শনিবার ৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ ১৭ নভেম্বর, ২০১৮ শনিবার

ফরিদপুরে জোড়া খুন: পুলিশের সন্দেহ পরকীয়া

বিশেরবাঁশী ডেস্ক: ফরিদপুর শহরের দক্ষিণ ঝিলটুলি এলাকায় একই ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা ব্যাংক কর্মকর্তা ফারুক হাসান ও কলেজ শিক্ষিকা সাজিয়া বেগমের লাশের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এখনও হাতে পায়নি পুলিশ। তবে সুরতহাল প্রতিবেদনে পুলিশ জানায়, দুজনের দেহেই ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ফারুক হাসানের লাশ ঘরের সিলিং ফ্যানের হুকের সঙ্গে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলন্ত ছিল। আর সাজিয়া বেগমের লাশ ছিল মেঝেতে। সাজিয়াকে হত্যা করে ফারুক আত্মহত্যা করে বলে যেমন সন্দেহ রয়েছে, আবার দুজনকেই হত্যা করা হয়েছে সেই সন্দেহও ফেলে দিচ্ছে না পুলিশ। দুদিন আগে থেকে সাজিয়ার স্বামী শহিদুল ইসলাম ফরিদপুরে অবস্থান করায় সন্দহের তীর তার দিকেই বেশি বলে জানিয়েছেন পুলিশে একাধিক সূত্র। তারা জানিয়েছেন, ফারুক ও সাজিয়ার পরকীয়ার সম্পর্ক সন্দেহ করেই তদন্ত শুরু হয়েছে।

গত রবিবার (৬ মে) দিনগত রাত ১১টায় ফারুকের ভাড়া করা ফ্ল্যাট বাসা থেকে তার ও সাজিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়। সোমবার সকালে পুলিশ সাজিয়ার স্বামী শহিদুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কোতোয়ালি থানায় আনলেও পরে তাকে গ্রেফতার দেখায়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএফএম নাসিম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তারা পরকীয়ার সম্পর্ককে প্রধান টার্গেট করে তদন্তে এগোচ্ছেন। শহিদুল ইসলামকে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। এদিকে সোমবার রাতে নিহত শিক্ষিকার ফুপু আফসারী বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের নামে মামলা দায়ের করেছেন।

সাজিয়া বেগমের ব্যাপারে ফরিদপুর সরকারি সারদা সুন্দরী কলেজের শিক্ষক তালুকদার আমিনুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রবিবার বিকালে কলেজে পরীক্ষার ডিউটি করে পৌনে ৪টার দিকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন সাজিয়া। এর কয়েক মিনিট আগে তার স্বামী তাকে ফোন দিয়েছিলেন।’
শহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী সাজিয়া বেগম

নিহত ব্যাংক কর্মকর্তা ফারুক হাসানের বড় ভাই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এএসআই সোহরাব হোসেন জানান, ‘ফারুক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল। সে ছিল অবিবাহিত ও শান্ত স্বভাবের। তার খুব বেশি বন্ধুও ছিল না। ফরিদপুরে সে এ ধরনের ঘটনার শিকার হবে তা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি।’ গতকালই তিনি লাশ গ্রহণ করে দাফনের জন্য গ্রামের বাড়ি যশোরের শার্শা উপজেলার বুরুজবাগান গ্রামে দাফনের জন্য নিয়ে যান।

যে ফ্ল্যাট থেকে লাশ উদ্ধার করা হয় সেই বাড়ির মালিকের ছেলে মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘এক মাস ৫ দিন আগে ফারুক হাসান আমাদের বাসার নিচতলার গ্যারেজ সংলগ্ন ছোট দুই রুমের বাসা ভাড়া নেন। তখন তিনি বলেছিলেন, ঢাকার মতিঝিলে সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখার লিগ্যাল মেটার ডিভিশন শাখা থেকে প্রমোশন পেয়ে বদলি হয়ে ফরিদপুরে আসবেন। এরপর তিনি আর একবার ফরিদপুরে এসেছিলেন। আর হত্যার আগে ৩ তারিখে তিনি আবার বাসায় আসেন। তবে তার সঙ্গে আমার দেখা হয়নি। নিচতলার পাশের ফ্ল্যাটে আগে থেকেই এক সন্তান নিয়ে থাকতেন সাজিয়া।’ সাজিয়ার আরেক সন্তান তার স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় থাকে।

সাজিয়ার সহকর্মীরা জানান, তিনি খুব হাসিখুশি স্বভাবের ছিলেন। তিন বছর ধরে তিনি কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি ঢাকার সূত্রাপুরের বানিয়ানগরে। স্বামীও একই এলাকার বাসিন্দা।

এদিকে মঙ্গলবার সকালে কলেজ শিক্ষিকা হত্যার সঠিক তদন্ত ও খুনির বিচারের দাবিতে কলেজের সামনে মানববন্ধন করেছেন সারদা সুন্দরী কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। পরে তারা এ সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি প্রশাসনের কাছে দিয়ে আসেন।

বিশেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/ইলিয়াছ

Categories: অপরাধ ও দুর্নীতি

Leave A Reply

Your email address will not be published.