয়েছে। আর বাকি সব পণ্যের রেট ঠিক আছে। ৬ মে শনিবার থেকে বিক্রি শুরু হয়েছে। চলবে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত।’
তিনি বলেন, ‘ট্রাকের মাধ্যমে টিসিবির এ প্রকল্পের আওতায় সিলেট বিভাগের ডিলারের মাধ্যমে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু হয়। ডিলারদের মধ্যে সিলেটে ৫ জন, মৌলভীবাজারে ২ জন, হবিগঞ্জে ১ জন, ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় ৪ জন রয়েছে। ট্রাকে করে বিক্রিত মালামালের মধ্যে ছোলা (অস্ট্রেলিয়া) প্রতি কেজি ৭০ টাকা, মসুর ডাল (অস্ট্রেলিয়া) প্রতি কেজি ৫৫ টাকা, চিনি প্রতি কেজি ৫৫ টাকা ও বোতলজাত সয়াবিন তৈল ৮৫ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। খেজুর প্রতি কেজি বিক্রি হয় ১২০ টাকায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারমধ্যে বি-বাড়ীয়া জেলায় কোনও ডিলার এবার মাল উঠায়নি। প্রথম দিকে মৌলভীবাজারে দুইজন ডিলার পণ্য বিক্রি করেছিলেন, এখন শুধু একজন বিক্রি করছেন। কারণ মালের দাম বেশি থাকায় কেউ মাল উঠাইতে আগ্রহী হয়নি।’

বিশেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: অর্থনীতি

Leave A Reply

Your email address will not be published.