মঙ্গলবার ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ ২২ মে, ২০১৮ মঙ্গলবার

ধানের মণ ৫৮০ টাকা, শ্রমিকের মজুরি ৮০০!

বিশেরবাঁশী ডেস্ক: গফরগাঁওয়ের জুড়ে এখন সোনালি ফসল ইরি বোরো ধান। সোনালি ধানের ছবি দেখে আনন্দে ভাসছিল কৃষক পরিবারগুলো। কিন্তু একের এক শিলাবৃষ্টিতে উপজেলার প্রায় সকল ইউনিয়নে পাকা-আধাপাকা ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়। শিলাবৃষ্টিতে অনেক কৃষকের পুরো ধান পড়ে যায়।

গত কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণে অঝোরধারায় ঝরেছে বৃষ্টি। আর এই বৃষ্টিই যেন কৃষকের চোখের অশ্রু হয়ে ঝড়ছে এখন। স্বপ্নের সোনালি ফসল এখন পানির নিচে তলিয়ে আছে। এ যেন স্বপ্নের অপমৃত্যু।

সর্বশেষ শ্রমিক সংকটে তাদের এ হাসি পরিণত হয়েছে বিষাদে। প্রায় দেড় মণ ধানের দামে মিলছে একজন শ্রমিক। শ্রমিক না পেলে কীভাবে ধান ঘরে তুলবেন তা নিয়ে চিন্তিত এ উপজলার কৃষকরা।

কৃষকরা জানান, ধান কাটার জন্য পাওয়া যাচ্ছে না শ্রমিক। উচ্চদর দিয়েও যে পরিমাণ শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে তাও পর্যাপ্ত নয়। বাজারে বর্তমানে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ থেকে ৬৫০ টাকায়। বিপরীতে ৮০০ টাকা মজুরি দিয়েও মিলছে না ধান কাটা শ্রমিক।

সরেজমিনে জানা যায়, এ অঞ্চলের কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন ধান কাটা এবং মাড়াই চললেও বৃষ্টির কারনে ধান শুকিয়ে গোলায় ভরা যাচ্ছে না। আবার কোথাও কোথাও শ্রমিক না পাওয়ায় ধান কাটতে পারছেনা চাষিরা।

উপজেলার লংগাইর ইউনিয়নের বাগবাড়ি গ্রামের কৃষক এনামুল হক (৪০) বলেন, এবার চাষাবাদ করে বিপদে পড়েছি। দফায় দফায় শিলাবৃষ্টিতে অনেক ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আবার বেপারীরা ধানের দাম করেন না বললেই চলে। যদি দাম বলেন তাও ৫৮০ থেকে ৬০০টাকা। অথচ একজন শ্রমিকের দাম রোজ ৮০০ টাকা। এভাবে শ্রমিকের পেছনে টাকা খরচ হলে চরম লোকসানের মুখে পড়তে হবে।

টাঙ্গাব ইউনিয়নের আবুল কাশেম খান বলেন, প্রায় চার একর জমিতে ধান চাষ করেছি। যার অধিকাংশই বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে থাকলেও শ্রমিকের অভাবে ধান কাটতে পারছি না। শ্রমিক পেলেও নয়টার পর কাজে এসে বিকাল চারটায় চলে যায়। তাদেরকে তিন বেলা খাইয়ে রোজ দিতে ৭৫০ টাকা। তারপরও প্রয়োজনীয় শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।

একই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য কালাম খান বলেন, তিনি প্রায় পাঁচ একর জমিতে ধান চাষ করে শিলাবৃষ্টিতে ও পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পরেও অন্তত ১৫০ মণ ধান পাওয়ার আশা করছেন তারা। তবে তিনি ধান বিক্রি নিয়ে চিন্তিত। তার দাবি বেপারীরা এখন ধান কিনছেন না। ধান না কিনার কারন হিসেবে তিনি টানা বৃষ্টিকে দায়ি করছেন।

লংগাইর গ্রামের কৃষক আলম মিয়া, বাগবাড়ি গ্রামের সুজন মিয়া ও হানিছ উদ্দিন বলেন, সম্প্রতি কৃষক-শ্রমিকের মধ্যে দেখা দিয়েেেছ বজ্রপাত আতঙ্ক। উপজেলার সর্বত্র শ্রমিকরা মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে ধান কাটছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার সকল এলাকাতেই বোরো ধান পেকে গেছে। মাঠের পর মাঠ পড়ে আছে পাকা ধান। পাকা ধান কাটতে প্রস্ততি নিলেও শ্রমিক সংকটের জন্য ধান কাটতে পারছে না কৃষক।

জানা গেছে, শ্রমিক সংকট, ভারি বৃষ্টিপাত ও বজ্রপাতের কারণে ধান কাটায় দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। বেশ কয়েক দিন ধরে প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বেশি টাকা দিয়ে শ্রমিক পেলেও বৃষ্টির মধ্যে ধান কাটতে চাচ্ছেন না তারা। কাটা ধান শুকানো যাচ্ছে না। কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে হচ্ছে বজ্রপাত। এ যেন মরার উপর খড়ার ঘা।

উপজেলা কৃষি অফিসার এস এস ফারহানা হোসেন জানান, এ অঞ্চলে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছিল। তবে বৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টির কারণে উপজেলার সব এলাকাতেই ধানের কম বেশি ক্ষতি হয়েছে। শেষ সময়ে আবার টানা বৃষ্টির কারণে কিছু কিছু এলাকার পাকা ধানও পানিতে তলিয়ে যায়। আবহাওয়া ভালো থাকলে এ উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক পরিমাণে ধান উৎপাদিত হতো বলে জানান তিনি।

বিশেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: অর্থনীতি

Leave A Reply

Your email address will not be published.