শনিবার ৭ আশ্বিন, ১৪২৫ ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ শনিবার

প্রেমিকের সঙ্গে পালালো স্ত্রী, অপমান সইতে না পেরে স্বামীর মৃত্যু

প্রায় এক বছর হয়ে গেছে প্রেমিকের সঙ্গে ঘর ছাড়েন সৌদি প্রবাসী আবদুল কাদেরের (৪৫) স্ত্রী।এ খবর শোনার পর থেকেই সৌদিতে বেশ মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন আবদুল কাদের। পারিবারিক আর সামাজিকভাবে অপমানিত হওয়ায় ভয়ে আর দেশের মাটিতে পা রাখেননি তিনি।

এ ঘটনার প্রায় এক বছর পার হওয়ার পর গত বুধবার বিকালে জেদ্দায় নিজ বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান আবদুল কাদের। নিহত আবদুল কাদের ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার মোকামিয়া গ্রামের মরহুম মৌলভী আবদুস সালামের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের জেদ্দায় ট্যাক্সি চালাতেন। নিহতের রাশেদা আক্তার সুমাইয়া (৭) এবং কাউছার (৫) নামে দুই ছেলে মেয়ে রয়েছে। পাঁচ ভাই চার বোনের মধ্যে কাদের দ্বিতীয়।

নিহতের মামা মো. সেলিম জানান, বুধবার দুপুরে আবদুল কাদের তার মায়ের সঙ্গে নিজ এবং পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন। বিকালেই হার্ট অ্যাটাক করে তিনি মারা যান বলে তার এক বন্ধু বাড়িতে ফোন করে জানিয়েছেন।

তিনি জানান, বেসরকারি মাদ্রাসায় উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে আবদুল কাদের প্রায় ১৮ বছর আগে সৌদি আরব যান। ১৪ বছর আগে উপজেলার উত্তর সতর গ্রামের সালেহ আহমদের মেয়ে কহিনুর আক্তারের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর ৫-৬ বার তিনি দেশে আসা-যাওয়া করেন।

এরই মধ্যে তার স্ত্রী পার্শ্ববর্তী বাড়ির বাচ্চু মিয়ার ছেলে নুরুন্নবীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। গত বছরের ২২ মে তার স্ত্রী কহিনুর আক্তার সন্তান রেখে প্রেমিকের সঙ্গে ঘর ছেড়ে পালিয়ে বিয়ে করেন। সেই থেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন আবদুল কাদের। তিনি সবসময় মোবাইল ফোনে স্বজনদের কাছে হাহুতাশ করতেন। পারিবারিক মানসম্মান এবং অবুঝ সন্তানদের কথা বলে কান্নাকাটি করতেন।

মোকামিয়ার ইউপি সদস্য আবুল হাসেম বলেন, কাদের প্রায় আমাকে ফোন করতেন। বলতেন, স্ত্রী পালিয়ে গেছে – আমি কিভাবে দেশে যাব। এ মুখ কীভাবে আমি মানুষকে দেখাব। ও আমার পরিবারের মানইজ্জত সম্মান সব শেষ করে দিয়েছে। এসব বলে মারাত্মক টেনশন করতেন। ছেলে মেয়েদের দিকে খেয়াল রাখতে আমাকে অনুরোধ করতেন।

আবদুল কাদেরের মা নুরজাহান বেগম বৃহস্পতিবার ছেলের কথা বলতে গিয়ে শোকে কাবু হয়ে পড়েন। তিনি জানান যে, আমার হুত (পুত্র) টেনশনে মরি গেছে। অপমানে মরি গেছে। তিনি আরও বলেন যে, দুপুরের দিকেও তার ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছে। কিন্ত বিকালেই খবর পান যে তার ছেলে আর নেই। ছেলের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা কাম্য করছেন তিনি

বিশেরবাঁশী ডেস্ক/সংবাদদাতা/মিতু

Categories: অপরাধ ও দুর্নীতি

Leave A Reply

Your email address will not be published.