রবিবার ৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ ১৮ নভেম্বর, ২০১৮ রবিবার

ছাত্রীদের সঙ্গে ফেসবুকে অশ্লীল চ্যাটিং, শিক্ষক বহিষ্কার

বিষেরবাঁশী ডেস্ক: ফতুল্লার কাশীপুর হাটখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের আবুল খায়ের নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অশ্লীল আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুই শিক্ষার্থী দুটি স্ট্যাটাস দিয়েছে। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় চলছে। এ ব্যাপারে হাটখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির এক জরুরী সভায় অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক আবুল খায়েরকে নৈতিকতা বিরোধী কর্মকান্ডের অভিযোগে বিদ্যালয়ের চাকুরী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে হাটখোলা এলাকায় গিয়ে খোজ নিয়ে জানা যায়, বিগত ১৪ বছর যাবত আবুল খায়ের হাটখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি কোচিং ও প্রাইভেট পড়াতেন। এরমধ্যে হাটখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য এসএসসি দেয়া এক ছাত্রীকে পঞ্চম শ্রেণি থেকে তিনি বাসায় গিয়ে পড়াতেন। ওই ছাত্রীর সঙ্গেই অশালীন আচরণের অভিযোগ এনে গত বুধবার (৩০ এপ্রিল) ওই ছাত্রীর আত্মীয়-স্বজনরা ও এলাকাবাসী আবুল খায়েরের বাসায় হানা দেয় এবং তাঁর ল্যাপটপে অপ্রীতিকর ছবি ও ভিডিও পায়। এরপর ক্ষুব্দ এলাকাবাসী আবুল খায়েরকে মারধর করেন। এ বিষয় জানাজানি হয়ে গেলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জরুরী সভা ডেকে আবুল খায়েরকে বিদ্যালয়ের চাকরী থেকে বহিষ্কার করেন।

এ ব্যাপারে হাটখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শামসুল হক জানান, ‘আমরা খায়ের স্যারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ব্যাপারে জানতে পেরেছি। অভিযোগ জানার পর, বুধবার (২ মে) বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির এক জরুরী সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’ তবে বহিস্কার কার্যকর হবে ১ মে থেকে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক আবুল খায়েরের বাসায় গেলে তাকে বাসায় পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কথা না বলে ফোন রেখে দেন। এরপর একাধিকবার তার মোবাইলে ফোন দেয়া হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে প্রতিবেশীদের থেকে জানা যায়, তিনি তাঁর গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ গিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার (১ মে) কাশীপুর হাটখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক আবুল খায়ের এর নামে ছাত্রীদের সঙ্গে অশ্লীল আচরণের অভিযোগ তুলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন মালিহা তাহসিন মিম। তিনি তার স্ট্যাটাসে বলেন, ‘পুরুষ স্কুল শিক্ষকরা ছাত্রীদের সঙ্গে মেসেঞ্জারে বাজে বাজে চ্যাট করছে, বাজে ছবি এবং ভিডিও দিচ্ছে…

ওরা কেমন শিক্ষক?

মেয়েরা এখনো কতোটা নিরাপদ??

শিক্ষক তো অভিভকদের মতো হওয়া উচিত।

সম্প্রতি একটা ঘটনা এই নারায়ণগঞ্জে..

কাশিপুরের অনেকেই এই ঘটনা জানেন…

এমনকি সম্প্রতি সে মারও খাইসে শুনছি

ইনভেস্টিগেট করে দেখুন সত্য কিনা…

আমরা চাইনা কোনো স্কুলের সম্মান এই সমস্ত শিক্ষকদের জন্য নষ্ট হোক…

এমন শিক্ষক নারায়ণগঞ্জের জন্য লজ্জা।’

যদিও মালিহা তার স্ট্যাটাসে কোনো শিক্ষকের নাম উল্লেখ করেননি। কিন্তু পরবর্তীতে ওই ফেসবুক আইডিতে যোগাযোগ করলে তিনি আবুল খায়ের নামে এক শিক্ষকের নাম প্রকাশ করেন।

এর পর থেকেই যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ সম্পর্কিত বিভিন্ন স্ট্যাটাস দেখা যায়। বুধবার (২ মে) উক্ত ঘটনার সত্যতা জানিয়ে এনামুল ফেরদৌস নামের একজন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। তার স্ট্যাটাসটি হুবহু এখানে তুলে ধরা হল।

‘সম্প্রতি আমার স্কুল/ আমাদের স্কুল কাশীপুর হাটখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের আবুল খায়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সত্য।

সে স্কুলের সদ্য প্রাক্তন (এসএসসি) এবং বর্তমান ছাত্রীদের সঙ্গে ইমু, মেসেঞ্জার, কোচিং সেন্টারে এনে পরীক্ষার নাম্বার বাড়িয়ে দেয়ার কথা বলে কুরুচিপূর্ণ ছবি নেয়। তার সুবিধা মতো তার বিছানায় যেতে বাধ্য করে এবং ভিডিও করে রাখে তার ব্যক্তিগত মোবাইল এবং ল্যাপটপে। এই সকল ছবি, ভিডিও দেখায় এবং ভিডিও ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে বার বার শারীরিক সম্পর্ক করতে চায়। এমন একজন ভুক্তভোগী আয়াদের কাছে অভিযোগ করে (এলাকার যুবক)। তার কথার উপর ভিত্তি করেই শিক্ষকের বাড়িতে যাওয়া হয়। অতঃপর শিক্ষকের মোবাইল, ল্যাপটপ ঘেটে ৫/৬ জন শিক্ষার্থীর অশ্লীল ছবি এবং ভিডিও পাই। ঘর তল্লাশি করে যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধির ড্রিংকস, ট্যাবলেট, মেয়েদের বিশেষ সময়ের অন্তবাস। প্রায় ২০ জিবি পর্ণো ভিডিও পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে স্কুলের ২জন শিক্ষক, কাশীপুর সমাজ উন্নয়নের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক খবর পেয়ে ছুটে আসেন এবং তার কৃতকর্মের বিবরণ শুনে হতবাক হন। এ সময় তাদের সামনে সকল তথ্য মুছে ফেলা হয়। পরবর্তী সিদ্ধান্ত আমাদের এলাকার মাননীয় স্কুল কমিটি, প্রধান শিক্ষকের হাতে….

আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।’

বিষেরবাঁশী.কম/ সংবাদদাতা/ হীরা

Categories: অপরাধ ও দুর্নীতি

Leave A Reply

Your email address will not be published.