বুধবার ৪ আশ্বিন, ১৪২৫ ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বুধবার

দাম বাড়লে বাজারে অনিরাপদ খাদ্যের সরবরাহ বাড়ে

বিশেরবাঁশী ডেস্ক: বাজারে যেকোনো পণ্যের দাম বাড়লে অনিরাপদ ও ভেজাল পণ্যের সরবরাহ বেড়ে যায়। কেননা দাম বৃদ্ধির ফলে ভোক্তারা কম দামে পণ্য কিনতে আগ্রহী হয়। তাই নিরাপদ পণ্যের সরবরাহ বাড়াতে হলে উৎপাদন ব্যবস্থা যেমন জোরদার করতে হবে, তেমনি পণ্যের দামও নাগালের মধ্যে রাখতে হবে।

গতকাল রাজধানীতে আয়োজিত ‘নিরাপদ খাদ্য উৎপাদক, ভোক্তা, উদ্যোক্তা এবং নীতিনির্ধারক সম্মেলন-২০১৮’তে এসব কথা বলেন বক্তারা। বিসেফ ফাউন্ডেশন এ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন খাদ্যনিরাপত্তা নেটওয়ার্কের (খানি) সভাপতি ও আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ইরি) সাবেক কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. এম জয়নুল আবেদীন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক খাদ্যমন্ত্রী এবং অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. মো. আবদুর রাজ্জাক। সম্মানিত অতিথি ছিলেন কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. ওয়ায়েস কবীর, এফএও ফুড সেফটি প্রজেক্টের সিনিয়র ন্যাশনাল অ্যাডভাইজার অধ্যাপক ড. শাহ মনির হোসেন, হরটেক্স ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৃষিবিদ মো. মনজুরুল হান্নান।

ড. ওয়ায়েস কবীর বলেন, একটি ভুল মেশিন দিয়ে আমের ফরমালিন পরীক্ষার নামে আতঙ্ক ছড়ানো হয়েছে। আমের ফরমালিন মেশানোয় কৃষকরা কোনোভাবেই জড়িত না থাকলেও সব দোষ তাদের ওপর ফেলানো হয়। এতেদেশের আমচাষীদের ব্যাপক ক্ষতির শিকার হতে হয়।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ও বিসেফ ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার ফারুক বলেন, দেশের সব মানুষের নিরাপদ খাদ্য অধিকার নিশ্চিত করার জন্য অর্থায়ন বাড়াতে হবে। এজন্য সরকারকে বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে। আর বরাদ্দকৃত ভর্তুকির টাকার সঠিক ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি নিরাপদ পণ্যের সরবরাহ বাড়াতে উৎপাদন ব্যবস্থায় জোর দিতে হবে। রমজান সামনে রেখে সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত ভ্যালু চেইনের বিভিন্ন স্তরের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে।

বিসেফ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এমএম মনোয়ার হোসেন বলেন, নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কিত নেটওয়ার্ক বিসেফ ফাউন্ডেশন মনে করে, নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হলে উৎপাদক থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যন্ত একটি কার্যকর ভ্যালু চেইন গড়ে তুলতে হবে।

বক্তারা বলেন, উৎপাদন থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণন পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিত করে কাজ করার মাধ্যমেই কেবল টেকসই নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থার দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করে প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থার সব স্তরে বিশেষ করে ক্ষুদ্র উৎপাদক ও উদ্যোক্তা পর্যায়ে অর্থায়ন বৃদ্ধি করতে হবে।

বিশেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: সারাদেশ,স্বাস্থ্য

Leave A Reply

Your email address will not be published.