বুধবার ৪ আশ্বিন, ১৪২৫ ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বুধবার

ইয়াবা বেচে কোটিপতি ‘দানবীর’ দুই ভাই

অনলাইন ডেস্ক: বিভিন্ন মসজিদে দিয়েছেন এসি-ফ্রিজ। মাদ্রাসায়ও চলে দানখয়রাত। তাই এলাকায় পরিচিতি পান ধনাঢ্য ব্যবসায়ী হিসেবে। এলাকাবাসীর কাছ থেকে পেয়েছেন দানবীর খেতাবও। ইয়াবা বিক্রি করে অল্প সময়েই কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া দুই সহোদর তা নিয়ে গর্ববোধও করেন। ১৩ লাখ ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে ধরা খেয়েও তারা নিজেদের কাজ নিয়ে অনুতপ্ত নন। তাদের যুক্তি, কাজ করে খাচ্ছেন। এমন তথ্যই জানিয়েছে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর থানার শ্যামলী আবাসিক এলাকার একটি অভিজাত ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় নগর গোয়েন্দা পুলিশ। সেখান থেকে ১৩ লাখ ইয়াবাসহ আশরাফ আলী ও তার ভাই হাসানকে আটক করা হয়। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার মৃত তৈয়ব আলীর ছেলে আশরাফ আলীকে দেশের একজন শীর্ষস্থানীয় ইয়াবা গডফাদার হিসেবে আখ্যায়িত করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, আশরাফ নিজেই মিয়ানমার গিয়ে ইয়াবা কিনে আনেন। সর্বশেষ ১৩ লাখ ইয়াবার চালানও ইয়াঙ্গুন থেকে নৌপথে চট্টগ্রামে আনা হয়েছে। ফ্ল্যাটে আশরাফের শয়নকক্ষ থেকে ৪ লাখ এবং গ্যারেজে রাখা প্রাইভেটকার থেকে বাকি ৯ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তবে শয়নকক্ষে থাকা ইয়াবার কার্টনগুলো ছিল ভেজা। কারণ কোস্টগার্ডের চোখ ফাঁকি দিতে কার্টনগুলো রশি দিয়ে বেঁধে ট্রলার থেকে পানিতে ফেলা হয়। পরে পানির নিচ দিয়েই সেগুলো আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (পশ্চিম) মইনুল ইসলাম আমাদের সময়কে জানান, ইয়াবার ছোট ছোট প্যাকেট প্রথমে কার্টনে ভরা হয়। তার পর ৭-৮ স্তরের বায়ুনিরোধক র্যাপি দিয়ে মোড়ানো হয়। প্রতিটি কার্টনকে প্রায় ৪০টির
মতো পলিথিনে মোড়ানোর পর সেগুলো রশিতে বেঁধে ট্রলার থেকে পানিতে ফেলা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় প্রতিমাসেই দেশের বাইরে যান আশরাফ। কখনো সিঙ্গাপুর, কখনো থাইল্যান্ড যাওয়ার কথা বলেন। আসলে তিনি যান মিয়ানমারে। সেখান থেকে সরাসরি ইয়াবা নিয়ে আসেন। ওই দেশে যারা ইয়াবা তৈরি করেন, তারা আশরাফকে বাকিতেও মাল দেন। বিক্রির পর হুন্ডির মাধ্যমে সেই টাকা পাঠিয়ে দেন তিনি। ইয়াবা কেনার টাকাও লেনদেন হয় হুন্ডির মাধ্যমে। পাঁচ বছর ধরে একই নিয়মে আশরাফ ব্যবসা করে আসছেন।
সূত্র জানায়, বান্দরবানে থাকতে ছোট ছোট ইয়াবার চালান আনতেন আশরাফ আলী। একবার ধরা পড়ে জেলে যাওয়ার পর পাঁচ বছর আগে চট্টগ্রাম নগরীতে চলে আসেন। এর পর শুরু করেন লাখ লাখ ইয়াবার চালান আনার কাজ।

 

বিষেরবাঁশী.কম/ডেস্ক/নিঃতঃ

Categories: অপরাধ ও দুর্নীতি

Leave A Reply

Your email address will not be published.